কুলতলী খেয়াঘাটে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের চেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ


প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইজারার চুক্তি ভঙ্গ করে জেলার কালিগঞ্জের কুলতলী খেয়াঘাটে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটি বেড়িবাঁধের পাশে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণশ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজউদ্দিন, মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, আনন্দ গাইন, পঙ্কজ সরকার, দীলিপ সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কাকশিয়ালী নদীর তীরে গোবিন্দকাটি, টোনা বাঁশদহা, ঘোজাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চিংড়ি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। নদীর তলদেশে বাঁশ পুতে স্যাঁকো নির্মাণের ফলে পলি জমে তলদেশ উঁচু হয়ে নদী ভরাট হয়ে যাবে। বন্ধ হবে জোয়ার ভাটা। ফলে মাছ চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই যে কোন মূল্যে নদীর নাব্যতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অথচ ৩০ ফুট গভীর খরস্রোতা ওই নদী মজা(মৃত) দেখিয়ে কুলতলী খেয়াঘাটের ইজারা গ্রহীতা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান সেখানে বাঁশের স্যাঁকো তৈরি করার চেষ্টা করছেন। নিয়ম নীতি উপক্ষো করে তাকে সাঁকো নির্মাণে সহায়তার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আ. ন. ম মঈনুল ইসলাম।

তারা আরো বলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গোবিন্দকাটিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রায় শতভাগ শিক্ষিত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে চোর ডাকাতের উপদ্রব নেই। কুলতলীতে সাঁকো বা সেতু নির্মাণ করা হলে তারালীর ওপার থেকে চোর, ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধীরা সহজে এ এলাকায় ঢুকতে পারবে। ফলে পরিবেশ নষ্ট হবে। তারা কুলতলীতে স্যাঁকো নির্মাণ না করে উজিরপুর ত্রিমোহিনীতে কাঙ্খিত স্যাঁকো নির্মাণের দাবি জানান। তাছাড়া নদীর উপর সাঁকো তৈরির জন্য যে সব বাঁশ পোতা হয়েছে তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে আগামি ১০ জুলাই স্থানীয়রা তা অপসারণ করে ফেলবে। বক্তারা ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে খেয়াঘাটে সাঁকো নির্মাণকারি যুবলীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবির বিষয়টি আগামি ৯ জুলাই দলের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করার বিষয়টি সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেন।

সমাবেশ শেষে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন জানান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীকে ভুল তথ্য দিয়ে খরস্রোতা নদীকে মজা দেখিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরির সহায়তা চেয়েছেন কুলতলী খেয়াঘাটের ইজারাদার। বিষয়টি তিনি প্রধান নির্বাহী ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলা ১৪২৪ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি কুলতলি খেয়াঘাটটি ৫৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় ইজারা নেন জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। ইজারার চুক্তিভঙ্গ করে তিনি সেখানে বাঁশের সাঁকো বানাতে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রামবাসি বাধা দেন মর্মে গত ১৪ এপ্রিল সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় পিটিশন ৭৬১/১৭ নং মামলা করেন। মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বুঝতে পেরে তিনি তড়িঘড়ি করে এক আবেদন করে ১৮ এপ্রিল তা প্রত্যাহার করে নেন। এর পরপরই তিনি যে কোন মূল্যে নদী মজা (মৃত) দেখিয়ে প্রধান নির্বাহীকে ম্যানেজ করে সেখানে বাঁশের সাঁকো তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শুক্রবার ইজারাদারের পক্ষ থেকে যে কোন মূল্যে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। স্থানীয় জনগণ তা প্রতিহত করার জন্য বৃহষ্পতিবার বিকেলে এলাকায় মাইকিং করে শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করেন।

+