সুবিধাবঞ্চিত হাবিবার স্বপ্নের বিয়ে


প্রকাশিত : জুলাই ১৫, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক:এমন ধুমধাম বিয়ের স্বপ্নই দেখে সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা। গোটা আয়োজনে রাজকীয় আমেজ। কোথাও কমতি নেই কোনোকিছুর। সব মিলিয়ে স্বপ্নের বিয়ে হয়ে গেলো সরকারি শিশু পরিবারের অনাথ মেয়ে হাবিবা আক্তারের। শুক্রবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকারিয়া আলমের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে জড়ান তিনি। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডায় সরকারি শিশু পরিবারে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আনন্দময় পরিবেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই হয়েছে হাবিবার বিয়ে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকেই সরকারি শিশু পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দুপুর ২টায় বরের গাড়িবহর কনের আবাসস্থলে এলে পড়ে যায় হৈচৈ। সরকারি শিশু পরিবারে বরকে বরণ করেন অন্তত একশ’ অনাথ শিশু।

বিয়েবাড়িতে বরের প্রবেশের পর বাজানো হয় সানাইয়ের সুর। এর অল্প কিছুক্ষণ পর কনে হাবিবাকে মঞ্চে এনে বসানো হয় বরের পাশে। সেখানেই ২ লাখ ১ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে পড়ান কাজী আবু জামাল। এ সময় ছিলেন কনের বাবার দায়িত্ব নেওয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসন (অর্থ) এম খাইরুল আলমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বরের পক্ষে ছিলেন তার বাবা মো. ফরিদ মিয়াসহ নিকট আত্মীয়রা।

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আজ আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। হাবিবা সুখে থাকুক, এটাই চাই আমরা। ও সুখে থাকলে আমরা খুশি হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম শত শত হাবিবা আছে, তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। সবাই মিলে এগিয়ে এলে সমাজ বদলে যাবে। এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ।’

সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসন (অর্থ) একে এম খাইরুল আলম মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগ থাকলে অনেক ভালো কিছু হয়। হাবিবার বিয়ে সেটাই প্রমাণ করে। হাবিবাদের মতো অন্য যারা আছে সমাজসেবা অধিদফতর তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও ভাবছে বলে তিনি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। শিশু পরিবারের অন্য যারা আছে তাদের বিয়ে-চাকরিসহ সবক্ষেত্রে সরকারের পাশপাশি সমজের বিত্তবানদের দ্বারস্থ হবো।’

বিয়ে অনুষ্ঠানে অনাথ শিশু পরিবারের সদস্য হাবিবার দীর্ঘদিনের সহপাঠী সোনিয়া, সুবর্ণা, নাসরিন, তানজিন জানান, ‘আমরা ভীষণ উৎফুল্ল। এমন জমজমাট বিয়ে দেখবো ভাবতে পারিনি। হাবিবা আপু স্বামীর সংসারে ভালো থাকবে প্রত্যাশা করি।’
পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথাও জানাতে ভোলেননি। তারা বলেন, ‘আমরা অনাথ। আমাদের ভবিষৎ যেন হাবিবা আপার মতো হয়। সরকার ও সমাজের বিশিষ্টজনরা যেন আমাদের জন্য এগিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশা করি।’

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি শিশু পরিবার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল হাবিবার। কিন্তু মায়া কাটাতে পারেননি তিনি। তাই ১০ বছর এই শিশু পরিবারের স্মৃতি কাটিয়ে মামা-মামির কাছে ফিরে যাওয়া হয়নি তার। পরে শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন তার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারের সহায়তায় হাবিবার দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। সবার প্রচেষ্টায় ঠিক হয় তার বিয়ে। সেই বিয়ের পুরো দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নেন এসপি মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার হলুদ অনুষ্ঠানের পর শুক্রবার হয়ে গেলো সেই আলোচিত বিয়ে।