হৃদরোগ বিষয়ক হেলথ টকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা: বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ


প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি। বিশ্বে মানবমৃত্যুর ৪০ শতাংশই হৃদরোগের কারণে হয়ে থােক। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া হলে এই হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।
হৃদরোগ সচেতনতা বিষয়ক এক সচেতনতামূলক ্আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরও বলেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার আগে হৃদেেরাগে আক্রান্ত ২৫ শতাংশ রোগীই মারা যায়। হাসপাতালে এনে দ্রুততার সাথে তার রক্তনালী খুলে দেওয়া গেলে এই মৃত্যু হার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তারা।

শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হৃদরোগ রোগ বিষয়ক এই হেলথ টকের আয়োজন করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ও খুলনার ফরটিস এসকর্টস হাসপাতাল। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. হাবিবুর রহমান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী আরিফ আহমেদ ও ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মামুন ইকবাল।
তারা আরও বলেন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি ধুমপান ত্যাগ করা জরুরি। একই সাথে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
হেলথ টক অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, দক্ষিনের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি , প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান ও মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, সেলিম রেজা মুকুল, ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, মো. আমিনুর রশীদ, আখতারুজ্জামান বাচ্চু, খায়রুল বদিউজ্জামান, ঈষিকা আর্টের আবদুল জলিল, ওয়ারেশ খান চৌধুরী প্রমুখ সাংবাদিক। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী।
হৃদরোগের প্রধান উপসর্গ বুকে ব্যথা একথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ইনজেকশন দিয়ে এবং পিসিআই পদ্ধতিতে রক্তনালী খুলে দেওয়া হলে ৬৫ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী রক্ষা পায়। দক্ষিন এশিয়ায় হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ বংশগত ধারাবাহিকতা। কোনো পরিবারে ৫২ বছরের পুরুষ এবং ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের কোনো নারী মারা গেলে বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তারা বলেন এর নেপথ্য কারণ হৃদরোগ । লাল মাংস খাদ্য তালিকা থেকে বাদ রাখার পরামর্শ দিয়ে তারা আরও বলেন মাংসের মগজ কলিজা ও চামড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবারের সাথে বাড়তি কাঁচা লবণ না খাবার পরামর্শ দিয়ে তারা আরও বলেন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন তিরিশ মিনিটে আড়াই কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস করতে হবে ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। জীবনঘাতি ব্যাধি হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে এই রোগ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। জনবল বৃদ্ধি করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে অচিরেই কার্ডিয়াক ইউনিট ও ক্যাথ ল্যাব গঠন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন পরিমিত খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতন হতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে কখনও নিজের চিকিৎসার দায়ভার নেবেন না বলেও পরামর্শ দেন তিনি।
হেলথ টক অনুষ্ঠানে ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালে ওপেন হার্ট বাই পাস , রিং বসানো , এনজিওপ্লাস্টি, পেস মেকার বসানোসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে ডা. মামুন ইকবাল বলেন দিল্লীর ফরটিস এসকর্টস প্রধান হাসপাতালের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে খুলনায় এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফরটিস হাসপাতালে হৃদরোগে কারও মৃত্যুর আগের ২৪ ঘন্টার চিকিৎসার কোনো অর্থ নেওয়া হয় না এমনকি মৃত ব্যক্তিকে ফরটিসের অ্যাম্বুলেন্সে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নিয়মও রয়েছে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসায় ফরটিস এসকর্টস হাসপাতাল সাধ্যমত আর্থিক ছাড় দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাস , ডিসিম্বর ও মার্চ মাসে চিকিৎসায় স্বল্প খরচে বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে। ডা. মামুন ইকবাল ও ডা. আরিফ আহমেদ হৃদরোগ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তারা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।