সংবাদ সম্মেলনে মীর রিয়াছাত, ১০ নম্বর সেক্টর কমান্ডার নির্বাচন চাই

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনে আমার অবদান রয়েছে। দেশের অগনিত মুক্তিযোদ্ধা একইভাবে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ তাদের প্রাপ্তির খাতা শূন্য এমন দাবি করে নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মীর রিয়াছাত আলি (ক্যাপ্টেন রাজা) বলেন ‘দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ওয়ার মেডেল’ পুরস্কার দিতে হবে’। তিনি বলেন একই সাথে মুক্তিযুদ্ধে ১০ নম্বর সেক্টর কমান্ডার নির্বাচন এবং সকল বাহিনীর সাধারন মুক্তিযোদ্ধাকে খোদাইকৃত নাম ও পদক প্রদান করতে হবে’।
শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সাতক্ষীরার মীর রিয়াছাত আলি (লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৪০৪০১০১৭৭, কল্যাণ ট্রাস্ট নম্বর ৪৫৩৭০, খন্ড ৬)।
তিনি বলেন ১৯৬৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে ভর্তি হয়ে করাচি যান। প্রশিক্ষন শেষ করে রান অব কাচ এবং ১৯৬৫ এর ৬ সেপ্টেম্বর পাক ভারত যুদ্ধে অংশ নিয়ে ওয়ার মেডেল লাভ করেন তিনি। এরপর সোমালিয়ায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর ভাষনে উজ্জীবিত হয়ে পালিয়ে ১৭ মার্চ ঢাকা আসেন তিনি। পরে সাতক্ষীরার ভোমরার যুদ্ধে অনেকের মতো তিনি ও বিডিআর সুবেদার আইয়ুব আলি অংশ নেন। বীরত্বের সাথে সাতক্ষীরার ন্যাশনাল ব্যাংক অপারেশন করে পাঞ্জাবি এসডিওকে বন্দী করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন এর আগে যশোর ক্যান্টনমেন্টে অপারেশনে অংশ নেন তিনি ও বিডিআর সুবেদার আইয়ুব আলি। ভোমরায় পাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ন যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে মীর রিয়াছাত বলেন এর পর নৌ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদ পেয়ে তার নেতৃত্বে বসিরহাট হাসনাবাদে নৌ ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। এ সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারের মাধ্যমে দেশের সকল নৌ বাহিনী সদস্যকে বসিরহাট নৌ ঘাঁটিতে রিপোর্ট করার প্রচার দেন। তিনি বলেন পরে বটিয়াঘাটা অপারেশন ও তারও পরে মোংলায় ৬ টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযানে অংশ নেন তিনি ও তার বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর সেম সাইড হিসাবে পদ্মা ও পলাশ ডুবে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন ১৭ ডিসেম্বর গান বোট নিয়ে নৌ বাহিনী ঘাঁটি তিতুমীর দখল এবং ২৬ ডিসেম্বর জেনারেল ওসমানির নির্দেশে ঢাকার ২৭ মিন্টো রোডে ২৭ এনএইচকিউ খোলা হয়।
তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যারা এভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদেরকে ওয়ার মেডাল ও খোদাইকৃত নাম পদক দেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আানিজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এড. ইউনুস আলি।