৫৭ ধারায় মামলা করায় সুব্রতকে শোকজ

 

যশোর প্রতিনিধি২: সুব্রত ফৌজদারযশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত ফৌজদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা না বলে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ৫৭ ধারায় মামলা করার কারণে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকালে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান দৈনিক স্পন্দনের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ।

শিকদার খালিদ বলেন, ‘অফিসের সঙ্গে আলোচনা না করে স্পর্শকাতর ইস্যুতে পদক্ষেপ নিয়েছেন সুব্রত। এ বিষয়ে তিনি পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করলেও অফিসের অনুমতি নেননি। তাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জবাব পাঠাতে বলা হয়েছে।’ সুব্রত ফৌজদার আড়াই বছর ধরে দৈনিক স্পন্দনে কাজ করছেন বলে জানান খালিদ।

উল্লেখ্য গত ২৯ জুলাই খুলনার ডুমুরিয়ায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগী ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এর পর ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’-ফেসবুকে এই পোস্ট দেন দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি আবদুল লতিফ মোড়ল। এই ঘটনায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় লতিফের বিরুদ্ধে মামলা করেন সুব্রত ফৌজদার। ৩১ জুলাই মামলার পর ওই দিনই মধ্যরাতে বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে তুলে লতিফকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২ আগস্ট) তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মামলার বিষয়ে সুব্রত ফৌজদার বলেন, ‘ছাগলের মৃত্যু তো বড় বিষয় নয়। ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে মন্ত্রীর একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। মৃত ছাগলের ছবি দেওয়া যেত। ছাগলের মালিকের ছবি দেওয়া যেত। কিন্তু মন্ত্রীর ছবি কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আঘাতের জায়গা হলো মন্ত্রী স্যারের সম্মান। ডুমুরিয়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী ছাগল বিতরণ করেছেন। কিন্তু ছাগলতো তিনি আনেননি। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এফসিডিআই প্রকল্পের ছাগল বিতরণ করেছে। ছাগল কিনেছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। সেই ছাগল একটি মরিছে সত্য। কিন্তু তার কী দোষ।’

৫৭ ধারায় মামলা নেওয়ায় ডুমুরিয়ার ওসি প্রত্যাহার

 

খুলনা প্রতিনিধি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্তকারী খুলনার ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

ডুমুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা ওসি সুকুমার বিশ্বাসখুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘৫৭ ধারায় মামলা নথিভূক্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. সজীব খানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টের স্পর্শকাতর মামলা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নথিভুক্ত করতে হবে। কিন্তু সাংবাদিক আ. লতিফ মোড়লের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া যথযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

এর আগে, এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত বিষয়টি ফেসবুকে দিয়েছেন লতিফ। এতে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন বাদী। মামলার পর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়।’

প্রসঙ্গত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিতরণকৃত ছাগলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল ফেসবুকে একটি পোস্টে শেয়ার করায় অপর এক সাংবাদিক সুব্রত ফৌজদার ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে বুধবার খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত শুনানি শেষে তার জামিন দেন।

আমার মুছে ফেলা পোস্ট সংরক্ষণ করে কেউ মামলা করবে চিন্তাও করিনি’

খুলনা প্রতিনিধি: ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’-ফেসবুকে এই পোস্ট দিয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় গ্রেফতার খুলনার সংবাদিক আবদুল লতিফ মোড়ল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এত ছোট একটি ঘটনা থেকে এত কিছু হবে বুঝতে পারিনি। বিতর্ক শুরুর পরই পোস্টটি মুছে ফেলেছিলাম। কেউ সেটা সংরক্ষণ করে মামলা করবে চিন্তাও করতে পারিনি।’

লতিফ খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি। তার পক্ষে লেখালেখির জন্য লতিফ কারাগার থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

গত গত ২৯ জুলাই খুলনার ডুমুরিয়ায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এরপর দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি আ. লতিফ মোড়ল ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’ লিখে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় ৩১ জুলাই মামলা করেন খুলনার স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ফৌজদার। সোমবার (৩১ জুলাই) মধ্যরাতেই বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে তুলে লতিফকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এই মামলায় আ. লতিফকে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ (বুধবার) তিনি জামিন পেয়েছেন। খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবীন শুনানি শেষে বুধবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তার অন্তর্বর্তীকালীন এ জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

বাদী সুব্রত ফৌজদার বলেন, ‘ছাগলের মৃত্যুতো বড় বিষয় নয়। ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে মন্ত্রীর একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। মৃত ছাগলের ছবি দেওয়া যেত। ছাগলের মালিকের ছবি দেওয়া যেত। কিন্তু মন্ত্রীর ছবি কেন? এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি মামলা দায়ের করেছি।’

কলারোয়া খোরদো বাজারে ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেলুন ঘরে

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজারে ইঞ্জিন চালিত ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেলুনের দোকান ঘরে ঢুকে পড়লো।

বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে খোরদো বাজারের মটর সাইকেল স্ট্যান্ডের মোড় ঘুরতে গিয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- একটি দ্রুতগতির ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খোরদো বাজারের মিজানুর রহমানের স্টাইল সেলুনের দোকানের সাটার ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে। এসময় সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ওই দূর্ঘটনায় ট্রলি ড্রাইভার ছলিমপুর গ্রামের আ.সামাদের পুত্র আ.সাত্তার (৩৮) সামান্য আহত হন। সেলুন ঘরের সার্টার দুমড়ে চুমড়ে যায়। ওই সময় সেলুনের দোকানে কর্মচারীসহ কাস্টমার ছিলেন বলে জানান দোকানের মালিক মিজানুর রহমান। তবে তারা কেউ আহত হননি।

মরা ছাগল খালে, সাংবাদিক ৫৭ ধারার জালে

পত্রদূত ডেস্ক: সেই মরা ছাগল‘জ্যান্ত ছাগলের চেয়ে মরা ছাগলের কত শক্তি! জীবিত অবস্থায় ছাগলের জন্য ওষুধ পাওয়াই ছিল দায়। রোগাক্রান্ত ছোট্ট একটি ছাগল বাড়িতে আনার দিনই রাতে মরে গেল। জ্যান্ত ছাগল দেখতে প্রতিবেশীরাও আসেনি। চাচারও খোঁজ নেয়নি। মরার পর তা হলো আলোচিত খবর। মরা ছাগল ফেললাম পাশের এই খালে। পরদিন জানলাম, ওই ছাগল নিয়ে লিখে সাংবাদিক জেলে গেল।’ এই কথাগুলো বলছিলেন ডুমুরিয়ায় আলোচিত মৃত ছাগলের মালিক জুলফিকার আলী ঢালীর ভাতিজি আফসানা।

বুধবার (২ আগস্ট) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ ডুমুরিয়ার ঝিলেরডাঙ্গা খা পাড়ায় জুলফিকারের বাড়িতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

আফসানা মরা ছাগলের তুলে রাখা একটি ছবি দেখান। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ছাগল মরার এ খবর সাংবাদিকরে দিলো কে? ছাগল পাওয়ার খবর তো তারা দেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বাড়ির এই বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া ওই খালেই পরদিন সকালে ছাগলটি ফেলে দেওয়া হয়। এর আগে ছাগল মরার খবর পেয়ে পশু হাসপাতালের লোকজন এসে দেখে যায়।’

 

ডুমুরিয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘রোগাক্রান্ত ছাগলটিকে এখান থেকেই ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২৯ জুলাই রাতে সেটি মারা যায়। ৩০ জুলাই সকালে ভ্যাটেরেনারি চিকিৎসক সেখানে যান এবং মরা ছাগলটি দেখে আসেন। এরপর জুলফিকারের পরিবারের লোকজন ছাগলটিকে পাশের খালে ফেলে দেয়। যদিও ছাগলটিকে মাটি চাপা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।’

ডুমুরিয়ার ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এক ছাগল নিয়ে এত বড় ঘটনা হতে পারে ভাবাই যায় না। বিশ্বজুড়েই আজ মরা ছাগল ও লতিফ সাংবাদিক নিয়ে আলোচনা!’

স্থানীয় বাসিন্দা মিল্টন শেখ বলেন, ‘ছাগল নিয়ে নিজেদের মধ্যে এমন কাণ্ড হওয়া অনুচিৎ।’ তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।

ডুমুরিয়ার সাংবাদিক এম এরশাদ বলেন, ‘লতিফের গ্রেফতার হওয়া উপজেলাবাসী মেনে নিতে পারছে না। লতিফের পক্ষে প্রতিবাদ ও নিন্দা কর্মসূচি পালনের প্রক্রিয়া চলছে। লতিফকে রাতে থানায় নেওয়ার পর সকালে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে থানায় যান। কিন্তু পুলিশ সেখানে কলাপসিবল গেট আটকে রেখে সাক্ষাতে বাধা দেয়। নাস্তা পর্যন্ত করাতে দিতে চায়নি।’

তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি ডুমুরিয়ায় ছাগল ও হাঁস মুরগি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলাম। টোকেন হিসেবে একটি ছাগল বিতরণও করেছি। তবে যে ছাগলটি বিতরণ করেছি, সেই ছাগলটি মরে নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর এই ছাগল নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আমার কোনও সম্পর্ক নাই। যিনি মামলা করেছেন তিনিও একজন সাংবাদিক।’
সুব্রত ফৌজদার
বাদী সুব্রত ফৌজদার বলেন,‘ ছাগলের মৃত্যু তো বড় বিষয় নয়। ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে মন্ত্রীর একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। মৃত ছাগলের ছবি দেওয়া যেত। ছাগলের মালিকের ছবি দেওয়া যেত। কিন্তু মন্ত্রীর ছবি কেন? এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি মামলা দায়ের করেছি।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই খুলনার ডুমুরিয়ায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এরপর দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি আ. লতিফ মোড়ল ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’ লিখে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় ৩১ জুলাই মামলা করেন খুলনার স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ফৌজদার। এরপর সোমবার (৩১ জুলাই) মধ্যরাতেই বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে তুলে লতিফকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এই মামলায় আ. লতিফকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আজ (বুধবার) তিনি জামিন পেয়েছেন। মন্ত্রীসহ এই তিন জনের বাড়িই ডুমুরিয়ায়।

খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবিন শুনানি শেষে বুধবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তার অন্তর্বর্তীকালীন এ জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। আ. লতিফের পক্ষের আইনজীবী ১০ হাজার টাকার বন্ড প্রদানের মাধ্যমে তা মঞ্জুর হয়। আদেশে এ মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিক আব্দুল লতিফের পক্ষের আইনজীবী মতিয়ার রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার আব্দুল লতিফকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালতে শুনানির মাধ্যমে তার জামিন আদেশ নেওয়া হয়েছে। এ আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পরই তিনি মুক্ত হবেন।’

৫৭ ধারার মামলায় জামিন পেলেন সাংবাদিক আব্দুল লতিফ

 

খুলনা প্রতিনিধি: তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার মামলায় খুলনায় সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবিন শুনানি শেষে বুধবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তার এ জামিন মঞ্জুর আদেশ দেন।

সাংবাদিক লতিফের পক্ষে তার আইনজীবী ১০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেন আদালতে। আদেশে বলা হয়, এ মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন বহাল থাকবে।

৩১ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিক লতিফকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

সাংবাদিক আব্দুল লতিফের পক্ষের আইনজীবী মতিয়ার রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার আব্দুল লতিফকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তার অনুপস্থিতিতে শুনানির শেষে জামিন আদেশ নেওয়া হয়েছে। এ আদেশের কপি কারাগারে যাওয়ার পরই সে মুক্ত হবে।

প্রসঙ্গত, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিতরণকৃত ছাগলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে প্রতিমন্ত্রীর পাসপোর্ট ছবি ব্যবহার করার কারণে অপর এক সাংবাদিক সুব্রত ফৌজদার এ মামলাটি দায়ের করেন।

সাংবাদিক লাতিফকে গ্রেফতারের ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি তার নিজ এলাকা ডুমুরিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের (এফসিডিআই) আওতায় কয়েকজন দুস্থের মাঝে হাঁস,মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। জুলফিকার আলী নামে দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির পাওয়া ছাগল ওইদিন রাতেই মারা যায়। যা বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় ফেসবুকে একটি পোস্ট করার অভিযোগে লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন সুব্রত ফৌজদার।

এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস বলেন,প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত বিষয়টি ফেসবুকে দিয়েছেন লতিফ। এতে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন বাদী।

ওসি বলেন,মামলার সঙ্গে কিছু নথি জমা দিয়েছেন বাদী। তার জমা দেওয়া নথিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ফেসবুকে দেওয়ার আলামত রয়েছে। মামলার পর প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সাংবাদিক লতিফকে গ্রেফতার করা হয়।

আমার দেওয়া ছাগল মরে নাই: নারায়ণ চন্দ্র চন্দ

 

পত্রদূত ডেস্ক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, ‘আমি ডুমুরিয়ায় ছাগল ও হাঁস মুরগি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলাম। টোকেন হিসেবে একটি ছাগল বিতরণও করেছি। তবে যে ছাগলটি বিতরণ করেছি, সেই ছাগলটি মরে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর এই ছাগল নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আমার কোনও সম্পর্ক নাই। যিনি মামলা করেছেন তিনিও একজন সাংবাদিক।’

গত ২৯ জুলাই খুলনার ডুমুরিয়ায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এরপর দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি আ. লতিফ মোড়ল ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় ৩১ জুলাই মামলা করেন খুলনার স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত কুমার ফৌজদার। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এই মামলায় আ. লতিফকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আজ (বুধবার) তিনি জামিন পেয়েছেন। মন্ত্রীসহ এই তিন জনের বাড়িই ডুমুরিয়ায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ আমি স্ট্যাটাসটি দেখিনি। খবরটিও দেখিনি। তাই আমার মানহানি হয়েছে কী হয় নাই, তা বলতে পারবো না। যে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেছে তাকে জিজ্ঞেস করেন।’

বাদী আপনার সঙ্গে কথা বলার পর মামলা করেছেন, বাদীর এই দাবির জবাবে তিনি বলেন,‘ আমার সঙ্গে কথা বলে তিনি মামলা করেননি। আমার সঙ্গে এনিয়ে তার কোনও কথা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। আমি টোকেন হিসেবে একটি ছাগল দিয়ে চলে যাই। পরে শুনেছি বিতরণ করা ছাগলের মধ্যে একটি ছাগল মারা গেছে। তবে আমি যে ছাগলটি দিয়েছি, সেটা মারা যায়নি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ পরে আমি ডুমুরিয়া থানার ওসির কাছ থেকে জেনেছি, ওই অনুষ্ঠানের কোনও ছবি না দিয়ে আমার একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়ে ছাগল মরার নিউজটি দেওয়া হয়েছে। নিউজ করলেতো অনুষ্ঠানের ছবি দিয়ে নিউজ করবে। ইন্টেনশনালি হেয় করার জন্য এটা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ যারা সাংবাদিক তাদেরও মানুষকে একটু মর্যাদা দিতে হবে। পরস্পরের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধা থাকতে হবে। আমরা আপনাদের থেকে ভিন্ন নই। আপনারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখেন, সমালোচনা করবেন তবেই না আমরা পারফেক্ট হবো।’

অভিযানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল বারীসহ আটক-৫৩

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল বারীসহ ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক মাওলানা আব্দুল বারীর বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামে। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আলীকেও আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তাদেও বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটককৃতদেও মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ৩১ জন, কলারোয়া থানা ৪ জন, তালা থানা ৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ২ জন, শ্যামনগর থানা ৩ জন, আশাশুনি থানা ৬ জন, দেবহাটা থানা ২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

কালিগঞ্জে বজ্রপাতে এক মৎস্য ঘের মালিক নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বজ্রপাতে এক মৎস্য ঘের মালিক নিহত হযেছে। নিহত ঘের মালিকের নাম আব্দুল হালিম (৫৫)। তিনি দেবহাটা উপজেলার পদ্মশাখরা গ্রামের জুড়োন সরদারের ছেলে। বুধবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের কুকোডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত আব্দুল হালিম কালিগঞ্জ উপজেলার কুকোডাঙ্গা গ্রামে শশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে একটি মৎস্য ঘের করতেন। সকালে তিনি তার মৎস্য ঘেরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আকস্মি‹ক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লস্কর জায়াদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘ছাগল মরিছে সত্য, মন্ত্রীর কী দোষ’(অডিও)

 

পত্রদূত ডেস্ক: ‘আমার আঘাতের জায়গা হলো মন্ত্রী স্যারের সম্মান। ডুমুরিয়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী ছাগল বিতরণ করেছেন। কিন্তু ছাগলতো তিনি আনেননি। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এফসিডিআই প্রকল্পের ছাগল বিতরণ করেছে। ছাগল কিনেছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। সেই ছাগল একটি মরিছে সত্য। কিন্তু তার কী দোষ।’

এসব কথা বলেছেন খুলনার স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত ফৌজদার। তার দায়ের করা প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয় দৈনিক প্রবাহের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি আ. লতিফ মোড়লকে। ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগল রাতে মৃত্যু’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করা হয় ৩১ জুলাই।

সুব্রত ফৌজদার বলেন,‘ ছাগলের মৃত্যুতো বড় বিষয় নয়। ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে মন্ত্রীর একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। মৃত ছাগলের ছবি দেওয়া যেত। ছাগলের মালিকের ছবি দেওয়া যেত। কিন্তু মন্ত্রীর ছবি কেন?’

গত ২৯ জুলাই খুলনার ডুমুরিয়ায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কিছু পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগী ও ছাগল বিতরণ করে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তার বাড়িও ডুমুরিয়ায়।

সুব্রত ফৌজদার বলেন, ‘২৪-২৫টি ছাগল বিতরণ করা হয়। আর তারমধ্যে একটি ছাগল রাতে মারা যায়। ছাগল মারা গেছে সত্য। কিন্তু ওই ছাগলতো মন্ত্রী দেন নাই। আর মন্ত্রী সব ছাগল বিতরণও করেন নাই। একটি ছাগল দিয়ে তিনি চলে যান। তিনি যে ছাগলটি বিতরণ করেছেন সেটি মারা যায়নি।’

তার দাবি,‘ মন্ত্রীকে হেয় করার জন্য তার ছবি দিয়ে ছাগল মরার ওই স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। এলাকায় মন্ত্রী অনেক উন্নয়ন করেছেন। সেগুলো তারা দেখে না। সব কিছুকেই নেগেটিভ দেখে। আর স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ব্রেকিং নিউজও দিয়েছে।’

একই এলাকায় বাড়ি, দু’জনই সাংবাদিক , একই এলাকায় সাংবাদিকতা করেন তারপরও ৫৭ ধারায় কেন মামলা করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী বলেন,‘ ‘মামলার পর তাকে জেলে নেওয়ায় এখন আমাকে সবাই নিন্দা করছে। আমিও লজ্জার মধ্যে পড়ে গেছি। তখন এত ভাবিনি। মন্ত্রী স্যারকে বলেছিলাম, স্যার এর একটা বিহিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের যা ভালো মনে হয় করো।’ তিনি সরাসরি মামলা করতে বলেনি। কিন্তু স্যারের সম্মান রক্ষায় মামলা করেছি।’’

আ. লতিফ মোড়লের সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে কিনা জানতে চাইলে সুব্রত ফৌজদার বলেন,‘ প্রেসক্লাবে গ্রুপিং আছে। আমরা দুইজন দুই গ্রুপের সদস্য। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। আমি ব্যক্তিগত কোনও কারণে মামলা করিনি। শুধু স্যারের সম্মানের জন্য মামলা করেছি।’

৫৭ ধারার মামলায় ছাগল নিয়ে তোলপাড়

 

পত্রদূত ডেস্ক: ‘আমরা আসলে একটা ম্যাজিক রিয়েলিজমের যুগে বাস করছি। ছাগলের মৃত্যুর ওপর নির্ভর করছে মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের সম্মান! ভবিষ্যতে এ মামলা শতাব্দীর সেরা তামাশার যুগ হিসেবে আমাদের যুগকে চিহ্নিত করবে- এই আশঙ্কা করছি।’ মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

রবিবার (৩০ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিতরণ করা ছাগলের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়। পরে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন আরিফ জেবতিক। শুধু আরিফ জেবতিক নয়; এমন স্ট্যাটাস দিয়েছেন দেশের আরও অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী। জালাধি রায় নামের অন্য এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মানুষের সম্মান আর ছাগলের প্রাণ, আহা, কী কায়দায় একত্রে মিলিয়া গেল।’

লেখক মইনুল আহসান সাবের এ ব্যাপারে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাগলটা যদি জানত, ৫৭ ধারা এরকম, ও হয়তো না মরে আত্মহত্যা করত।’

 

সাংবাদিক ও লেখক হাসান শান্তনু লেখেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত খবর ফেসবুকে শেয়ারের কারণে এক সাংবাদিককে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই সাংবাদিকের নাম আব্দুল লতিফ মোড়ল, তিনি খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় কর্মরত। তাকে গ্রেফতারের বিশেষ কারণ, পুলিশ মনে করে- প্রতিমন্ত্রীর ছাগলও অমরণশীল! প্রতিমন্ত্রীর ছবি ছাড়া শুধু ছাগলের ছবি দেওয়ায় এ গোত্রের প্রাণীদের অপমান করা হয়েছে।’

সংস্কৃতি কর্মী নুহু আব্দুলাহ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘খোদ ভগবানরাও ভুল করেছেন। ভুল করে নিজের সন্তানের মস্তক ছিন্ন করেছেন। এমনকি, সবচেয়ে ব

ড় দেবতাও। অথচ আমরা মানুষরা এখন এমন ভান করি যেন আমরা ভুল করতেই পারি না! তাই কেউ ভুল ধরিয়ে দিতে এলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করি! আর এ নীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্রের নাম ৫৭ ধারা! মানুষরা সাবধান! কারণ, যারা এ অস্ত্র ব্যবহার করছেন, তারা ভুল করেন না।

তারা নিশ্চয় দেবতার চেয়েও বড় দেবতা!’

 

সাংবাদিক এমদাদুল সুমন লিখেছেন, ‘মরছে ছাগল আর মানহানি হইছে তোর নেতার! তোর নেতা কি ছাগল নাকি।’ এইআর বিপ্লব নামে একজন লিখেছেন, ‘ছাগল, ৫৭ ধারাকে ভয় কর।’

খুলনার স্থানীয় সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম ডালিম লেখেন, ‘এরা সাংবাদিক নামের দালাল। সকলে মিলে প্রতিহত করা উচিত।’ এ ব্যাপারে ফেসবুকে মুহাম্মদ নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির অভিমত, ‘যেসব সাংবাদিক এখনও ৫৭ ধারার পক্ষে আছেন, তাদের পরিপক্কতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, কী বলেন বন্ধুরা।’

শামসুজ্জামান শাহিন নামে একজন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ‘সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলাকারী সুব্রত ফৌজদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে স্পন্দন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।’ এ ব্যাপারে এমএম মাহবুবুর রহমান নামে একজন লেখেন, ‘ওর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

 

এদিকে, বিবিসি বাংলাকে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তার মানহানি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তার ভাষ্য, ‘সেটা আমি মনে করি না। আমার কাজ ঠিক থাকলে এতে কিছু আসে যায় না। আমি তো সবগুলি ছাগল দেই নাই। আমি যেটা দিয়েছি সেটা মারা যায় নাই। মারা গেছে অন্য একটা ছাগল।’

 

প্রসঙ্গত, শনিবার (২৯ জুলাই) সকালে খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে কয়েকটি পরিবারের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করা হয়। সেসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সকালে ছাগল বিতরণের পর রাতে একটি ছাগল মারা যায়। পরের দিন এ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সাংবাদিক লতিফ মোড়ল তার ফেসবুক পেজে ‘প্রতিমন্ত্রীর সকালে বিতরণ করা ছাগলের রাতে মৃত্যু’ লিখে একটি পোস্ট দেন। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করায় মন্ত্রীর মানহানি হয়েছে বলে দাবি করে লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে মামলা করেন আরেকজন স্থানীয় সাংবাদিক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত ফৌজদার। এরপর আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারেও পাঠানো হয়।

কালিগঞ্জে যাত্রীবাহি বাস উল্টে পাঁচজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আহত-২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যাত্রীবাহি বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে পাঁচজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ২০জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল সোয়া ৯টার তিকে সাতক্ষীরা- শ্যামনগর সড়কের কালিগঞ্জ উপজেলার পাওখালি নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, অগ্রণী ব্য্ংাকের সাতক্ষীরার শ্যামনগর শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরের রেজাউল করিমের ছেলে এনামুল তারেক(৩৬), একই অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার কালিগঞ্জ উপজেলার বালাপোতা গ্রামের হরিদাস সরকারের ছেলে প্রবীর সরকার(৩৫), একই শাখার সিনিয়র অফিসার কালিগঞ্জ উপজেলার চরদাহ গ্রামের মোতাহার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৭), একই শাখার কর্মকতা দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের আব্দার রহমানের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক (৩৫),একই শাখার সিনিয়র অফিসার সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরের চাঁন্দানি দালালের ছেলে মফিজুল ইসলাম(৫৬), শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর স্কুল এ- কলেজের সহকারি শিক্ষক কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে শেখ মাহমুদ আলী(৪০), কালিগঞ্জের মৌতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা কালিগঞ্জ উপজেলার মহৎপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন(৩৫), একই উপজেলার জাফরপুর গ্রামের সাধুচরন ম-লের স্ত্রী তারাময়ী ম-ল (৫৬), প্রবাজপুর গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি গ্রামের আব্দুল বারির স্ত্রী হোসনে আরা পারভিন(৫৫),একই উপজেলার কাশিমাড়ি গ্রামের তাহের আলীর স্ত্রী ছায়রা খাতুৃন(৬০),একই গ্রামের ফজর আলীর স্ত্রী শুকমনি খাতুন(৬০)।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছায়রা খাতুন জানান, তিনি দেবহাটা উপজেলার গাজিরহাটের মেয়ে সফুরার বাড়ি থেকে সকালে নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকাল ৯টার দিকে কালিগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে যশোর-ব-১৩৫৫ নং বাসে ওঠেন। গাড়িটি শ্যানগরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর সোয়া নয়টার দিকে কালিগঞ্জের পাওখালি নামকস্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসকে পাশ কাটাতে যেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাম দিকের মাঠে উল্টে যায়। এতে তিনিসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১২জনকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ তৈয়বুর রহমান জানান, আহত ১২ জনের মধ্যে হোসনে আরা নামের এক মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। আহত যাত্রীদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করনা হয়েছে।

কালিগঞ্জে বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের কুকুডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে আব্দুল হালিম (৫৫) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দেবহাটা উপজেলার পদ্মশাখরা গ্রামের জুড়োন সরদারের পুত্র।
৪ সন্তানের জনক আব্দুল হালিম কালিগঞ্জের কুকুডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুর এসহাক আলীর বড়ীতে (ঘর জামাই) দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছিলেন। ২ আগস্ট সকাল ৭ টায় শ্বশুর বাড়ি থেকে কাজের উদ্দ্যেশে পার্শ্ববর্তি কুকুডাঙ্গা ঘেরে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বুধহাটায় মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন

বুধহাটা (আশাশুনি) প্রতিনিধি: আশাশুনির বুধহাটায় মটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে তোবারেক হোসেন (মোরগ) ৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আলতাফ হোসেন (আনারস) পেয়েছে ২২ ভোট। ইতোপূর্বে সভাপতি পদে শুধুমাত্র আবুল কালাম মনোনয়ন জমা দেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বচিত হন। নির্বাচন পরিচালনা করেন, ইউপি সদস্য রেজওয়ান আলী ও ই-সেবা উদ্যোক্তা আবু বিল্লাল হোসেন। শুরুতেই বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আ ব ম মোছাদ্দেক নির্বাচন পর্যবেক্ষন করেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকী পদ সমূহ নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক আােলাচনান্তে মনোনিত করবেন বলে মটর শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানাগেছে।

বেউলায় চুরির অভিযোগে একজন আটক

আশাশুনির বেউলায় গভীর রাতে চুরি করার সময় মালিকের হাতে-নাতে ধরা পড়েছে একরাম নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবগত গভীর রাতে উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামে। জানাগেছে, ওই গ্রামের জনৈক আলী হোসেন সরদারের পৌত্র সোহাগ সম্প্রতি একটি স্যামসং গ্যালাক্সি মোবাইল ক্রয় করে। ঘটনার রাতে পার্শ্ববর্তী পদ্ম-বেউলা গ্রামের রাফিকুল ইসলামের পুত্র নারী অপহরণ মামলার আসামী হাফেজ একরা হোসেন (২১) জানালা দিয়ে চুরি করে মোবাইল সেট নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে চোর চোর বলে চিৎকার দিলে ছিচকে চোর একরাম ভো-দোড় দিয়ে পার্শ্ববর্তী আম বাগানে পালায়। বাড়ির লোকজন তার পিছ নিয়ে বাগান থেকে তাকে মোবাইলসহ আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ সানা ও শীষ মোহাম্মদ জেরীর নিকট হস্তান্তর করে। অবশেষে বাবলু চৌকিদারকে ডেকে আবারও উত্তম-মধ্যম শেষে মচলেকা নিয়ে এ যাত্রায় ছেড়ে দেয়া হয়।