আশাশুনিতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৯


প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০১৭ ||

আশাশুনির বিভিন্ন স্থানে পৃথক মারপিটে প্রতিপক্ষের ২ গৃহবধূসহ ৯ জন জখম হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের কামালকাঠি গ্রামের মৃত খুদিরাম সরকারের পুত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকার (৫৭) নিজ চিংড়ি ঘেরের বেড়িবাধ টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেড়িবাধ সংস্কার করতে গেলে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত ভরতচন্দ্র সরকারের পুত্র মনিন্দ্রনাথ সরকার বাঁধা দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ মনিন্দ্র নাথ যোগীন্দ্রকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকলে যোগীন্দ্র সরকার বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় মেম্বর উদয় কান্তি বাছাড়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে তার পথ রোধ করে। তাকে আটক করে মনিন্দ্রের নেতৃত্বে অমৃত কুমার সরকার (৩০), গৌরী রানী সরকার (৪৮), দেবহাটা উপজেলার ভাড়াটিয়া রাঙাশিষা গ্রামের বিধান চন্দ্র বাছাড় (৫২), পাগল চন্দ্র বাছাড় (৫৮), মুকুন্দ্র বাছাড় (২৮) ও দীলিপ চন্দ্র বাছাড় (২২) সহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাপাতাড়িভাবে পিটাতে থাকে। তার ডাকচিৎকারে পুত্র সুখপদ (৩৬), ঘের কর্মচারী সঞ্জয় মন্ডল (৫০) ও বৌমা স্বপ্না রানী (৩২) ঘটনা স্থলে পৌছালে তাদেরকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আহতদের আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগীন্দ্র নাথ সরকার বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে আশাশুনি থানায় ০৫ (০৮) ১৭ নং মামলা দায়ের করেছেন।
এ দিকে উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপসন্ডা গ্রামের ইউসুফ আলী সরদারের পুত্র মফিজুল ইসলাম (৩২) এর সাথে একই গ্রামের সুন্দর আলী মোড়ল এর পুত্র রমজান আলী মোড়লের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ইউসুফ আলীর স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৪৫) সাতক্ষীরা ভাইয়ের বাড়ি হতে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটকিয়ে কাপসন্ডা ও পারিশামারিয়া মধ্যবর্তী রাস্তায় পৌছানো মাত্র রমজান আলী মোড়লের নেতৃত্বে আছাদুল (৩০), শাকিল (২৩), জহুরুল খাঁ (৪৫), সৈয়দ আলী (৪৮), ছাত্তার (৪৫), পিরোজপুর গ্রামের আমিনুর (২৫) সহ আরও ২/৩ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে জখম করে। আহত পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষরা মামলা মকদ্দমা না করার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনা স্থল ত্যাগ করে। আহত আম্বিয়াকে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় তার পুত্র মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছে।
অপরদিকে, উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের পুত্র অলিউল ইসলাম (৪৭) এর সাথে একই গ্রামের মৃত ওহাব সরদারের পুত্র আবুজার গেফারী ডালিম (৩০) এর সাথে হারির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে ডালিম সরদার (৩০), আবুল কাশেম (৩৫), হাবিবুর রহমান (৩৫) সহ ৪/৫ জন দলব্ধ হয়ে রবিউল ইসলাম (৩০), আলাউল ইসলাম (৪০), অলিউল ইসলাম (৪৭) মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তাদেরকে আটকিয়ে পরিকল্পিতভাবে লাঠি-সোটা নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্ল্যেখ করে আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।