পত্রদূত’র সাথে দেবহাটার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী মুজিবর রহমানের মতবিনিময়


প্রকাশিত : আগস্ট ১২, ২০১৭ ||

দেবহাটা ব্যুরো: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে দৈনিক পত্রদূতের সাথে মতবিনিময় করেছেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গনি। মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি তথা কোন দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। তাই উন্নতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শিক্ষা। আর শিক্ষা গ্রহনের কয়েকটি স্তর হচ্ছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক সহ অন্যান্য। এ সবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হল প্রাথমিক স্তর। প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে যদি এক জন শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে গড়ে তোলা যায় তাহলে শিক্ষার ভীত মজবুত হয় এবং সে ভবিষ্যতে উন্নতি লাভ করতে পারে। সে জন্য আমাদের উচিত প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে আমাদেরকে স্ব-স্ব ক্ষেত্র দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে দেশের প্রায় ৩৭ হাজর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। তার সাহসী ভুমিকার জন্য জাতীর কাছে আজও তিনি স্মরণীয়। আর এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারই কন্যা শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে পরবর্তীতে সৃষ্টি হওয়া প্রায় ২৬ হাজার বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। তার প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সরকারের পাশাপশি আমাদেরকে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। শুধু সরকারের উপর ভরসা করলে হবে না। প্রাথমিক শিক্ষার রুপকল্প হচ্ছে সকল শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ভর্তির হার শত ভাগ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিশুশ্রম রোধ, আনন্দদায়ক ও মনোরম পরিবেশে পাঠ দান কার্যক্রম পরিচালনা, বিশেষ চহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতি বাড়তি খেয়াল নেওয়া, দূর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা, আন্তরিকতার সাথে পাঠ দান কার্যক্রম, মিড-ডে-মিল চালু করা, গরীব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সাহায্য করা, অভিভাবক ও মা সমাবেশ এবং উঠান বৈঠক করা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আলোচনা সভা, সহ পাঠ্যক্রমিক কর্মাবলী জোরদার, বিদ্যালয়ে জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে শিশুদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করা, আলোচনা সভায় যুক্তি সঙ্গত সিদ্ধান্তগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। তাই সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরকে শিক্ষার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের শিশুরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আট থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা অর্থাৎ দিনের বেশির ভাগ সময়ই থাকে। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সন্তানদের খোজ খবর নেওয়া। সাথে সাথে শিক্ষক মন্ডলিদের ও উচিত অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা। তাহলে শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া রোধ করে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে সকল শিশুর জন্য একীভূত মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সকলকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূল মন্ত্র’ শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” কথাটি সফল ও সার্থক করা সম্ভব হবে।