‘মেয়েটা যে ভালো হবি এটা আগে শুনিনি’


প্রকাশিত : আগস্ট ১২, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক: মুক্তামনির মা আসমা বেগমবার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৬ তলায় শনিবার সকাল পৌনে ৮টার সময় গিয়ে দেখা যায় মুক্তামনি ঘুমিয়ে। পাশে বসে ছিলেন মা আসমা খাতুন ও বাবা ইব্রাহিম হোসেন। বাবা-মায়ের চোখে রাত জাগার চিহ্ন স্পষ্ট। পাশের আরেকটি বেডে ঘুমিয়ে আছে মুক্তামনির জমজ বোন হীরামনি ও তাদের ভাই।

রাতে ঘুমাননি জিজ্ঞাস করলে মা আসমা বলেন, ‘আজকে আমার মেয়ের অপারেশন। কিভাবে ঘুমাই আপা?’

 

এরপর থেকেই শুরু হয় মুক্তামনিকে ওটিতে নেওয়ার প্রস্তুতি। কেবিনে একের পর লোক আসতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই মুক্তামনিকে ওটিতে নেওয়া হয়। তার পেছন পেছন আসেন বাবা ও মা। ট্রলিতে শুয়ে ওটির দরজা পর্যন্ত মায়ের হাত ধরে ছিল মুক্তামনিকে। ওটির দরজা পার করার পরপর আর যেতে পারেননি তারা। ওটির বাইরে বসেই মেয়ের জন্য দোয়া করছেন তারা।

 

ওটিতে নেওয়ার সময় মুক্তামনি তা মাকে বলে, ‘মা আমার ভয় করছে।’ জবাবে মা বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই, তুমি যত দোয়া জানো পড়ো।’ এরপর সে বলে, ‘আমাকে অজ্ঞান না করা পর্যন্ত তুমি আমার সঙ্গে থকো।’

মেয়েকে ওটিতে ঢোকানোর পর ছলছল চোখে মা আসমা বলেন, ‘মেয়েটা আমাকে বলে গেলো ভয় করছে। আমার মনটার ভেতর কেমন করছে বলতে পারবো। আমি মেয়ে যে ভালো হবি এটা আগে শুনিনি। এইখানে আসার পরে শুনেছি।’

ওটির বাইরে কখনও দাঁড়িয়ে কখনও বসিয়ে বসে মা ও বাবা দোয়া করছেন। আর ওটি থেকে কেউ বের হলেই জানতে চাইছেন, ‘আমার মেয়েটা কেমন আছে।’

 

এর আগে সকার ৮টার দিকে মুক্তামনির হাতে অস্ত্রোপচারের জন্য ওটিতে নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে তার অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডাক্তারা। মুক্তামনির অস্ত্রোপচার করতে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় মুক্তামনিকে। এতদিন মুক্তামনির রোগটিকে বিরল রোগ বলা হলেও ৫ আগস্ট তার বায়োপসি করার পর জানা গেছে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে যেটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেমানজিওমা বলা হয়ে থাকে।

 

ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক রায়হানা আউয়াল, দুইজন সহযোগী অধ্যাপক, সাত জন সহকারী অধ্যাপকসহ অন্যান্য চিকিৎসক এবং ঢামেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়াস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফফর হোসনসহ আরেকজন এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চারজন চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচারে অংশ নিচ্ছেন।