শোকের মাস


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক: আর মাত্র দু’দিন পরই সেই ভয়াল দিন। যে দিনে বাঙালী হারিয়েছিল তার জাতির পিতাকে, দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল অগ্রমিছিল থেকে। বাঙালীর জীবনে শোকাহত ও অভিশপ্ত আগস্ট মাসের আজ তেরোতম দিন। শহরের মোড়ে, প্রধান সড়কে, অলিগলিতে উঠছে শোকতোরণ। সকাল থেকে মধ্যরাত বাজছে শোকগাথা। ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ির সামনে মনে হয় এখনও কালো ফ্রেমের চশমার ফাঁক দিয়ে হাসছে যে উজ্জ্বল চোখের দ্যুতি, একদিন তাঁরই আঙ্গুল ধরেই তো পথে নামে বাঙালী জাতি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনে মহার্ঘ্য স্বাধীনতা।

বীর বাঙালীর ইতিহাসে কলঙ্কিত এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে এ মাসেই। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাঙালী জাতি পিতৃহন্তারকের বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হলেও আমাদের প্রতিটি শিরা, উপশিরা ও ধমনিতে তীব্র ঘৃণার উদ্রেক করে এ মাস। ইতিহাসে হয়ত এ মাসে অনেক বিজয়ের কাহিনী লেখা আছে। কিন্তু বিজয়ের সেসব কাহিনী রক্তের স্রোতধারায় মিশেছে আগস্টে এসে। এ মাস নতুন করে ভাবতে শেখায়। এ মাস প্রতিশোধের চেতনায় শাণিত করে সবাইকে।

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা। বাঙালীর অমোঘ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকেই ঘর ছেড়েছিল মানুষ। মৃত্যুর থাবায় বুক মেলে দেয় কোটি জনতা। শুরু করে স্বাধীনতার লড়াই। তারপর টানা ৯ মাস সেই প্রাণপ্রিয় নেতার নির্দেশেই চলে মুক্তির যুদ্ধ। একদিন স্বাধীন হয় দেশ। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় আরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’।

জন্ম নেন এক চিরভাস্বর মুখ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই কালজয়ী মানুষকেই একদিন, এই আগস্টেই নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার পবিত্র মাটি। বাঙালীর ইতিহাসে যোগ হয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়। বাঙালী কাঁদে। কাঁদায় বিশ্ববাসীকে। বুকের খুনে, বঙ্গবন্ধু রচনা করেন ভালবাসা ও শ্রদ্ধার এক কালজয়ী ইতিহাস।

ধানম-ির ৩২ নম্বর সড়কের যে বাড়িটি একদিন স্বাধীনতার প্রশ্নে একই পথে নিয়ে এসেছিল বাঙালীকে সেই বাড়িটিই সেই বাঙালীকে কাঁদাল একদিন অঝোর ধারায়। বাড়িটির ব্যালকনিতে দাঁড়ানো দৃঢ়চেতা যে নেতার অঙ্গুলি হেলনে বুকের ভেতর জ্বলত মুক্তির দ্রোহ, ঘাতক, নরপিশাচদের কারণে সেই পিতাই একদিন মুখ থুবড়ে পড়লেন বাঙালীর অনিবার্য সেই বাড়ির মেঝেতেই। সিঁড়ি গড়িয়ে বইল রক্তের ধারা। ঘাতকের বুলেট বিদ্ধ করল কালজয়ী মানুষÑবঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে। বিদ্ধ হলো গোটা বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশ। রচিত হলো পৃথিবীর এ যাবতকালের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম ইতিহাস।

তাই আগস্ট এলেই মোচড় দিয়ে ওঠে বাঙালীর বুকের ভেতরটা। স্মৃতির উঠোনে গল্প বুনে বেদনার। সেই অমোঘ নেতার স্মরণে-শ্রদ্ধায়, কান্না-ভালবাসায় বারবার অবনত হয় মাথা। কতিপয় বর্বর স্বাধীনতাবিরোধী সেনা কর্মকর্তা বর্বরোচিত অভিলাষ পূরণে গড়ল ঘৃণ্য ইতিহাস- তার মর্মবেদনা বাঙালীকে বয়ে বেড়াতে হবে অনন্তকাল। ঘৃণ্য সে কালিমায় লিপ্ত হলো সহজ-সরল বাঙালীর মুখ।

শোকের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবিতে উচ্চকিত। এবারের এ দাবির পাশাপাশি সোচ্চার দাবি উঠেছে মানবতাবিরোধী সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতের রায় কার্যকরের। ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারী ও বেসরকারী অজস্র সংগঠন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে গ্রহণ করছে বিস্তারিত কর্মসূচী।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক. অধ্যাপক ড. মিজান উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার অপর নাম শেখ মুজিবুর রহমান। যতদিন পৃথিবী থাকবে, বাঙালী জাতি থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা চিরঋণী। কারণ, তিনিই একটি স্বাধীন ভূখন্ডে দিয়েছেন। তাঁর জন্যই আজ আমি মন্ত্রী।