সাতক্ষীরায় সড়ক বিভাগ এখন রং তামাশার পাত্র!


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: আর কত খারাপ হলে সংস্কার হবে সাতক্ষীরার সড়ক? কোন ভাষায় বললে সড়ক বিভাগ কথা শুনবে? আর কত জীবন দিলে সড়কের গর্ত ভরাট হবে? এমন প্রশ্ন সাতক্ষীরার মানুষের। আর কত দুর্ভোগ পোহালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নজর পড়বে সাতক্ষীরায়। আর কত ইট, খোয়া ও বালু খেলে নেতা ও কর্মকর্তারা খাই খাই করবে না? এভাবে প্রশ্নবানে জর্জরিত সাতক্ষীরার মানুষ। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী মহোদয় কী একটি বারের জন্য সাতক্ষীরায় আসবেন? সাতক্ষীরার সড়ক তিনি চিনতে পারবেন তো? একবারের জন্য হলেও সাতক্ষীরার সড়কের অবস্থা ও জনগণের দুরাবস্থা দেখে যাওয়ার চিরন্তন আব্দার জানিয়েছে সাতক্ষীরাবাসি। শনিবার দৈনিক পত্রদূত ও পত্রদূত অনলাইনে ‘মা-বাপহীন সাতক্ষীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হবার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পাঠকরা লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট করে তাদের মনের আকুতি প্রকাশ করেন। প্রায় ৪০ হাজার পাঠক সংবাদটি পড়েছেন। সংবাদটি পড়ে মন্তব্য করেছে অর্ধ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। শেয়ার করেছেন সহ¯্রাধিক। পত্রদূত হট লাইনে ফোন করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জনগণের দু:খ দুর্দশা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। একইসাথে তারা সড়ক নিয়ে আরো লেখালেখি করার দাবিও জানিয়েছেন। পাঠকের সাথে কথোপকথনে তারা জানায়, ঘুষ দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে যে, বঙ্গোপসাগরের পানি যদি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সাতক্ষীরায় আনা যেতো তাহলে আমাদের নেতারা নাকি তা শরবত মনে চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলতেন। জনপ্রতিনিধিরা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মিলেমিশে সরকারি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ করেন পাঠকরা। উদ্বোধনের বহর এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, ভালো মন্দ বিবেচনা করার মত অনুভূতিও নেই জনপ্রতিনিধিদের। পাঠকরা সাতক্ষীরার সড়ক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


প্রসঙ্গত: সাতক্ষীরার প্রত্যেকটি সড়ক এখন মরণ ফাঁদ। একটি সড়কও ভালো নেই। প্রধান সড়ক ছেড়ে অলি গলি দিয়ে যাতায়াত করছে যানবাহন। শহরের কদমতলা থেকে বাঁকাল পর্যন্ত গর্তে গর্তে ভরে গেছে সড়ক। মাঝে মাঝে দু’এক ঝুড়ি ইটের খোয়া ফেলে দু’একটি গর্ত ভরাটের ব্যর্থ চেষ্টা করে সড়ক বিভাগ জনগণের রং তামাসার পাত্র হয়েছে। দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে গেছে যে, অল্প শোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথরের মত অবস্থা। যাতায়াতের কষ্ট ভুলতে গিয়ে সড়ক বিভাগের কার্যক্রমকে এখন তামাশা মনে করছে মানুষ।

 

মা-বাপহীন সাতক্ষীরা