কালিগঞ্জে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্য!


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ দেয়ার মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলায় ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এইচএসসি পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহবাণ করা হয়। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলার ১২ ইউনিয়ন থেকে ২ হাজার ৩৮৩ জনের আবেদনপত্র প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয়েছিল। গত ১৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাকুরি প্রার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং সদস্যসচিব ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার কামরুল ইসলাম। এই নিয়োগকে ঘিরে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে কর্মরত একটি গ্রুপ প্রার্থীদের চাকুরি নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এই টাকা আদান প্রদানের বিষয়টা ছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেট।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুস সোবাহানসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চাকুরি প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিসে দু’বছর মেয়াদী প্রকল্পে চাকুরির সুযোগ হওয়ায় বেকার যুবক-যুবতীদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অর্থবাণিজ্য অনেককে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি বলেন, চাকুরি নিশ্চিত করার প্রলোভনে প্রতি প্রার্থীর নিকট থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ২ হাজার ৩৮৩জন চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন। চাকুরি পাওয়ার আশায় এর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থী উৎকোচ দিয়েছেন। গত ২৩ মার্চ সাক্ষাতকার পর্ব শেষ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর ২ হাজার ২৪১ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এররপর দীর্ঘদিন পার হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এখনও ঘুষবাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে তার অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাম অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনসহ একটি গ্রুপ। তিনটি কোটায় নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে প্রচার দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে যারা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে পারবে তারা প্রথম কোটায় নিয়োগ পাবে এই আশায় অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়ে নিয়োগ নিশ্চিত করছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে। আর যারা টাকা দিতে পারেননি তারা আদৌ চাকুরি পাবেন কিনা তা নিয়েও সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। হতাশায় ভুগছেন ওই সব বেকার যুবক-যুবতীরা।
সরকারের শুভ উদ্যোগকে কালিমালিপ্ত করে অসহায় বেকার যুবক-যুবতীদের নিকট থেকে অর্ধ কোটি টাকারও বেশী ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহল।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সব কিছু হচ্ছে। আবেদনকারীদের কারও কারও বয়স কম থাকায় বা অন্যান্য কারণে কিছু প্রার্থী বাদ পড়েছে। ট্রেনিং শেষে আরও কিছু বাদ পড়তে পারে। সরকারি বরাদ্ধ না পাওয়ায় এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। চাকুরি দেয়ার কথা বলে তার দপ্তরের কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে তাহলে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে এর দায় দায়িত্ব তার উপরে বর্তায় বলে স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।