সরকারি বিধান লঙ্ঘন করে চলছে সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল ৫ সদস্যের কমিটিতে পিতা সভাপতি, এক পুত্র সম্পাদক ও অন্যজন সদস্য


প্রকাশিত : আগস্ট ১৩, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি বিধি বিধান অমান্য করে চরম অনিয়মের মধ্যে চলছে সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি উপরে দারুণ চাকচিক্য থাকলেও ভিতরে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অব্যবস্থাপনায় ভরপুর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিগত ২১-০৫-২০১৫ তারিখের ২১০ নং পত্র মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর বিগত ০৯-১১-২০১৫ তারিখে ১৯৩২ নং পত্রে সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল নামক প্রতিষ্ঠানটি বিগত ০১-০১-২০১৫ তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে পাঠ দানের প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করেন। ঐ পত্রে ১২টি শর্ত দেওয়া হয়। যার অধিকাংশ শর্ত এখনো পূরণ করা হয়নি। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল “প্রবিধান মালা ২০০৯ এর ৪৮ বিধি অনুযায়ী নির্বাহি কমিটি যথাযথ নিয়মে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ করবেন। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এন, টি, আর, সি, এ- আইন ২০১৫ অবশ্যই পুরুন করতে হবে”। অথচ প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষক নিয়োগে এ বিধান ভঙ্গ করা হয়েছে। তাছাড়া বিএড বা কোন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যদের।
অভিযোগে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি চলছে নিজেদের ইচ্ছামত। নির্বাহি কমিটি চলছে পিতা পুত্র মিলে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদনের প্রেক্ষিতে যশোর শিক্ষা বোর্ড বিগত ০৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে ১৯৩৩ (৭) নং পত্রে ৫ সদস্যের একটি নির্বাহি কমিটি অনুমোদন দেয়। যার তিন জনই হচ্ছে পিতা-পুত্র। ওই পত্রে দেখা যায়, আব্দুল খালেক তরফদার- সভাপতি, সদস্য সচিব প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দীন (যিনি সভাপতির পুত্র), মো. আলমগীর জুলফিকার আলী হায়দার ও মোছা. খাদিজা খাতুন (জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি) এবং মো. আলাউদ্দীন যিনি সভাপতির আরেক পুত্র। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকের আপন ভ্রাতা।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটি বিগত তিন বছরে শহরের তিন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রথমে মুনজিতপুর গ্রামে, দ্বিতীয় কাটিয়ার রেজিষ্ট্রি অফিস পাড়ায় এবং বর্তমানে আমতলা মোড়ে ভাড়াটিয়া ভবনে অবস্থান করছে। বার বার স্থান পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান দারুণভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে জানান কয়েক জন অভিভাবক।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে সুকৌশলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, আবার কখনো জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি বানিয়ে থাকেন। এমনকি জাপা নেতা শেখ আজহার হোসেনকে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সভাপতি ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠান করে থাকেন যা প্রতারণার শামিল। আবার কখনো কখনো আওয়ামী লীগ নেতাদের দাওয়াত করে প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়ে থাকেন। মূলত ঐ প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও অনুমোদিত সভাপতি হচ্ছেন প্রধান শিক্ষকের পিতা আব্দুল খালেক তরফদার।
এতকিছু অনিয়মের পরেও আরো অর্থ আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নবম ও দশম শ্রেণি খোলার জন্য জোর তদবীর চলছে বলে জানা গেছে। এ সমস্ত অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দীন বিদ্যালয়ের নির্বাহি কমিটিতে তিন জনই পিতা পুত্র বলে স্বীকার করেন। তবে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যে প্রবিধানমালার শর্ত দেওয়া হয়েছে তা পাবলিক স্কুলের জন্য নয় বলে জানান।