১০দিন ব্যাপি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ শিল্পকলায় শুদ্ধতায় সুরের সাধক হবার আহ্বান


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতটি রাগ আর ২২টি শ্রুতির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় সুর। সঙ্গীতের সেই সুর ঢেলে দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শিল্পকলায় শেষ হয়েছে ১০দিন ব্যাপি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষণ। শ্রাবণ সন্ধ্যায় শিল্পকলায় বসেছিলো সুরের আড্ডা। দুই বাংলার শিল্পী ও সংস্কৃতি সেবিরা এতে অংশ নেন।

রাগের লহরীতে সঙ্গীতে অনুরাগ সৃষ্টির এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। দক্ষিণ জনপদের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্ণমালা একাডেমি এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। সঙ্গীত মানুষের অন্তরের কালিমা দূর করে চিত্তকে মুক্ত করে। সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে সঙ্গীত। সুরের আবেদন চিরন্তন। শুদ্ধতায় হৃদ্ধ অন্তরাত্মাকে বিকশিত রূপে গড়ে তোলার জন্য সুরের সাধক হবার আহ্বান ছিলো প্রত্যেক বক্তার কন্ঠে। ‘আনন্দলোকে মঙ্গল আলোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলায় ১০দিন ব্যাপি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ণমালা একাডেমির আয়োজনে সভাপতি শামীমা পারভীন রত্মার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ০১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, প্রধান প্রশিক্ষক জয়দ্বীপ চক্রবর্তী, সৌমিত হালদার ও নুশরিকা অদ্রি প্রমুখ। অতিথিদের বর্ণমালা একাডেমির পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। ১০দিন ব্যাপি এ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত প্রশিক্ষণে ৭৫জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাতক্ষীরা ‘বর্ণমালা একাডেমি’ ও ভারতের ‘সাকিত সঙ্গীত গুরুকুল’ একাডেমি কর্তৃক পৃথক সনদপত্র প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধীতি ও বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার সভাপতি নাসরীন খান লিপি, রেড ক্রিসেন্ট সাতক্ষীরা ইউনিটের সেক্রেটারী শেখ নুরুল হক, লিনেট ফাইন আর্টস সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান মিল্টন, সহযোগি শিক্ষক সৌমিত হালদার, অ¤্রন্দে হালদার, কন্ঠ শিল্পী মনজুরুল হক, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, পিএন বিয়াম ল্যাব. স্কুলের উপাধ্যক্ষ ইমদাদুল হক ও চিত্র শিল্পী এমএ জলিল প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নাহিদা পারভীন পান্না।

বক্তারা বলেন, শেখার শুরুতে যদি সুন্দরভাবে শেখা যায় তাহলে শেখাটা নিখুঁত হয়। এজন্য শুরুর ভিত্তিটা মজবুদ করতে হবে। ছোটবেলা থেকে শেখার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষনের মধ্যদিয়ে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিল্পের এক একটি অংশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, সুস্থ সঙ্গিত চর্চা সমাজকে অনেক এগিয়ে নিতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গিত বিশ্বে অগ্রনি ভুমিকা পালন করে। তারই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরাও অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাদক ও জঙ্গিবাদ মুক্ত সমাজ গড়তে সকলকে আহবান করেন বক্তারা।

এসময় সভাপতি শামিমা পারভিন রতœা জানান, যেটা শিখতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগার কথা সেটা ১০ দিনে শিখতে সক্ষম হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীরা এজন্য প্রশিক্ষকদের আন্তরিকতাই ছিল একমাত্র পাথেয়। তিনি আরও জানান যারা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইন্ডিয়া থেকে ডিগ্রি নিতে আগ্রহী তাদেরও ব্যবস্থা করবে বর্ণমালা।