নলতায় সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে চাঁদা দাবি ৬ দিনেও কোন ক্লু উদ্ধার হয়নি


প্রকাশিত : আগস্ট ২১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকায় শিক্ষক, চাকরিজীবী, ঠিকাদার, ব্যবসায়িসহ প্রায় ২০জনের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে চাঁদা চাওয়ার ঘটরায় সাধারণ ডায়েরী করার ছয় দিনেও পুলিশ কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। অপরদিকে হুমকি দাতা ও বিকাশ নম্বরে টাকা নেওয়া সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করে তড়িঘড়ি করে কুষ্টিয়ার দু’ব্যক্তির নামে মামলা করতে বলায় বিপাকে পড়েছেন একজন শিক্ষক ও একজন ব্যবসায়ি।
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজারের বস্ত্র ব্যবসায়ি মাহাবুবল হক (৫৫), একই বাজারের ব্যবসায়ি মাহাবুবর রহমান (৪০) ও নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাবিবুল্লাহ(৩৫) জানান, গত ১৬ আগস্ট সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয়ে ০১৮৫৫-৪৮৫৭৮০ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে তাদের কাছে পৃথক পৃথক অংকের টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে কালিগঞ্জ থানায় তারা তিনটি সাধারণ ডায়েরী করেন। তারা ছাড়াও কমপক্ষে ১৭জন শিক্ষক, কর্মচারি, ব্যবসায়ি ও ঠিকাদারের কাছে বিভিন্ন তারিখে ০১৮৫৫-৪৮৫৭৮০ ও ০১৯৯৫-৭৬৯২৬৯ নং মোবাইল থেকে সর্বহারা পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। এরমধ্যে শুইলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হুমকিদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে ১২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল মোমিন একইভাবে বিকাশ নম্বরে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আবার অনেকে টাকা দিলে ভয়ে মুখ খুলছেন না।
তারা জানান, সাধারণ ডায়েরী করার পর কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক তাদেরকে শনিবার বিকেলে থানায় ডাকেন। বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাত ৮টার মধ্যে না আসায় হুমকির ঘটনায় তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এমদাদ হোসেন কুষ্টিয়া ও গাইবান্ধার দু’ব্যক্তির নাম হুমকিদাতা হিসেবে বেসরকারিভাবে জেনেছেন উল্লেখ করে তাদেরকে ওই লোকদের বিনেিদ্ধ মামলা করতে বলেন। তবে সরকারিভাবে বিকাশ নং ও মোবাইল নং যাঁচাই বাছাই না হওয়ায় প্রকৃত হুমকিদাতা খুঁজে বের না করা পর্যন্ত তারা মামলা করতে চাননি। একপর্যায়ে সাংসদ ডা. আ. ফ. ম রুহুল হকের সঙ্গে পরামর্শ করে তারা মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেন থানা থেকে রাত ১০ টার দিকে চলে আসেন।
স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হুমকি, বিকাশে টাকা নেওয়া ও সাধারণ ডায়েরীর বিষয়টি প্রশাসন জানার পরও ওইসব মোবাইল নং এখনো চালু রয়েছে। যে কেউ মোবাইল ধরলে তারা রিসিভ করছেন। এমনকি পারলে কেউ কিছু করুক বলে হুমকিও দিচ্ছেন। অথচ পুলিশ ডায়েরী করার পাঁচ দিনেও হুমকিদাতাদের ঠিকানা ও অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।
জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এমদাদ হোসেন জানান, একটি বেসরকারি তথ্য অনুযায়ি হুমকিদাতাদের ব্যবহৃত দু’টি সিমের মালিক কুষ্টিয়া ও গাইবান্ধার দু’ জনের নাম পাওয়া যাওয়ায় বিকাশে টাকা দাতাদের তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলা হয়। তবে বিকাশ নং ও মোবাইল কললিস্ট তুলে সাতক্ষীরা ডিএসবি’র মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই সঠিক তথ্য বেরিয়ে এলে হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।