এবার অস্ট্রেলিয়া-বধের উল্লাস


প্রকাশিত : আগস্ট ৩০, ২০১৭ ||
আরেকটি উইকেট নিয়ে সাকিবের উল্লাসআবার ‘বাঘের গর্জনে’ প্রকম্পিত ক্রিকেট-দুনিয়া। এক সময় যাদের ‘মিনোজ’ বা ‘ছোট’ দল বলে উপহাস করা হতো, সেই বাংলাদেশের কাছে পরাস্ত অস্ট্রেলিয়া। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো ‌বীরত্বে ‌ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলকে পরাস্ত করলো তামিম-সাকিব-মুশফিকদের দল, ক্রিকেটাঙ্গনে যাদের আরেক নাম ‘টাইগার্স’।

ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের অনেক প্রাপ্তি। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়, পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ সমৃদ্ধ করেছে টাইগারদের। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রার সূচনা। পরের বছর টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে টাইগাররা আজ ক্রিকেটের সমীহজাগানো শক্তি। ২০০৫ সালে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়ে ক্রিকেট-দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। এক যুগ পর পন্টিং-গিলক্রিস্ট-হেইডেন-ম্যাকগ্রাদের উত্তরসূরীরা পরাস্ত  ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের ক্ষেত্র টেস্টে।

অথচ বছর তিনেক আগেও কী খারাপ সময়ই না যাচ্ছিল বাংলাদেশের! এমনকি হংকংয়ের মতো দলের কাছেও হার মেনেছিল ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে মাশরাফির হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতেই চমকপ্রদ পরিবর্তন। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে অনেকেই পাত্তা দেয়নি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে, ইংল্যান্ডের মতো দলের হাতে দেশে ফেরার টিকিট ধরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় টাইগাররা। ভারতের সঙ্গে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ‘বলি’ না হলে কে জানে, ক্রিকেটের সেরা আসরের সেমিফাইনালে হয়তো দেখা যেত বাংলাদেশকে।

বিশ্বকাপের হতাশা বুকে চেপে দেশে ফেরার পরেই মাশরাফির দলের দুরন্ত পারফরম্যান্স। প্রথমে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা, তারপর মোস্তাফিজের নৈপুণ্যে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ভারত-বধের আনন্দে মেতে ওঠা। দুর্ধর্ষ টাইগারদের আগুনে পুড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। টানা তিন সিরিজ জয়ের সৌরভ নিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ওপরে ওঠার সুখবর। এই সুখবরের প্রয়োজন ছিল খুব। কারণ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে হলে সেরা আটের মধ্যে থাকতে হতো। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে মর্যাদার টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিতে সমস্যা হয়নি টাইগারদের। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ছাড়পত্রও হাতে আসার পথে।

ওয়ানডেতে টানা সাফল্য পেলেও টেস্টে ক্রমাগত ব্যর্থতা পীড়া দিচ্ছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড আর এ বছর শ্রীলঙ্কা সফরে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, পাঁচ দিনের ক্রিকেটে উঠে আসতেও আর দেরি নেই। আর এবার তো অস্ট্রেলিয়া-বধের উল্লাস। এ যেন দেশবাসীকে মুশফিকদের অগ্রিম ঈদ উপহার।

শ্রীলঙ্কা সফরের সময় অর্জুনা রানাতুঙ্গা বলেছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব। আরও এগিয়ে হোয়াইটওয়াশের কথা বলতে দ্বিধা করেননি চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সিরিজ শুরুর আগে কোচের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে। প্রতিপক্ষের কোচ ও সেরা তারকার মন্তব্যে একই সঙ্গে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। অতিথি অধিনায়ক বোধহয় বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের কথা কল্পনাও করেননি। কিন্তু বাংলাদেশ যে আগের বাংলাদেশ নেই, অনেক বদলে যাওয়া দল। তাই অস্ট্রেলিয়ার মতো দলও পরাস্ত হলো, উড়লো বিজয়নিশান।

মিরপুর টেস্ট শেষ, এবার সামনে ‘মিশন চট্টগ্রাম’। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে অনেক সাফল্য টাইগারদের। এ মাঠেই ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড হার মেনেছিল, দু বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত হয়েছিল এখানে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য বলতে একটিই- বছর তিনেক আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়। তাই চট্টগ্রামে সাকিব-তামিমদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় টেস্ট জিততে পারলে টাইগারদের অর্জনের মুকুট সমৃদ্ধ হবে আরও, অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের উল্লাসে মেতে উঠবে সারা দেশ। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!