ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্কুল ছাত্রীর আত্মহননের হুমকি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় পুলিশ ধর্ষণ মামলার অসামী গ্রেপ্তার না করায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে স্কুলছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ারচক গ্রামের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্কুল ছাত্রী বলেন, তার বাবা মুনছুর আলী দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্রে বসবাস করায় তা মা দিন মজুরের কাজ করে তাকে পড়া লেখা শেখানোর চেষ্টা করে আসছেন। সে স্থানীয় সিরাজপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়া আসার পথে কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আহম্মাদ শেখের ছেলে আশিক শ্যামনগর উপজেলার ধাপুয়ারচক গ্রামের গফ্ফার সরদারের ছেলে রফিকুলসহ কয়েকজন প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে আশিক রফিকুল গংরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে অপহরণ ধর্ষণের হুমকি দেয়। ফলে তাদের ভয়ে মা আমার বিয়ের জন্য পাত্র খুজতে শুরু করেন। এক পর্যায় গত আগস্ট যশোরের মনিরামপুর এলাকা থেকে একটি পাত্র পক্ষ অমাকে দেখতে আসেন। ফিরে যাওয়ার পথে আশিক গংরা শ্যামনগর থানার পুলিশকে দিয়ে তাদেরকে আটক করায়। খবর পেয়ে আমার মা পাত্র পক্ষকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং ১১ আগস্ট সারাদিন থানায় অবস্থান করেন। বৃদ্ধা নানীকে নিয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আশিক, রুহুল আমিন পবিত্র কুমার মন্ডল অব্দুর রহিমের ব্যবহৃত সিআরভি গাড়ী নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে এবং পুলিশ পরিচয় পাত্রপক্ষকে ছাড়ানোর কথা বলে আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে থানায় না নিয়ে আব্দুর রহিমের বংশিপুরস্থ রোজা ব্রিক্সের দোতলা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে আশিক রফিকুল অস্ত্রের মুখে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রথমে আব্দুর রহিম, রফিকুল, শফিকুল, রুহুল আমিন, পবিত্র আশিক পালাক্রমে জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই গাড়িতে করে ইসমাইলপুর রাস্তার পাশে একটি ফাকা স্থানে আমাকে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা আমাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুস্থ্য হয়ে শ্যামনগর থানায় উল্লেখিত ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তালবাহানা শুরু করে। উপায় না পেয়ে ২০ আগস্ট আমি নিজে বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গণ্য করে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পুলিশ মামালা রেকর্ড করলেও আসামীদের গ্রেপ্তার করছে না। আমারা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কারায় আশিক গংরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাকে মাকে হত্যা গুমসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে। এঘটনায় আমার মা ফজিলা খাতুন বাদি হয়ে গত সেপ্টেম্বর অমাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ধারার মামলা দায়ের করেছেন। আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। অনতিবিলম্বে মামলার অসামীদের গ্রেপ্তার না করলে তার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান। তিনি অসামীদের গ্রেপ্তার করে তাদেরকে আইনে সোপার্দ করার জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এব্যাপারে শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী রাতে গনমাধ্যমকে জানান, অনেক সময় কিছু ঘটনাায় অর্ধেক সত্য আর অর্ধেক মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে মামলা হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে সেটি আমরা জানতে পারিনা। তবে শ্যামনগরের ধাপুয়ার চক এলাকার স্কুল ছাত্রী সালমা খাতুনের ধর্ষণ মামলাটি শত ভাগ মিথ্যা। এই মামলার আসামীরা হল কৈখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ওই ইউনিয়নের মেন্বর পবিত্র কুমার লসহ কয়েকজন। তারা পরিকল্পিত মিথ্যা ঘটনা হওয়ায় থানায় মামলাই করতে আসেনি। অথচ থানার উপর দায় চাপিয়ে আদালতে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে মিথ্যা নারি শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। যা বিজ্ঞ আদালত এফআইআর হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দেন। আমরা মামলাটি এফআইআর হিসেবে গন্য করে থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত শরিফুল ইসলামকে তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করি। তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে যেয়ে এমামলার নূন্যতম সত্যতা পাননি। ফলে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই সাথে পরিপূর্ণ তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় ওসি আরও বলেন, বাদীনির বাড়ি থেকে আসামীদের বাড়ির দুরত্ব ২৫ থেকে ২৮ কিলোমিটার দুরে। এতদুর থেকে যেয়ে কেউ এতবড় ধর্ষণ জনিত ঘটনা ঘটাতে পারে তাও আবার চেয়ারম্যান মেন্বররা। তা তদন্তকালে আমাদের মনে হয়নি বা স্বাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যাইনি। এই মামলার উদ্বুত কারণ হল স্থানীয় দলাদলি। চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানি করে চলেছে।

বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব না হওয়ায় এই মামলার অপর আসামী জয়াখালি গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, আমি ৭৮নং কৈখালি মহাজেরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে চাকুরি। আমি শুনেছি আমার নামে একটা মামলা হয়েছে। এরবেশি আমি কিছুই জানিনা। তবে এমামলার পুরো ঘটনা মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি।