চুকনগরে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই মুক্তি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির কার্যক্রম


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭ ||

 

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, চুকনগর (খুলনা): চুকনগরে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই মুক্তি সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতির কার্যক্রম চলছে। সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাযায়, ২০১৩ সালে ১০০/১৫০জন সদস্য নিয়ে মুক্তি সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি সঞ্চয়ী সমিতি হিসেবে প্রচার করা হলেও অল্পদিনের মধ্যে অন্যান্য সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও শুধুমাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার অসীত তরফদার নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাপকহারে এর ঋণ কার্যক্রম শুরু করেন। শুধু তাই নয়, অসীত তরফদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নিজের ইচছায় কাউকে কোন হিসাব না দিয়ে টাকা নিজের পকটস্থ করতে থাকে। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দুর্নীতির কারণে ২০১৫ সালে সমিতি থেকে পূর্ণচরণ বিশ্বাস, পঙ্কজ সরদার, দুলাল সরদার, প্রজিত বিশ্বাস সহ ২৫/৩০সদস্য সমিতি ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫শতাধিক। তারপরও রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এর ঋণ কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। খোঁজখবর নিয়ে জানাযায়, বর্তমানে সমিতির আওতায় প্রায় ৫০লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া আছে। কিন্তু ঋণের টাকা কোথা থেকে আসে এবং লাভের টাকা কোথায় যায় তা সমিতির পরিচালক কৃষ্ণ পদ জোয়াদ্দার, সভাপতি পুলিন রায় সাধারণ সম্পাদক অসীত তরফদার ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। বছর শেষে যে হিসাব নিকাশ করা হয় তা জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এদিকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসীত তরফদার তার পরিবার আতœীয় স্বজনদের নামে প্রায় ৫০টির মত সদস্য বানিয়ে যার সুফল ভোগ করছেন নিজে। একাধিক সদস্যের অভিযোগ তিনি সমিতির টাকা আত্মসাৎ করে প্রায় ৮লক্ষ টাকা দিয়ে তার নিজ ভাই অমারেম তরফদারকে শোভনার একটি স্কুলে চাকরি দিয়েছে। কোন গরীব সদস্য ঋণ নিয়ে ঠিকমত টাকা দিতে না পারলে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি তাদের গরু ছাগল ধরে আনারও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সদস্যের অভিযোগ, অসীত তরফদারের এক সময় দিন চলত না। অথচ সমিতি গঠন করার পর আজ তিনি কোটিপতি বনে গেছেন। এদিকে রেজিস্ট্রেশন বিহীন সমিতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা হলেও সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। ব্যাপারে সমিতির পরিচালক কৃষ্ণপদ জোয়াদ্দার সভাপতি পুলিন রায় বলেন, সমিতির বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। সাধারণ সম্পাদক অসীত তরফর্দা সবকিছু দেখাশোনা করেন এবং হিসাব নিকাশও তার কাছে। ব্যাপারে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসীত তরফদার তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার এফএম সেলিম আখতার বলেন, মুক্তি সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি নামে আমাদের তালিকায় কোন সমিতির নাম নেই। যদি কোন ব্যক্তি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই কোন সমিতির কার্যক্রম চালায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব। আর আগামী রবিবার অফিস খুললে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান স্যারের সাথে কথা বলে /২দিনের মধ্যে মুক্তি সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।