স্বজনদের লাশ শনাক্তে মিয়ানমারে ফিরতে চায় রোহিঙ্গা হিন্দুরা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ||

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হিন্দুদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার খবরে কান্নার রোল পড়েছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে। সোমবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজারের কুতুপালং হিন্দুপাড়ায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের সদস্যদের লাশ শনাক্ত করতে খুব দ্রুত মিয়ানমারে ফিরতে চায় এসব পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার রাখাইন রাজ্যে একটি হিন্দু গণকবরের সন্ধান পাওয়ার দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, ওই গণকবরে হিন্দুদের ২৮টি মরদেহ পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনী এই ঘটনায় এআরএসএ-কে দায়ী করছে। তবে সংগঠনটি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলছে, “এটি মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের ‘মিথ্যাচার’। কারণ এআরএসএ কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।” এমন পরস্পরবিরোধী খবর এলেও রাখাইনে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় কোনও সংবাদমাধ্যমের পক্ষে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারাই থাকুক; এসব মরদেহ পাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর কুতুপালং হিন্দুপাড়ার শরণার্থীরা মুষড়ে পড়েছেন। সোমবার রাত ১০টার সময় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় কুতুপালং হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় দেওয়া হিন্দু নেতা বাবুল শর্মা’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশ্রিত মানুষগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে। সারাদিনই তারা আর্তনাদ করেছেন।’ তারা লাশ শনাক্ত করতে দেশে ফিরতে চায় বলেও, জানান তিনি।

কথা হয় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং হিন্দুপাড়ায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা সুরেধন পাল (৬০), বিদুরাম পাল (৪০), সুনীল শীল (১৭), সুটকী বালা (৫০) ও সমুন্ত শীলসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, মিয়ানমারের গণকবরে ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। এতে লাশগুলো শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও তাদের ধারণা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুরা আরও জানান, যে গ্রামে গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে সেই জায়গাটিই তাদের গ্রাম। ফলে, কবর থেকে উত্তোলন করা মৃতদেহগুলো তাদের কোনও না কোনও স্বজনের। তাই স্বশরীরে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে মৃতদেহগুলো শনাক্তের সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় মুসলিম রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি গত ২৯ আগস্ট ১৬৫টি হিন্দু পরিবারের ৫২৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন কুতুপালং একটি মুরগির খামারে আশ্রয় নেন। আশ্রয় নেওয়া হিন্দু পরিবারগুলো বলছে, রাখাইনে মুসলিমদের পাশাপাশি তাদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মুখোশ পরিহিত কিছু লোক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে লুটপাট চালাচ্ছে। ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।