ডুমুরিয়ায় গৃহবধু হাফিজা মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ মাস পর থানায় হত্যা মামলা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ||

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: ডুমুরিয়ায় গৃহবধু হাফিজা বেগম (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ মাস পর আদালতের নির্দেশে থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। এদিকে মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার বিবরন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের শোলগাতিয়া গ্রামের হতদরিদ্র আজিবুর রহমান মোল্যার একমাত্র মেয়ে হাফিজা বেগমের সাথে ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের আইতলা গ্রামের আতিয়ার রহমান শেখের পুত্র বাবুল শেখের গত চার বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকর সহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা যৌতুক দেয় তার পিতা। বছর দুই পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় মরিয়ম খাতুন নামের এক কন্যা সন্তান। এরপর থেকে হাফিজা বেগমের স্বামী, শ^শুর ও শাশুড়ী মিলে আরও যৌতুক আনার জন্য বিভিন্ন সময় মারপিঠ ও  চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল স্বামীর দাবীকৃত টাকা অনতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী বাবলু শেখ (২৫), শ^শুর আতিয়ার রহমান (৫৫) ও শাশুড়ী জাহানারা বেগম (৪৫) গৃহবধু হাফিজাকে পিটিয়ে ও শ^াসরোধ করে হত্যা করেছে বলে হাফিজার পিতা মামলায় জানান। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেলে আমার মেয়েকে মোবাইল করে কোন খবর না পেয়ে এসে পাশের লোক বলে তোমার মেয়ে অসুস্থ হাসপাতালে আছে। তাৎক্ষনিক ডুমুরিয়া হাসপাতালে গিয়ে দেখি বারান্দায় মেয়ের মৃতদেহ ফেলানো তবে শ^শুর বাড়ীর কোন লোকজন ছিলনা। পরবর্তীতে থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরন করেন এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। যার নং-৩১। এ ঘটনায় মেয়ের পিতা আজিবুর মোল্যা বাদী হয়ে পাঁচ মাস পর গত ৫ সেপ্টেম্বর খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন,যার নং-৪৫৭/১৭। মামলাটি দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ওই দিনই মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য ডুমুরিয়া থানার ওসি’কে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক থানা অফিসার ইনচার্জ গত ১১ সেপ্টেম্বর বাবলু শেখ, আতিয়ার শেখ ও জাহানারা বেগমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ (সংশোধিত/২০০৩ (ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করেন। মামলা নং-০৭। মামলা রেকর্ডের পর আসামীদের গ্রেফতার না করা প্রসঙ্গে মামলার বাদী আজিবুর মোল্যা অভিযোগ করে বলেন মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। এ ছাড়া আমার মেয়ের ১১ মাস বয়সী একমাত্র মেয়ে মরিয়াম খাতুনকে তারা কোথায় রেখেছে তাও আমাকে বলছে না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সেপেক্টর তদন্ত আব্দুল খালেক জানান, মামলা তদন্ত চলছে এবং আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।