গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আরইবি’র


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ ||

 

গণশুনানিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এছাড়া ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়। অন্যদিকে, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরী মূল্যায়ন কমিটি ইউনিট প্রতি দাম সাত দশমিক ১৯ শতাংশ বা ৪৪ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে অভিমত দিয়েছে।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) কাওরান বাজারে টিসিবি মিলনায়তনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে আয়োজিত ধারাবাহিক গণশুনানির তৃতীয় দিনে এই প্রস্তাব করা হয়।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরইবির মেজর জেনারেল চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য রহমান মুরশেদ, মাহমুদউল হক ভুইয়া, আব্দুল আজিজ খান ও মিজানুর রহমান, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শামসুল আলম।

গণশুনানিতে আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন,‘বিদ্যমান পাইকারি ট্যারিফ বিবেচনা করে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।’ ট্যারিফ বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনবল খরচ বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত খবচ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত অপচয় খরচ,পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে।’

আরইবি চেয়ারম্যান জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে নিট খুচরা সরবরাহ ব্যয় ইউনিট প্রতি ছয় দশমিক ৭০ টাকা। বিদ্যমান খুচরা ট্যারিফ ইউনিট প্রতি ছয় দশমিক শূন্য পাঁচ টাকা, ইউনিট প্রতি ঘাটতি শূন্য দশমিক ৬৫ টাকা।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন,‘সেবা না বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। এমনিতেই গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এরপর রয়েছে লোড শেডিং। তাই দাম না বাড়ানোই উচিত।’

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গণশুনানির দ্ব্তিীয় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরী মূল্যায়ন কমিটি ইউনিট প্রতি দাম ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ৭২ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে অভিমত দেয়।

গণশুনানির প্রথম দিন সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পিডিবি’র উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় পাঁচ টাকা ৫৯ পয়সা। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাবে পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ চার টাকা ৮৭ পয়সায় বিক্রি করে। এতে দেশের একক পাইকারি বিদ্যুৎ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান পিডিবি’র ইউনিট প্রতি আর্থিক লোকসান ৭২ পয়সা। চলতি অর্থ বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের প্রাক্কলিত সরবরাহ ব্যয় ধরেছে ইউনিট প্রতি পাঁচ টাকা ৯৯ পয়সা। এ হিসেবে ইউনিট প্রতি লোকসান হবে এক টাকা ৯ পয়সা। এই আর্থিক ক্ষতি সমন্বয় করার জন্যই পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত বলে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ শুনানিতে উল্লেখ করেন।

২০১৬-১৭ বছরের হিসেবকে ভিত্তি ধরে পিডিবির প্রস্তাব যাচাই বাছাই করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি চলতি বছরের জন্য পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৫৭ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে।

এদিকে, বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা গণশুনানির প্রথম দিনে বলেছেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি যেসব ব্যয় বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সেগুলোর ভিত্তি নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনে, ভর্তুকিকে ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে ও ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যয় বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের মতে, বাড়তি ও অযাচিত ব্যয় বাদ দিলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কমবে।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ২৮ সেপ্টেম্বর ডিপিডিসি, ২ অক্টোবর ডেসকো, ৩ অক্টোবর ওজোপাডিকো এবং ৪ অক্টোবর নওজোপাডিকোর খুচরা মূল্য পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি।

চলতি বছর মার্চে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠায় বিতরণ কোম্পানিগুলো। পাইকারি পর্যায়ে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। গ্রাহক পর্যায়ে ডিপিডিসি ছয় দশমিক ২৪, ডেসকো ছয় দশমিক ৩৪, ওজোপাডিকো ১০ দশমিক ৩৬ ও আরইবি ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে।