আশা করছি সব রোহিঙ্গা নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত যাবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ ||

 

পরারাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গা নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত যাবে। আমরা চাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিক।’

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিরাপত্তা পরিষদের ৯ সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত এজেন্ডা হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলোচনা হবে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সংবেদনশীল করতে বুধবার এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, সুইডেন, ইতালি, মিসর ও জাপানের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। এজন্য আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করছি। নিরাপত্তা পরিষদে নির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবটি জাতিসংঘে আমাদের স্থায়ী প্রতিনিধি তুলে ধরবেন বলে আশা করছি।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের সময়ে ওই পাঁচ দফা পেশ করেন।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির দফতরের ইউনিয়ন মন্ত্রী ইয়ো টিন্ট সোয়ের ঢাকা সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আসবেন। এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান তাহলে তার সফর একটু পিছিয়ে যেতে পারে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হলে পরবর্তীতে দেখা হতে পারে।

এর আগে বুধবার সকালে জাপানের পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ই আও হুরি’র সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বাংলাদেশের বিষয়টি আমরা সেখানে তুলে ধরেছি।’

জাপানের ভাইস মিনিস্টার বলেন, ‘এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবো।’

প্রসঙ্গত, আগস্ট ২৫ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। তারও আগে থেকেই নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিল।