মুক্তামনির মূল অপারেশন শেষ, রবিবার থেকে স্কিন ড্রাফটিং


প্রকাশিত : অক্টোবর ৭, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক: অবশেষে স্বাভাবিক আকার পেতে যাচ্ছে মুক্তামনির হাত। যে হাতের তীব্র ব্যাথায় দিন-রাত চিৎকার করতো মুক্তা, যে হাতে পোকা ঘুরে বেড়াতো, মুক্তামনির সেই হাতে মূল অপারেশন সম্পন্ন হয়েছ। আগামী রবিবার থেকে শুরু হবে স্কিন ড্রাফটিং।

এদিকে, হাত ভালো হওয়ার পরই মুক্তা প্রথম ছোট ভাইকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যে এতোদিন তার চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও কোলে নিতে পারতো না মুক্তামনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আগামী রবিবার মুক্তামনির হাতে স্কিন ড্রাফট করা হবে। ফলে মুক্তা মনির হাত ফিরে পাবে স্বাভাবিকতা।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে ছিল। গত চার বছর ধরে এই হাতের ‘বোঝা’ বয়ে বেরিয়েছে মুক্তামনি। শরীরের অসহ্য যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক কোনও জীবন ছিল না। এই রোগের সঙ্গে সে রক্তশূণ্যতা ও অপুষ্টিতেও আক্রান্ত ছিল।


মুক্তামনির কী অসুখ জানেন না চিকিৎসকরাও!’ এই শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। পরে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই এগিয়ে এসেছেন, হাত বাড়িয়েছেন মুক্তার চিকিৎসায়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মুক্তার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেন। গত ১০ জুলাই বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাড়িতে গিয়ে মুক্তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে ওইদন রাত ১১ টার দিকে মুক্তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর গত ১২ জুলাই মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য আট সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হলে তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে সফলভাবে মুক্তামনির তিনটি অপারেশন শেষ করেছেন চিকিৎসকরা। করা হয়েছে কয়েকবার ড্রেসিং।

শুক্রবার ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আগামী রবিবার এবং মঙ্গলবার মুক্তামনির হাতে স্কিন ড্রাফটিং এর কাজ করা হবে। শরীরের অন্য জায়গা থেকে চামড়া কেটে হাতে লাগানো হবে, এতে করে হাতটি স্বাভাবিকতা হয়ে যাবে।

তাহলে কি মুক্তামনির হাতে অতিরিক্ত কোনও মাংসপিন্ড নেই? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুক্তামনির হাতের মূল অপারেশনের কাজ শেষ। গতকাল বৃহষ্পতিবার তার হাতের ড্রেসিং করা হয়েছে। তখন দেখেছিলাম, হাত একেবারে পরিস্কার। তবে যতোটুকু বাড়তি টিস্যু রয়েছে সেগুলো কেটে ফেলে চামড়া লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সব সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার একত্রিত হয়েছিলেন মুক্তামনির চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে। সেখানেই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে আগামী রবিবার থেকে চামড়া লাগানো প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। চামড়া লাগানোর পর মুক্তামনি স্বাভাবিক সব কাজই করতে পারবে বলে আশা করছি।

এদিকে, মুক্তামনির বাবা মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘স্যাররা (চিকিৎসকবৃন্দ) আমাদের বলেছেন, আগামী রবিবার আমার আম্মুজানের (মেয়েকে আম্মুজান বলেই ডাকেন বাবা ইব্রাহীম হোসেন) হাতে চামড়া লাগানো শুরু করবেন তারা। এতে করে হাতটি আমাদের হাতের মতো হয়ে যাবে। আমার আম্মুজান এটা শোনার পর থেকেই কেমন যেন করছে। সে বারবার আমাদের জিজ্ঞেস করছে তার হাতটি ভালো হয়ে যাবে কিনা। আজ সারাদিন ধরে সে বলছে, হাত ভালো হয়ে গেলে সে আবার আগের মতো স্কুলে যাবে, নিজের হাতে চুল আচড়াবে আর ছোটভাইকে কোলে নেবে। আজ থেকেই মেয়েটা আমার হাসিখুশী হয়ে উঠেছে। আপনারা সবাই আমার আম্মুজানের জন্য দোয়া করবেন। মেয়েটার মুখের হাসি যেন আর থেমে না যায়।’