শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী আসিফের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার স্যলভেজ আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০১৭ ||

আব্দুস সামাদ: জেলার শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার স্যলভেজ (পুরাতন মালামাল) আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে সুবিধা দিয়ে এস্টিমেটে কম টাকার স্যলভেজ দেখিয়ে এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালকের নিদের্শে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়ে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলী করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
কার্যাদেশ থেকে জানাযায়, খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউপি থেকে হরিনগর হাট ভায়া ধুমখালি রোড প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তার হেরিং বন্ড তুলে নতুন করে পিচ রাস্তা করার টেন্ডার আহবান করা হয়। সর্ব নি¤œ দরদাতা হিসেবে ঢাকার মিরপুরের মেসার্স রাবেয়া ট্রেডার্স কার্যাদেশ পায়। কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ হয় ২ কোটি ৭৩ লাখ ৫২ ৬শ ৬৮ টাকা ৭৫ পয়সা। চলতি বছরের ২১ জুন থেকে কাজ শুরু করে আগামী বছরের ২০ জুন এর মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। উক্ত রাস্তায় পুরাতন ইটের হেরিং বন্ড স্যলভেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ৮শত ৫৮ টাকা। যা প্রকৃত মূল্য থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা কম।
অভিযোগ রয়েছে বাহিরাগত ঠিকাদার নিযুক্ত করে কম টাকার স্যলভেজ দেখিয়ে বাকি টাকা উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে আত্মসাৎ করেছে এমন অভিযোগ এনে প্রকল্পের পিডি বরাবর একটি অভিযোগ করে এলাকাবাসি। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে একটি তদন্ত দল রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত দল রাস্তায় কম পরিমান স্যলভেজ ধরা হয়ে এ ঘটনার আংশিক সত্যতা পায়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল ওহাবকে বদলি করা হয়েছে। তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলী করা হলেও এ ঘটনার মূল হোতা উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরুদ্ধে আজও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এছাড়াও আরো কয়েকটি রাস্তায় কম স্যলভেজ দেখিলে ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শ্যামনগরের উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফের বিরেুদ্ধে। তিনি অনেক রাস্তায় মাটির কাজ থাকলেও তা টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মহিলা কর্মিদের দিয়ে মাটি ভরাট করিয়েও টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে কয়েক জন ঠিকাদার বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী বাইরে থেকে ঠিকাদারে এনে তাদের স্যালভেজ কম দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। এবং রাস্তায় যে মাটি দেওয়ার কথা তাতে বাজেট থাকলেও তিনি অন্য প্রকল্পের লোক দিয়ে কাজ করিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। সাতক্ষীরা ঠিকাদার হলে তিনি এভাবে টাকা আদায় করতে পারবেন না বিধায় বহিরাগত ঠিকাদারদের তিনি কাজ পেতে সহযোগীতা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. শোকর আলী বলেন, এ রাস্তায় যে এত টাকার স্যলভেজ থাকতে পারে সেটি আমাদের ধারণায় ছিল না। তদন্ত করতে আসলে বিষয়টি আমরা জানতে পারি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মো. আসিফ বলেন, এটি তেমন কোন বড় বিষয় না। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে বড় করে দেখানো চেষ্টা করছে। তবে তিনি এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান বলেন, যে রাস্তায় কাজ হচ্ছে সে রাস্তা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হয়েছে। যে টুকু সমস্যা আছে তা বিচার বিশ্লেষণ করে বাড়তি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।