কলারোয়ায় বেহাল সড়কে জনদূর্ভোগ চরমে


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের সড়কে কলারোয়া উপজেলার পৌরসদর থেকে শুরু করে কেরালকাতা ইউনিয়নের কোটার মোড়-সংলগ্ন ইলিশপুর পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা চরম আকার ধারন করেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে জেলার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। কলারোয়া উপজেলা সদর হয়ে কোটা মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ ১০ বছর সংস্কার না হওয়ায় ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে। অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যানবহন চলাচলের। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা রাস্তাটির কোন ও কোন ও অংশে একেবারেই পিচ নেই। মহাসড়কের অধিকাংশ জায়গা খানা-খন্দকে ভরে উঠেছে। রাস্তার ওপর সৃষ্টি হওয়া গর্তে পড়ে প্রায়ই অকেজো হয়ে যাচ্ছে যানবাহন। জীবনহানির দুর্ঘটনাও নিত্য ঘটছে এই মহা-সড়কে। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় ভোমরা স্থলবন্দরে ভোমরা বন্দর হয়ে প্রচুর মালামাল ভারত-বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি হয়। বিশেষ করে ভোমরা দিয়ে পাথর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ভারি মালামালের ট্রাক প্রতিদিন ছুটছে এই রাস্তা দিয়ে। সাতক্ষীরা শহর ও দক্ষিণের অন্যান্য জনপদ থেকে রাজধানীসহ দেশের উত্তর এবং অন্যান্য স্থানে যাওয়ার প্রধান সড়ক ও এটি।যশোর সাতক্ষীরা মহাসড়কের কলারোয়া অংশের ১২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ০৫টি কলেজসহ কয়েকটি হাইস্কুল ও প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চলাচল রাস্তাটিতে, পথ চলতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন তারা। রাস্তার গর্তে জমে থাকা বর্ষার পানি ছিটকে অনেকের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। আবার পানি না থাকলে ধুলোয় একাকার হয়ে যায় চারদিক।রাস্তাটির করুণ দশা হওয়ায় ছোট ছোট যানবাহনের ভাড়াও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আধাঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ঘণ্টারও বেশি।সরেজমিনে দেখা যায়, কলারোয়া উপজেলার কোটার মোড় পার হয়ে ঠাকুরবাড়ি মোড় পর্যন্ত, জামালের মোড় থেকে ব্রজবকস বাজার পর্যন্ত,হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শেখ আমানুল্লাহ কলেজ পর্যন্ত, কলারোয়া পৌরসদরের প্রাণীসম্পদ হাসপাতালের সামনে থেকে হোসেন তেল পাম্প পর্যন্ত খানা-খন্দক বেশি। সড়কের এসব স্থানে যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটে চলাও ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তায় চলাচলকারী এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, এই সড়কটি কমপক্ষে দশ বছর সংস্কার হয়নি তাই এই করুণ অবস্থা। এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগি পথচারিরা জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
কলারোয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যশোর-সাতক্ষীরা মহা-সড়কটির কিছু অংশে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আরো কিছু ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামতের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন বরাদ্দ আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, বরাদ্দ এলে রাস্তাটি পুরো ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ইউরেকা তেল পাম্প এলাকায় ০১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের ২০ দিনের মধ্যেই নতুন করে খানা-খন্দক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দৃষ্টিতে আনলে এই প্রকৌশলী বলেন, ওই সমস্ত জায়গার কাজ এখনো শেষ হয়নি, চলমান রয়েছে আমরা অভিযোগের বিষয়টি ঠিকাদারকে অবহিত করবো।