অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত বেনাপোলের কদমবিল


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১৭ ||

 

এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): মৌসুমী বায়ুর পালাবদলে আগাম শীতের আগমনে শার্শার দুর্গাপুর কদমবিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে ডমকুর সরাইল, পানকৌড়ি, বক, কাসতেচুড়াসহ হাজার হাজার দেশ বিদেশী অতিথি পাখি। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত বিল দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন পাখিপ্রেমী দর্শণাথীরা। উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক দৃশ্য। পাখির কিচির মিচির আওয়াজে মুখরিত এলাকা। মুগ্ধ হচ্ছে আগতরা। মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল মান্নান বলেন, অনেকদিন থেকে শুনে আসছেন ভারত ঘেষা গ্রাম কদমবিল পাখির অভয়াশ্রম। ঘুরতে এসে দেখলেন মনোরম দৃশ্য। ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে পাখি। তারা বসছে ঘাসের নিড়ে। রং বেরংয়ের পাখির কিচির মিচির ও পাখামেলে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অভিভুত তারা। তবে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কেটে ফেলা হয়েছে গাছপালা। বিলিন হতে চলেছে অভয়াশ্রম।

বেনাপোল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্ত বেষ্টিত দুর্গাপুর গ্রামের কদম বিল। এ বিলের ৫০গজ দুরেই ওপারে ভারতের কাটা তারের বেড়া। এপারে এবিলে ৭৫ বিঘা জলাশয়ে গোলাম মোর্সেদের মাছের ভেড়ী। কেওড়া বেষ্টিত জলাশয় ও সবুজ বেষ্টনিতে ঘেরা ভেড়ী। ভ্যান মটরসাইকেল ও ইজিবাইকে চড়ে যাওয়া যায় এ বিলে। নিরাপদ ও এলাকাবাসির কড়া নজরদারী থাকায় এখানে পাখির অভয়ারন্য গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর শীতের আগেই ঝাকে ঝাকে আসতে শুরু করে দেশী ও বিদেশী অতিথি পাখি। দৃষ্টিনন্দন ও মনোরম দৃশ্য দেখতে  গ্রাম ও শহর থেকে অতিথি পাখির অভয়াশ্রমে প্রতিদিন আসছে শতশত মানুষ। পাখিরা সন্ধ্যায় ফিরছে নীড়ে। সকালে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে উড়ে। পাখির এই কিচির মিচির ও উড়ে যাওয়া দৃশ্য দেখে বিমোহিত তারা। তবে সম্প্রতি এখানের বন উজাড়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতাকে দুষছেন দর্শণার্থীরা।

স্থানীয় কামরুল ইসলাম ও শামিম আহম্মেদ বলেন, গ্রামবাসি সচেতনতা ও গোলাম মর্শেদের পাখির প্রতি ভালবাসা ও নিরেট দরদের কারণে কদমবিলে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। বিলে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তিনি। এখানে হচ্ছে অনেকের কর্মসংস্থান। মনোরম ও নিরিবিল পরিবেশ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন পাখিপ্রেমী মানুষ। সহযোগিতা করছেন তারা।

লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন শান্তি বলেন, ভেড়ীতীরে লাগানো হয়েছে স্লোগান সম্বলিত সাইনবোর্ড। লেখা হয়েছে ওদের মেরোনা বাঁচতে দাও গাইতে দাও, ওরা বাঁচলে বজায় থাকবে পরিবেশের ভারসম্য আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়ালু হও পাখিকে ভালবাসো। সমাজ সেবক ও প্রাণি দরদী মানুষ গোলাম মোর্সেদ। তিনি মাছ চাষের জলাশয়ে গড়ে তুলেছেন পাখির অভয়াশ্রম। ভারতসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাখিরা বাস করছে নিরাপদ জলাশয় ও বৃক্ষ রাজির নীড়ে। পাখির কিচির মিচিরে মুগ্ন হচ্ছে দর্শণার্থী ও পাখি প্রেমী মানুষ। যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতিসহ বৃক্ষ সংরক্ষণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। শার্শা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। শার্শার কদমবিলে সুরক্ষা থাকায় আসছে লাখো পাখি ফলে বাড়ছে দর্শণার্থী। স্থানীয়দের সচেতনতায় এখানে নিরাপদে আসছে পাখি।