চম্পাফুল কালিবাড়ি বাজারে পাঁচটি দোকান ভাঙচুর: চারজনকে পিটিয়ে জখম


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১৭ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলখানা থেকে বের হওয়ার দু’ঘণ্টা পার না হতেই প্রতিপক্ষের একটি দোকান ঘরে নগদ টাকাসহ দু’লক্ষাধিক লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে পাঁচটি দোকানঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি ঔষধের দোকান। লুট করা মাল নিয়ে যেতে ও ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল কালিবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার গোদাড়া গ্রামের আমিনউদ্দিন সরদারের ছেলে শাহীনুর সরদার (৪৮) ও নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে তানভির সরদার (২৫)।

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স চিকিৎসাধীন শাহীনুর সরদার জানান, ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট রেজিষ্ট্রি দলিল মুলে চম্পাফুল গ্রামের হিমনাথ মন্ডলের কাছ থেকে তিনিসহ তার তিন ভাই চম্পাফুল মৗজায় ডিপি ৪৪১ খতিয়ানের ৩৩ ও ৩৪ দাগে এক একর ৫৮ শতকের মধ্যে সোয়া ১০ শতক জমি কেনেন। ওই জমিতে সনাক্তকারি হিসেবে চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও সাক্ষী হিসেবে হিমনাথ মন্ডলের ছেলে পরিতোষ মন্ডল সাক্ষর করেন। নকশা অনুযায়ি ওই জমির মধ্যে কালিবাড়ি বাজারে কালিবাড়ি থেকে উজিরপুরগামী দু’শতক জমি রয়েছে। যাতে তাদের পাঁচটি দোকান ঘর রয়েছে।

তিনি আরো জানান, বাবা হিমনাথ মন্ডলের মৃত্যুর পর ছেলে পরিতোষ মণ্ডলের কাছ থেকে চলতি বছরের পহেলা মার্চ চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের ছেলে আশীকুল গাইন, আরিফুল গাইন, ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম ও গ্রাম ডা. আশোক রায় একই দাগে দু’শতক জমি কেনেন। বন্টননামা না থাকায় চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও ইউপি সদস্য আব্দুল কায়ুম তাদের দোকানঘর থাকা দু’শতক জমি জবরদখল করার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে গত ২৭ এপ্রিল তার ভাই রেজাউল ইসলাম বাদি হয়ে কালিগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে দেওয়ানী মিস-৩৭/১৭ নং মামলা (আমানত) করেন। সম্প্রতি তারা একটি দোকান ঘর সংস্কার করে তাতে ভাইপো তানভির হোসেন চাল, কুড়া ও তুষের ব্যবসা করে আসছিলো। অন্য চারটি দোকান ঘর সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউপি’র সদ্য কারামুক্ত চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন  হামলা, ভাঙচুর লুটপটের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় এক হিন্দুর জমি দখল করে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে জবর দখল করে রেখেছিল। সোমবার স্থানীয় লোকজন তা অপসারণ করে জায়গা খালি করে দিয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর দত্ত জানান, খবর পেয়ে উপপরিদর্শক হেকমত আলীকে সোমবার রাত ৯টার দিকে কালিবাড়ি বাজারে পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।