শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ অভিভাবকদের: সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স সীমায় আটকে গেছে হাজার হাজার শিশুর লেখাপড়া


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বয়স আট বছর পার না হলে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না সরকারের এমন ঘোষণার মুখে আটকে গেছে দেশের অগণিত শিশু শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। আসন্ন ভর্তির জন্য আবেদনের নির্ধারিত দিনের মধ্যে তাদের বয়স সংশোধিত না হলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তাদেরকে আরও একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে এক বছর পর শিশুর বয়স নয় বছর পার হয়ে যাওয়ায় ভর্তির যোগ্যতা এমনকি আবেদন করার যোগ্যতাও হারাবে সে।
সাতক্ষীরার শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন শিশুর নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহন করে ভর্তির সুযোগ নিয়েছে কেউ কেউ। তবে সচেতন অভিভাবকরা বলছেন তাদের শিশুর সাথে এমন প্রতারনা অনৈতিকতার শামিল। তারা অবিলম্বে শিশুর বয়স বিধি অনুযায়ী সংশোধন করে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা এ ব্যপারে সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অভিভাবকরা জানান, তাদের অনেক শিশু তিন বছর পার হতেই কেজি স্কুলে প্লে গ্রুপে ভর্তি হয়েছে। এ সময় টিকা কার্ড বিতরণকালে তার বয়স নির্ধারণ করা হয়। এরপর কেজি, কেজি ১ এবং কেজি ২ পেরিয়ে শিশুটি এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়বার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ সময় তার বয়স হয়েছে সাত বছরের অধিক। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী তার বয়স আট বছর পার না হলে সে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না। সরকারের এই নির্দেশের ফলে আট বছরের নিচের বয়সী শিশুদের বয়স সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অথচ সরকারি বিদ্যালয় সমূহে ভর্তির আবেদনপত্র দাখিলের শেষ ১৪ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবার নির্দেশনা রয়েছে। এই অতি সামান্য সময়ের মধ্যে বয়স সংশোধন না হলে শিশুটিকে পরের বছরের জন্য বসে থাকতে হবে অথবা একই ক্লাসে থাকতে হবে। এতে শিশুর ওপর মনস্তাত্বিক চাপ পড়বে বলে জানান অভিভাবকরা। তারা বলছেন শিশুটির ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাকে সরকারি বিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
সাতক্ষীরার একটি শিশুর অভিভাবক সৈয়দ হাসান মাহমুদ জানান টিকাকার্ড অনুযায়ী তার শিশুর জন্ম তারিখ ৩১.১০.২০১০। কেজি ২ পার করার পর এখন তার বয়স সাত বছরের অধিক। বিধি অনুযায়ী তার বয়স এক বছর কমানোর জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তা সংশোধিত হয়ে আসতে এক বছরও পার হতে পারে। সংশোধিত হলে সে সময় শিশুটির বয়স দাঁড়াবে নয় বছরে। তখনও সে ভর্তির যোগ্যতা হারাবে। অভিভাবকরা জানান সাতক্ষীরায় এমন শিশুর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত তারা। এ ব্যপারে তারা সরকারের নীতিমালা শিথিল করনে দাবি তুলেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ছয় বছর। সে অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে তাকে আট বছর পার করতে হবে। তিনি বলেন বয়সের নি¤œ সীমা নির্ধারন করার সুযোগ নেই। অপরদিকে শিশুদের বয়স কম দেখাতে বয়স সংশাধনের বিষয়টিও সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন সরকারি নির্দেশনা কিছুটা শিথিল করা গেলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি মন্ত্রনালয়ে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জন্মনিবন্ধন করার দায়িত্বে থাকা একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সরকারের সাথে থাকা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান দায়িত্বে না আসা পর্যন্ত বয়স সংশোধনের সুযোগ থাকছে না। সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহন জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতেও পারে। ফলে আট বছরের কম বয়সী শিশুর বয়স সংশোধিত হলেও তখন ভর্তির সময় থাকবে না। সে ক্ষেত্রে তাকে একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। এক বছর পর তার বয়স হবে নয় বছর। শিশুর ভবিষ্যতের জন্য সেটি কোনো অনুকূল বিষয় নয়। সে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সব সুযোগ হারাবে।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বাইরে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। তবে কেবলমাত্র সরকার বিষয়টি শিথিল করলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।