একের পর এক উদ্ভাবন করে চলেছেন কপিলমুনির কৃষক আজিজুর


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ ||

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: বসে নেই কপিলমুনির ক্ষুদে কৃষি বিজ্ঞানী মো. আজিজুর রহমান। একের পর এক নতুন নতুন উদ্ভাবন করেই চলেছেন। তিনি মেহগুনি বীজ হতে তৈল আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, এই তৈল পরিবেশ সম্মত এবং কীটনাশক এর বিকল্প হিসেবে সবজিতে ব্যবহার করা যাবে এবং এর খৈল দ্বারা ঘেরের ক্ষতিকর জীবানুমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণায় জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করলেও তার ভাগ্যে আজও জোটেনি সরকারি স্বীকৃতি।

জানা যায়, খুলনা জেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজীমুছা গ্রামের মোঃ আনছার আলী মোড়লের ছেলে মো. আজিজুর রহমান। ছোট বেলা থেকে ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির। বাল্যকাল কাটিয়ে উঠে তিনি যখন পা বাড়ালেন শৈশবে, আর তখন থেকেই জীবনটাকে অন্য কায়দায় উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। শৈশবে যখন ছেলেদের মনে উদ্যাম বাসনা, সময় কাটে খেলাধূলা করে আর ঘুরে বেড়িয়ে সে সময় মো. আজিজুর রহমান ভেবেছেন বৃহত্তর কৃষকগোষ্ঠীর জন্য কিছু করার কথা। তিনি ভেবেছেন কিভাবে জীবনের মূল্যবান সময় মানুষের জন্য কাজে লাগনো যায়। সাধনা শুরু করলেন, তিনি একের পর এক আবিষ্কার করেন জৈব ও বালাই নাশক কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি ও ভার্মি সার, কম্পোজ মিশ্র সার, গবাদি পশুর জৈব খাবার। যা ব্যবহারে  পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না। এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পাইকগাছা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন মোল্লা বলেন, আজিজুরের উদ্ভাবন নিয়ে পূর্বে ফলাও করে পত্রিকান্তে প্রকাশ ও টেলিভিশনের পর্দায় আজিজুরের আবিষ্কার নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন সম্প্রচার হয়েছে। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিশেষ কোটায় আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছেন। আম ও ধানের ভাল ফলনের জন্য ঔষধ  ও মাছের জৈব খাবার আবিষ্কার করেছেন। যা ব্যবহার করে এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন’। দক্ষিণ সলুয়া গ্রামের আল্লাদ শিকদার, গলডাঙ্গার আব্দুল করিম, বিরাশীর সরদার কামাল, উত্তর সলুয়ার আফছার শেখ ও অর্জুন কর্মকার তার উদ্ভাবিত ঔষুধ ধান ও আমে ব্যবহার করে ফল ভাল হয়েছে। হরিঢালী আইপিএম ক্লাবের প্রশিক্ষক আব্দুর রহিম ও আলমগীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, মো. আজিজুর রহমান তার উদ্ভাবিত ধান ও আমের ওষুধ ব্যবহার করে আমরা অনেক বেশি ফলন পেয়েছি। হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়া গ্রামে অর্জুন কর্মকার বলেন, আমরা মৎস্য ঘেরে মো. আজিজুর রহমানের উদ্ভাবিত জৈব খাদ্য প্রয়োগ করে মাছ অধিক মোটাতাজা হয়েছে। সম্প্রতি পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা এইচ এম মোজাহার আলী সরেজমিনে আজিজুরের উদ্ভাবনস্থল ও তার বাড়িতে পরিদর্শনে যান এবং ভূয়সী প্রশাংসা ও তার সাফলতা কামনা করেন। উদ্ভাবন নিয়ে মো. আজিজুর রহমান প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমার দীর্ঘ দিনের সাধনার ফল ধানের জন্য কুইক কম্পোজ, ইমু, বুকাশি, ভার্মি সার, আম এবং মৎস্য ও গরুর জৈব খাবার উদ্ভাবন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমার কর্মের উপর আজও সরকারি স্বীকৃতি ও সাহায্য মেলেনি। এ কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ধরণের মেশিনপত্র প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারি সাহায্যের জন সংশ্লিষ্টকর্তার সুদৃষ্টি চাই।