ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ’র ৩০বর্ষ বিশেষ সংখ্যা’র মোড়ক উন্মোচন ও স্মরণ সভায় বক্তারা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সজ্জল ব্যক্তিত্ব মুফতি আব্দুর রহিম কচি


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৯, ২০১৭ ||

আব্দুর রহমান: ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ’র ৩০বর্ষ বিশেষ সংখ্যা’র মোড়ক উন্মোচন ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে ‘মুফতি আব্দুর রহিম কচি’ সংখ্যা’র মোড়ক ও স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।
ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ’র সভাপতি পলটু বাসার’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক ভাষা গবেষক কাজী মুহম্মদ অলিউল্লাহ, সাতক্ষীরা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রি ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মো. আনিছুর রহিম, কবি পুত্র মুফতি মখদুম রহিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘প্রখ্যাত সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার ও সৃজনশীল সম্পাদক মুফতি আব্দুর রহিম কচি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। যিনি নিজের আলোয় সজ্জল করেছেন সাহিত্যঙ্গণ ও সাংবাদিকতা। সাহিত্য সম্পাদনায় তিনি সুদূরস্পর্শী অবদান রেখে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক দখিনায়ন’ পত্রিকাটি ছিলো গণমানুষের প্রাণ। শুধু তাই নয়! তিনি জন্ম দিয়েছেন কবিতাকুঞ্জ, সপ্তর্ষি থিয়েটার ও সকাল নাট্যগোষ্ঠীসহ বহু সংগঠন। সাতক্ষীরা জেলার তরুণ প্রজন্মের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে মুফতি আব্দুর রহিম কচি।
১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার শাহজাতপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুফতি আব্দুর রহমান ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা ও মাতা শোকর বানু গৃহীনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে মুফতি আব্দুর রহিম কচি ছিলেন মেজ।
১৯৬৮ সালে সাতক্ষীরা পি.এন হাইস্কুল থেকে মুফতি আব্দুর রহিম কচি ম্যাট্রিট (বর্তমানে এস.এস.সি) পাশ করেন এবং ১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমানে এইচ.এস.সি) পাশ করে আর লেখাপড়া করেন নি।
মুফতি আব্দুর রহিম কচি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আমি খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখেছি, তিনি ছিলেন সদালাপি, নম্্র ও ভদ্র স্বভাবের। সততা ও নিষ্ঠা ছিলো তাঁর অহংকার। তিনি ইচ্ছা করলে সরকারি কোন উচ্চ পদে চাকরি করতে পারতেন কিন্তু সাহিত্য ও সাংবাদিকতার প্রেমে তিনি কখনো তা ভাবেননি। কবি হিসেবে মুফতি আব্দুর রহিম কচির লেখনীতে যে স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা কোনো পাঠক অস্বিকার করতে পারবে না। তিনি সর্বদা বিশ্বাস করতেন সৃষ্ট সাহিত্যকর্ম যদি মানসম্পন্ন হয় তাহলে পদক ও সম্মাননা হেঁটে হেঁটে ঘরে আসবে। তাঁর নিজ কোন গ্রন্থ প্রকাশিত না হলেও তিনি অসংখ্যা লেখা বিভিন্ন পত্রিকা বা সাময়িকীতে প্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখানীর জন্য পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননাও। সাংবাদিক মুফতি আব্দুর রহিম কচি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। সাপ্তাহিক দখিনায়ন পত্রিকাটি তিনি নিজ হাতে সম্পাদনা করে পাঠকের হাতে তুলে দিতেন। ১৯৮০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রথম প্রকাশনা শুরু হয়। কিন্তু সর্বশেষ পত্রিকাটি প্রকাশ হয় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে। এর পরে আর কোন সংখ্যা প্রকাশ হয়নি। সাংবাদিক হিসাবে তিনি সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেন নি। গতানুগতিক সাংবাদিকতায় গা ভাসিয়ে দিলে তিনি বহু আগেই উচ্চাসনে বসতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সাহিত্যে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তিনি রেখেছেন। তেমনি সাংবাদিকতায়ও। প্রবীণ এই সাংবাদিক ৬৬ বছর বয়সে ৩০ জুন, ২০১৭, শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি, লিভার, হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রওশন আরা (গৃহীনি) ও পুত্র মুফতি মখদুম রহিম বাপ্পি (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ন্যাশনাল হাউজ হোল্ড ডাটাবেজ প্রকল্পের আওতায় কর্মরত রয়েছেন) এবং কন্যা ইসমত আরা মুনিয়া (সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী) সহ অসংখ্যা গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। বহুমাত্রিক লেখক ও সাংবাদিক হিসাবে আন্তরিরক শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর সৃষ্টি কালজয়ী হোক এই কামনা বক্তারা।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক গাজী শাহজাহান সিরাজ, কষ্ঠশিল্পী আবু আফ্ফান রোজ বাবু, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শহীদুর রহমান, উদীচী জেলা শাখার সভাপতি শেখ ছিদ্দিকুর রহমান ও জাগ্রত সাতক্ষীরা’র সভাপতি সায়েম ফেরদৌস মিতুল প্রমুখ। কবির লেখা আবৃতি করেন দিলরুবা রুবি। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ’র সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসুদুল হক।