শাহজালালে শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগে যাত্রীরা: আরও দু’দিন ঘন কুয়াশার আশঙ্কা


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২১, ২০১৭ ||

 

 

গত দু’দিনে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত ১১টার পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দীর্ঘসময় ফ্লাইট না ছাড়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। একের পর এক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে না যাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন তারা। এদিকে আরও দু’দিন ঘন কুয়াশার প্রকোপ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ফলে আগামী দু’দিনের আগে কাটছে না এ সংকট। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে বায়ুর ঘূর্ণন বিরাজ করছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, ‘পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে যানবাহন, নৌযান, উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে।’

বিমানব্ন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে প্রায় দশ ঘণ্টা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ ছিল। কোনও কোনও ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে নামতে হয়েছে কলাকাতায়।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম জানান, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কুয়াশার কারণে ভিজিবিলিটি কমে যাওয়ায় উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের পর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ এবং সকাল ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল।’

 

বিমানবন্দরে একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকায় কুয়াশার কারণে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫মিনিটে থাই এয়ারের একটি ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করতে না পেরে ব্যাংককে ফিরে যায়। সৌদিয়ার একটি ফ্লাইট রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে কলকাতায় অবতরণ করে। রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চীনের একটি কার্গো বিমান ঢাকায় নামতে না পেরে চলে যায় মান্দালয়।রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানের রিয়াদগামী ফ্লাইট কুয়াশায় বিলম্বিত হয়ে সকালে ১১টা৩০ মিনিটের দিকে ছেড়ে যায়। ভোর ৪টায় দিকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে চলে যায় কলকাতায়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘন কুয়াশায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বোডিং কার্ড ইস্যুর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কোনও কোনও এয়ারলাইন্স যাত্রীদের খাবার ও পানি সরবরাহ না করায় উত্তেজনা দেখা দেয় তাদের মধ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশকেও বেগ পেতে হয়।

এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়েনের (এএপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার তারিক আহমেদ উস সাদিক বলেন, ‘কুয়াশার কারণে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কুয়াশার মতো প্রাকৃতিক সমস্যায় আমাদের কিছু করার থাকে না। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্যই ঘন কুয়াশার সময় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ট্রানজিট যাত্রী থাকেন, তাদের আরেকটি ফ্লাইটে উঠতে হবে, ফ্লাইট বিলম্বিত হলে তাদের সমস্যা বেশি হয়। তবে, আমরা যাত্রীদের যথাসম্ভব পরিস্থিতি বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। এছাড়া, তাদের খাবার ও পানি যেন এয়ারলাইন্সগুলো সরবরাহ করে, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’