ঝাউডাঙ্গা বাজারে দুর্বার সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে জামায়াত শিবির কানেকশনের অভিযোগ


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্বার সমবায় সমিতির আড়ালে জামায়াত শিবির দীর্ঘদিন ধরে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে। জামায়াতের একাধিক মামলার আসামিরা এ সমিতি থেকে খরচ নিচ্ছে মাসে মাসে। সমবায় সমিতি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা বিভিন্ন এলাকায় চড়া সুদে কারবার করছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে জামায়াত শিবিরের এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় সমবায় অফিস থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপনে সমিতির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শতাধিত জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা দুর্বার সমবায় সমিতির অফিসে গোপন সভা করার সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাশকতার এতাধিক মামলার দুই আসামিকে।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সদরের ঝাউডাঙ্গা বাজারের শরিয়া ভিত্তিক দুর্বার নামে একটি সমবায় সমিতি গড়ে তোলে জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা। ২৪ জনকে পরিচালক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির ৫টি নাশকতা মামলার আসামি পাথরঘাটা গ্রামের আব্দুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি জামায়াতের রোকন দুটি হত্যাসহ ৮টি নাশকতা মামলার আসামি হাছিমপুর গ্রামের মুছা, ক্যাশিয়ার কলারোয়ার বাকসা গ্রামের সাবুর আলি, সদস্য গোবিন্দকাঠি গ্রামের জামাতকর্মী নজরুল ইসলাম, কামারবাসা গ্রামের জামাতের রোকন ৫টি নাশকতা মামলার আসামি ইব্রাহিম হোসেন, গোবিন্দকাঠি গ্রামের জামাতকর্মী নজরুল ইসলাম, কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাঠি গ্রামের জামাত নেতা আব্দুল মহিত খান, ওয়ারিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা আব্দুর রহিমের ছেলে শিবির কর্মী নূরুল বুখারি, গোবিন্দকাঠি গ্রামের জামায়াত কর্মী রেজাউল ইসলাম, পাথরঘাটা গ্রামের জামায়াত নেতা ও ৩টি নাশকতা মামলার আসামি আমিনুর রহমান, গোবিন্দকাঠি গ্রামের শরিফুল ইসলাম, জামায়াত কর্মী পাথরঘাটা গ্রামের আরিজুল ইসলাম, জামাত কর্মী জামায়াত নেতা কামারবাসা গ্রামের শহিদুল্লাহ, কলারোয়া উপজেলার তুলসিডাঙ্গা গ্রামের হুমায়ন কবির, কামারবাসা গ্রামের জামায়াত নেতা আবু মুছা, পাথরঘাটা গ্রামের জামায়াতের রোকন ২টি নাশকতা মামলার আসামি আকছেদ আলি, ওয়ারিয়া গ্রামের জামায়াত নেতা মাও. আব্দুর রশিদ, জামায়াত নেতা গোবিন্দকাঠি গ্রামের জামায়াত নেতা শাহাজদ্দিন, একই গ্রামের জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম ও গোবিন্দকাঠি গ্রামের মাসুম বিল্লাহ।
সমিতি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ি ও লোকজনকে চড়া সুদে কিন্ত করে টাকা দেওয়া হয়। এ অফিস থেকে ২০১৩ সালে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় হামলা, আগুন, রাস্তা অবরোধ, পুলিশের উপর হামলা পরিচালানা করে এই কমিটির সদস্য কলারোয়ার গোয়ালচাতর গ্রামের জামায়াতের শীর্ষ নেতা আহম্মদ আলি। এখান থেকে প্রতিদিন ভাগ ভাগ করে পাঠানো হতো বিভিন্ন এলাকায় হামলার জন্য। খরচ দেওয়া হতো রাতে ও দুপুরের খাওয়া, ভ্যান ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ। সন্ধ্যার পরে জামাতের শীর্ষ নেতারা সভা করতেন সমিতির অফিসে।
২০১৬ সালে একটি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে দুর্বার সমবায় সমিতির আড়ালে জামায়াত শিবিরের কার্যক্রম। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পান তারা। পরে বাতিল করা হয় তাদের টাকা খাটানোর অনুমোদন। গ্রেপ্তার করা হয় ওই সমবায় সমিতির ক্যাশিয়ার একাধিক নাশকতা মামলার আসামি মাও. ইব্রাহিমকে। এরপরও তারা গোপনে চালাতে থাকে তাদের কার্যক্রম।
বাজারের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ঝাউডাঙ্গা দুর্বার সমবায় সমিতির অফিসে শাতাধিক জামায়াত শিবির নেতাকর্মী গোপনে সভা করেছে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য। দুর্বার সমবায় সমিতির আড়ালে তারা জামায়াত শিবিরকে সংগঠিত করেছিল। সমিতির লাভের টাকা দিয়ে তারা নাশকতা মামলার আসামিদের সহযোগিতা করে আসছিল। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই অফিসে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার করা হয় ৩টি নাশকতা মামলার আসামি কামারবাসা গ্রামের আব্দুল হান্নান ও ঝাউডাঙ্গা গ্রামের ৩টি নাশকতা মামলার আসামি ওলিয়ার। পালিয়ে যায় শতাধিক জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা।
সদর থানার এসআই হারুন জানান, গোপন সভা চলাকালে ঝাউডাঙ্গা বাজারের দুর্বার সমবায় সমিতির অফিসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দুই জনকে। পালিয়ে যায় শতাধিক জামায়াতের নেতাকর্মী।