২০১৭ সাল ছিল তালার চিংড়ি চাষীদের জন্য সাফল্যের বছর


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ||

পত্রদূত ডেস্ক: আমাদের দেশের রপ্তানী পণ্যের মধ্যে চিংড়ি অন্যতম। চিংড়ির উৎপাদনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের লবণাক্ত জেলাগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা, জালালপুর, খলিশখালী, মাগুরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিবছর ব্যাপকহারে চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ীর যথেষ্ট চাহিদা থাকায় চিংড়ি চাষীরা ন্যায্য মূল্য পেয়েছে। তাছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছর চিংড়ীর উৎপাদনও হযেছে উল্লেখযোগ্যহারে। তাই চিংড়ি চাষীরা সাফল্যের মুখ দেখেছেন। অনেক বেকার যুবক পেয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের চিংড়ি চাষী রায়হান গোলদার মাত্র নয় বিঘা জমি চিংড়ির ঘের করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন,আমার নয় বিঘা ঘেরে গত বছর তিন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা মাছ বিক্রি হয়েছে। এক লক্ষ সত্তর হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দুই লক্ষ টাকা আমার লাভ। আমি আজ তিন বছর ধরে চিংড়ি চাষ করছি। গত বছর সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছি।
মাগুরা ইউনিয়নের আরও একজন চিংড়ী চাষী মো. খোরশেদ আলম বলেন, আমার পঞ্চাশ বিঘা জমিতে আমি প্রায় বিশ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। আমার আট লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বাকী বার লক্ষ টাকা আমার মুনাফা।
তালা উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন চিংড়ির ঘেরে বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার চিংড়ি রপ্তানীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির চাহিদা সম্প্রসারিত হয়েছে। আমরা উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে চিংড়ি চাষীদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছি। চিংড়ী চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ, খামার তদারকি, ঋণ সুবিধাসহ নানা রকম সহায়তা দিচ্ছি। এছাড়া আমরা চিংড়ি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করছি।
গত কয়েক বছরে চিংড়ি রপ্তানী সেক্টরে যেন ধ্বস নেমেছিল। তালার চিংড়ি চাষীরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির বর্তমান চাহিদা যাতে বজায় থাকে সেজন্য সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে চিংড়ি ব্যবসায়ীদেরকে অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই দেশে চিংড়ি চাষ যেমন বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হবে উল্লেখযোগ্যহারে। চিংড়ি চাষীরা দেখবে আশার আলো।