পরিচ্ছন্নতার নামে টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কেটে বিক্রি


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৯, ২০১৮ ||

 

কুড়িগ্রামে টেন্ডার ছাড়াই সরকারি বেশ কয়েকটি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের কুড়িগ্রাম সফর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা কাজের নামে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ভেতরে এসব গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

গত ৬ জানুয়ারি ও ৭ জানুয়ারি সরেজমিনে কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগে গিয়ে সরকারি গাছ কেটে তা অপসারণের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ভেতরে প্রায় ৩০ বছরের একটি ক্রিসমাস ট্রি, ২৫-৩০ বছরের পুরনো আমগাছ, কাঁঠাল গাছ এবং কয়েকটি মেহগনি, নিম ও পাম গাছসহ ১২-১৫টি গাছ কেটে নিচ্ছেন জাহাঙ্গীর নামে এক ঠিকাদার। তিনি গাছগুলো নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় চত্বর থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। গাছকাটার চিহ্ন মুছে ফেলতে গাছের গোড়া তুলে সেসব স্থানের মাটিও ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। কেটে নেওয়া কিছু গাছের লট গণপূর্ত বিভাগের পাশে নুরু স’মিল এবং পলাশবাড়ি নিমবাগান সড়কের পাশে মোস্তাফা স’মিলে রাখা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

গাছকাটার কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর জানান, তিনি গাছগুলো কিনে নিয়েছেন। টেন্ডার ছাড়া কিভাবে গাছ কিনলেন জানতে চাইলে ওই ঠিকাদার বলেন, ‘অফিসের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আমরা কয়েকজন মিলে এসব গাছ কিনে নিয়েছি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মাওদুদুর রহমান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (উপ বিভাগ-১) মো.শাহিনুর ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.খাইরুল ইসলাম এবং কার্য সহকারী মো.আমির হোসেনের যোগসাজশে এসব গাছ কেটে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা আরও জানান, যে গাছগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো না কাটিয়েও কাজ করা যেত। বন বিভাগের অনুমোদন ও টেন্ডার ছাড়া এভাবে গাছকাটা সরকারি নিয়মবিরোধী।

 

সরকারি গাছকাটার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান জানান, বন বিভাগ থেকে মূল্য নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে টেন্ডার কিংবা নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করতে হবে। এর বিকল্প কোনও নিয়ম নেই।

সরকারি আইন অমান্য করে গাছ কেটে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন গণপূর্ত বিভাগ, কুড়িগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (উপ বিভাগ-১) মো. শাহিনুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে গাছ কাটতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের প্রধান প্রকৌশলীর কুড়িগ্রাম সফরে আসার কথা রয়েছে। তাই অফিস চত্বরের সৌন্দর্য বাড়াতে কিছু গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে।’

 

এ ব্যাপারে জানতে গণপূর্ত বিভাগ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মাউদুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছকাটার বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবো।’