জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত স্টাফ’র বৃত্তি পরীক্ষা অত্যন্ত সুকৌশলে সম্পন্ন হয়েছে


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত স্টাফ’র বৃত্তি পরীক্ষা অত্যন্ত সুকৌশলে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রশ্নপত্র ও খাতাপত্রে তার কোনো নমুনা নেই। পরীক্ষার প্রশ্ন ও খাতাপত্রে কোনো সংস্থা বা দপ্তরের নাম না থাকায় অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে স্টাফ’র নাম। আশাশুনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

তবে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোন কিছুই জানেনা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে পরীক্ষা নেয়া এবং শিক্ষদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে না কোন তথ্য, নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। এনিয়ে আশাশুনিতে রীতিমত গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিভাবকরা জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বড়দল ইউনিয়নে বড়দল কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে, কাদাকাটি ইউনিয়নের কাদাকাটি আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেয়া হয়েছে এ বৃত্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষরা দায়িত্ব পালন করেছে।

তারা আরও জানায়, আমরা জানি যে এটি জামায়াত নিয়োন্ত্রীত প্রতিষ্ঠান স্টাফের বৃত্তি পরীক্ষা। কিন্তু প্রশ্ন তে তেমন কোন কিছু লেখা নেই। শুধু বৃত্তি পরীক্ষা লেখা হয়েছে। কোন সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষা সে সম্পর্কে কোন কিছই লেখা হয়নি। প্রশ্নে এমনটি দেখে আমাদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে স্টাফ’র উচ্চ পর্যায়ের অনেকের সাথে কথা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ বিষয়ে তাদের কোন কিছু জানা নেই। তারা এ পরীক্ষার সাথে যুক্ত নয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা মহিলা আওয়ামী লীগের একজন উচ্চ পর্যায়ের নেত্রী প্রশাসনকে চাপ দিয়ে এ পরীক্ষা নিতে বাধ্য করেছেন। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পরীক্ষা সম্পর্কে কোন কিছুই জানানো হচ্ছে না। এ সম্পর্কে জানতে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানাকে একাধীক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

এবিষয়ে আশাশুনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সামছুন্নাহার বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আপনার প্রতিষ্ঠানে আপনাদের শিক্ষক পরীক্ষা নিয়েছে অথচ আপনি কিছু জানেন না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখবো।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি শুনেছি এটি স্টাফ’র একটি পরীক্ষা হয়েছে। তবে তাদের সকল কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সদরে করতে চাইছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়ে। আশাশুনিতে তারা কিভাবে করল সেটি খোজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।