উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে শেষ হল মেলা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

আব্দুস সামাদ: তিনদিনব্যাপি উন্নয়ন মেলা-২০১৮ শেষ হয়েছে। শনিবার বিকালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ মেলা শেষ হয়। সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে এক সময় ২টি নৌ বন্দর ছিল, বর্তমান সরকার তৃতীয়টি নির্মাণ করার কাজ হাতে নিয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গের নান্দনিক গেট হিসেবে পরিচিত পদ্মা সেতু ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতে উন্নীত করেছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি হয়েছে। দেশ আজ ডিজিটালে পরিণত হয়েছে। সকল উন্নয়ন এ সরকারের হাত দিয়েই হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা হৃদয় থেকে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারছে না তাদের চোখে এসব উন্নয়ন ধরা পড়বে না। বিশ^ আজ এসব উন্নয়নের স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। ৭১’ কে ভুলে, মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে কখনো দেশের উন্নয়ন হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, সরকারে সকল দপ্তরগুলো কি সেবা দিচ্ছে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিচিত করেতই দেশব্যাপি এ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। সাতক্ষীরার জনগণ মেলায় উপস্থিত হলে সেবা নিতে পেরেছে এটাই মেলার সার্থকতা।
অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, সাতক্ষীরা আজ খাদ্যে ২ লাখ মে. টন উদ্বৃত্ত, সবজিতে ১ লাখ মে.টন উদ্বৃত্ত রয়েছে। এসব খাদ্য সাতক্ষীরা থেকে বাহিরের জেলা গুলোতে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া সরকার কৃষিতে ভর্তূকি দিয়ে কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
এসময় অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এন. এম মঈনুল ইসলাম ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ প্রমুখ। মেলায় সরকারি, বেসরকারি, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার মোশারেফ হোসাইন।
উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগীতায় ক গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আব্দুর রহমান, ২য় স্থান অধিকার করেছেন মাহবুবুর রহমান ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন ইবাদুল ইসলাম। খ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন পারভেজ ইমাম, ২য় স্থান অধিকার করেছেন সাদমান আব্দুল্লাহ ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন সালাদ মাহমুদ।গ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন শিমুল হোসেন, ২য় স্থান অধিকার করেছেন সাগর হোসেন ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন মিনহাজুল আবেদীন।
চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় ক গ্রুপে-প্রথম স্থান অধিকার করেছেন জারিন তাসরিন খান, ২য় স্থান অধিকার করেছেন শায়ন্তনি সরকার, ৩য় স্থান অধিকার করেছেন রুপন্তি। খ গ্রুপে-প্রথম স্থান অধিকার করেছেন প্রত্যাশা বন্দোপাধ্যায়, ২য় স্থান অধিকার করেছেন অহিন অর্ণব বাছাড় ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন নূর জাহান আক্তার। গ গ্রুপ প্রথম স্থান অধিকার করেছেন শুভজিৎ বন্দোপাধ্যায়, ২য় স্থান অধিকার করেছেন রব্বানী তাহমিদ ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন প্রান্ত দেব ভট্রাচার্জ।
রচনা প্রতিযোগীতায় ক গ্রুপ প্রথম স্থান অধিকার করেছেন এস এম সিয়াম ফেরদৌস, ২য় স্থান অধিকার করেছেন পারভেজ ইমাম ও ৩য় স্থান অধিকার করেছেন রবিউল ইসলাম। খ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তাজিয়া আফরিন হোসানা ও গ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন সানজিয়া আক্তার।
মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মেলায় প্রদর্শনী ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে কৃষি বিভাগ, ২য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সড়ক বিভাগ ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, একটি বাড়ি একটি খামার, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা কারাগার।
সাজসজ্জা ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ, ২য় স্থান অধিকার করেছে জেলা পুলিশ ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাজস্ব বিভাগ, সমবায় বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট।
সেবা ক্যাটাগরিতে- প্রথম স্থান অধিকার করেছে জেলা নির্বাচন অফিস, ২য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, আয়কর কাস্টম্স ও ভ্যাট, ৩য় স্থান অধিকার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা।
শিক্ষা ও কারিগরি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ২য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও সরকারি পলিটেকনিক এবং ৩য় স্থান অধিকার করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
তথ্য সরবারহ ক্যাটাগরিতে ১ম স্থান অধিকার করেছে ব্যাংকার্স ফোরাম, ২য় স্থান অধিকার করেছে জেলা তথ্য অফিস ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস।
বেসরকারি ও আর্থ সামাজিক ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ২য় স্থান অধিকার করেছে মহিলা সংস্থা ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ব্র্যাক ও এনজিও ফাউন্ডেশন। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।