১১দফা দাবিতে জেলা শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জেলা শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি। রোববার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাকশিসের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা বাকশিসের সভাপতি, শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ১১দফা দাবি বাস্তবায়নের গুরুত্ব আরোপ করে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আবু সাঈদ, অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র সাধু, অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম সেলিম, অধ্যক্ষ খান আশরাফ আলী, অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক,অধ্যক্ষ মনিরা পারভীন, উপাধ্যক্ষ মঈনুল হাসান, অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাস, ইদ্রিস আলী, আরশাদ আলী, আনিছুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ পাড়, নাজমুল হক, হাবিবুর রহমান, তপন কুমার শীল, আইয়ুব আলী, আমিনুর রহমান, নারায়ন চক্রবর্তী, সহকারী শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়, ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে আব্দুল ওহাব আজাদ ও কায়কোবাদ প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি ও মোস্তাফিজুর রহমান।
পরে নেতৃবৃন্দ ১১দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এরপরও শিক্ষকদের দাবি আদায় না হলে আগামী ২২ জানুয়ারী থেকে স্কুল, কলেজ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবিরাম ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগ্রাম কমিটি।
শিক্ষকদের দাবি সমূহ: শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা- বাংলা নববর্ষ ভাতা-বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসাভাতা প্রদান, অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রধান ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের অনুরূপ প্রদান। শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্বের ন্যায় টাইম স্কেল প্রদান। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিবর্তে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালুকরণ। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকসহ বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তকরণ। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপি’র ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% বরাদ্দ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো যুগোপযোগীকরণ ও সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়ন, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে বেসরকারি শিক্ষকদের ৩৫% প্রেষণে নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ও ভোকেশনার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ।