সত্যের দূত ‘পত্রদূত’ সাতক্ষীরার গর্ব

সুদয় কুমার মন্ডল:: সুন্দরবন বিধৌত উর্বর পললে প্রকৃতির আশির্বাদপুষ্ট সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রগতির অনন্ত সম্ভাবনাময় ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম জনপদ সাতক্ষীরা। ব্রিটিশ শাসন আমলে যশোর, পাকিস্তানী আমলে খুলনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে সপ্ত থানার মোহনায় সাতক্ষীরা জেলা শহর। এই জেলা শহর হতে বিস্তীর্ণ পরিসরে জনবসতির ঘনত্ব ও পরিমাণের ওপর পরিসংখ্যান তথ্যানুসারে থানা বা উপজেলা শহর প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যেকটি থানা বা উপজেলা প্রত্যান্তঞ্চল অঞ্চলব্যাপী বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত। বর্তমানে সময়োচিত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ জেলা শহরকে অতি সহজে উপজেলা পর্যায় দুর্গত অঞ্চলে যোগসূত্র স্থাপন করে। উন্নত জীবনযাত্রা প্রণালীর স্বপ্ন পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে চলেছে। রাস্তাঘাট, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কারসহ নানামুখী উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদপত্র তাৎক্ষণিকভাবে তা জনগণকে অবহিত করে চলেছে। প্রত্যেক থানা বা উপজেলায় দশ থেকে চৌদ্দটির মতো ইউনিয়ন আবার অনেক উপজেলায় পৌরসভা প্রভৃতি স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা জনগণকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বাদ যুগিয়েছে। মৌলিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার সঠিক প্রতিফলন উন্নত প্রযুক্তিতে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি সাধন করে চলেছে। বহু জ্ঞানী গুণী ও বিদগ্ধজনের জন্ম এই নান্দনিক শহর সাতক্ষীরায়। বহমান কালের সংস্কৃতির বিশুদ্ধ চারণক্ষেত্র। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, শিল্পী সেই চিরায়ত প্রয়াসকে অব্যাহত রেখেছে। বিশ্ব নন্দিত ক্রিকেট খেলোয়াড় মোস্তাফিজ ও সৌম্য সরকার এই সাতক্ষীরার সন্তান।
ব্রিটিশ শাসনামলে সাতক্ষীরা মহকুমা পর্যায়ে উন্নীত ছিল। সাতক্ষীরা অর্ন্তগত রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ‘ধুমঘাট’, ওদের হাবসীখানা ছিল। ভয়ংকর অপরাধীদের সেখানে রাখতো। ওদের নির্মিত, মায়ের বাড়ী বিভিন্ন মন্দির, যমুনার ঘাট, রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ এখনও আংশিক দৃশ্যমান। ভরত রাজার দেউল ভিটা, তালা থানার তেঁতুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, নলতার পীরের মাজার, সাতক্ষীরা জমিদার বাড়ীর মন্দির, পুষ্করণী প্রাণনাথ বাবু পি,এন স্কুল ছাড়াও অনেক পুরাকৃতি এ জেলায় নৃ-তত্ত্বের নিদর্শন বহন করে আসছে। কালের ¯্রােতে কিছু কিছু ধ্বংস হলেও বর্তমান সময়ে সে সমস্ত পুরাকৃতির ন্যায় স্থাপনাগুলি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সরকারীভাবে ও ব্যক্তিমালিকানায় সুসংরক্ষিত সমৃদ্ধিশীল ও সংস্কার হয়ে উঠছে। সেই মহতি পদক্ষেপ সাতক্ষীরার মৃতপ্রায় ও হারানো ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করে তুলেছে। পুরাকৃতির অতুল ঐশ্বর্য ও মনোহারিত্ব বর্তমানে উত্তরসুরীদের এক অনুপম নির্দেশনা যোগায়। শান্ত প্রদ্বীপের ¯িœগ্ধ আলো নির্মল সোহাগে ভরে দেয়।
সাতক্ষীরার ইতিহাস প্রাগ-ঐতিহাসিক। সম্ভবত চৌদ্দ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে নবাব দাউদ কররাণী মোগলদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হলে এই সাতক্ষীরা মোগল সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন এই অঞ্চলের রাজা হয় মোগল স¤্রাট আকবর কর্তৃক রাজ সনদপ্রাপ্ত শ্রীহরি ওরফে বিক্রমাদিত্য। বিক্রমাদিত্যের ছোট ভাই জানকী বল্লভ ওরফে বসন্ত রায়। এরা দাউদ কররাণীর কর্মচারী ছিল। এরা সাতক্ষীরা অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে এবং রাজ্য প্রাপ্ত হয়। বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর তার পুত্র প্রতাপাদিত্য কৌশলে বাদশাহ আকবরের নিকট থেকে রাজসনদ এনে নিজেকে রাজা বলে ঘোষণা করে। বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষমতা বসন্ত রায় ও তার পুত্রগণ কিছুতেই মেনে নিতে রাজী না থাকায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে রাজা প্রতাপাদিত্য তাদের বন্দি করে। ইনি ইতিহাসে বার ভূঁইয়াদের একজন। তার রাজ্য যশোহর ও রাজধানী ঈশ্বরীপুর। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানা। এই সাতক্ষীরা ব্রিটিশ আমলে বুড়ন পরগণার অন্তর্ভুক্ত ছিল। নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যুর পর বকেয়া খাজনার দায়ে তার রাজ্যের অনেক অঞ্চল নিলাম হয়। কৃষ্ণচন্দ্রের এক কর্মচারী বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নিলাম খরিদ করে তখন সাতক্ষীরাকে বলা হতো বুড়ন পরগণা। এই পরগণার একটি গ্রামের নাম সাতঘরিয়া। ধারণা করা যায় এই সাতঘরিয়া থেকে সাতক্ষীরার নামকরণ। নানা ঘাত-প্রতিঘাত রাষ্ট্র বিপর্যয়ের বা অভ্যুত্থানের মধ্যে সাতক্ষীরার গৌরব ম্লান হয়নি। এটাও সাতক্ষীরাবাসির গৌরব।
১৯৭১ সালে এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তারপর ঘটনাবহুল অবস্থার সংঘাতময় পরিস্থিতির আঙিনায় মেজর জেনারেল এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের পর ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সাতক্ষীরাবাসীর ভাগ্য অধিকতর সুপ্রসন্ন হয়। দিনে দিনে এই জেলা যৌবনী পরিপূর্ণতা পায়। প্রশাসনিক কর্মকা- জেলা ও দায়রা জজ আদালত সহ সকল প্রকার নগর উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার দায়ভার সুরক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। জেলা জজ আদালত চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৬ জন জেলা ও দায়রা জজ দায়িত্বভার পেয়েছে। পূর্বের ন্যায় সাতক্ষীরাবাসীদের বিভিন্ন মামলার জটিলতা নিয়ে আর বহুলাংশে হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। প্রাক-শাসনের তীব্র কুয়াশাচ্ছন্ন আবেশ কাটিয়ে স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্রে সাতক্ষীরাবাসী তাদের আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের নব উদ্দীপনায় সোচ্চার হয়। এতদিনে তাদের হারানো গৌরব ও স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার পূর্ণ মানসে ও অবহেলিত জনপদের অধিবাসীদের ভাগ্য উন্নয়নে উদারপন্থী জনকল্যাণকামী পৌরুষ সত্ত্বার অন্তরালে সুদীপ্ত চেতনায় উঁকি মারে গণমানুষের সম্ভাবনাময়ী অধিকার সংরক্ষণ ও সার্বিক মঙ্গলের দৃঢ় মানস প্রত্যয়-অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন, বলিষ্ঠ নির্ভীক ব্যক্তিত্ব। সত্যের পত্রাঞ্জলিতে আবিষ্ট হয়ে ঝটিকা প্রহরের অবসান ঘটিয়ে মানব দরদী মানস প্রত্যাশিত মনোবলের আলোকবর্তিকায় হাতে নিলেন যুগ যন্ত্রণা ত্যাগী মন্ত্রমুগ্ধ লেখনী স্বাধীনতাকামী অবিসংবাদিত নেতা সাতক্ষীরাবাসীর গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন। প্রতিষ্ঠা করলেন কালজয়ী সংবাদ পত্রিকা। ১৯৯৫ সালে ২৩ জুন ‘দৈনিক পত্রদূত’। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রথম ঘোষণা করলেন ‘দৈনিক পত্রদূত’ হবে গণমানুষের অধিকার রক্ষা, সকল বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, সামগ্রিক উন্নয়নের পথে সুস্থ চিন্তা-ভাবনা প্রয়োগ ও দিক নির্দেশনার একমাত্র নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উপযুক্ত মাধ্যম। পৃথিবীতে হানাহানি রেষারেষি সন্ত্রাসী তৎপরতা সুস্থ চিন্তা চেতনাকে অপরাধের ঘোলাজলে নিমজ্জিত করে তোলে। যা কোন বলপ্রয়োগ বা আইন প্রণয়ন এমনকি বিশ্ব শান্তি সংস্থা এরূপ পরিস্থিতি নিরসনে ব্যর্থ হতে পারে। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতকর্মীরা তাদের প্রগতিশীল লেখনীর মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ ও উদ্বুদ্ধ করতে পারে এটা স ম আলাউদ্দিনের চিন্তা চেতনায় ফুটে ওঠে। তিনি সাহিত্য অনুরাগী ও সংষ্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন যেমন করে ঝর্ণা নামে দুর্গমের পথে। নতুন যুগের ভোরে তিনি নেমে এলেন শীতার্ত চাদর ফেলে। জীবনকে নতুন করে আবিস্কার করার সে অনুপ্রেরণায়, গোধূলি সন্ধ্যার মধ্যে জীবনের আনন্দ খুঁজেছেন। উষার আলোর মধ্যে তিনি দেখেছিলেন জীবনের পরিব্যপ্তি। তার এই মহতি প্রয়াস জীবনকে আরো সুন্দর, আনন্দময় ও নিষ্ঠাবান করে তোলে এবং জনকল্যাণকামী মানবহিতৈষী কর্মমূখী শিক্ষা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কার্যকারী পদক্ষেপ ও গুরুত¦ আরোপ করেন। তারই প্রথম পদক্ষেপ ও নির্দেশনায় কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে অভাবনীয় ফলপ্রসু হয়ে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ও বাস্তবায়নে কাঙিখত হয়ে উঠেছে। তার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবীদার। তিনি অনুপ্রাণিত হন। তাঁর কর্মময় জীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। তিঁনি রাজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাশ করেন। রাজনীতিতে ছাত্র জীবন থেকে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা ঠিকাদার। সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এফ, বি সি,সি আই এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের জেলা সভাপতি। বৃহত্তর খুলনা সভাপতি উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল জাতীয় সমন্বয় কমিটি, জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাং¯ৃ‹তিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার একটা পরিবর্তনে সহজের জনগণের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌছে দিয়ে কর্মমুখ সভাপতি তাই তিনি সংবেদনশীল মনের অন্তরে সংবাদ পত্রিকা প্রকাশের নিষ্ঠাবান মনন পোষণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি দৈনিক পত্রদূত নামক পত্রিকার সৃষ্টি করেন। এটা একটা স্থানীয় অথচ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত পত্রিকা ‘পত্রদূত’ প্রকাশকের এই মহান উদ্দেশ্যকে সাতক্ষীরাবাসী স্বাগতম জানিয়েছিলেন, সাগ্রহে বরণ করেছিলেন এবং পরম আগ্রহের সাথে পাঠক সমাজ-ঘনিষ্ঠ নিষ্ঠা সহকারে তাদের প্রিয় ‘পত্রদূত’ পত্রিকাটি অদ্যাবধি পড়ে আসছে। তার অকাল মৃত্যুর পরেও সেই মহতি অবদান ও আজন্ম লালিত সাধনার ফসল দিক নির্দেশনার বিকীর্ণ আঁধারে স্তমিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েনি। যেহেতু তার সুযোগ্য উত্তরসূরীরা অবর্ণনীয় শোকের সীমাহীন মাতমের মধ্য দিয়েও তার সাধনার লালিত্য পীঠস্থানকে রক্ষা করে অভিনব অভূতপূর্ব সাফল্যের দোঁড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন এবং তার কাক্সিক্ষত সাধনাকে আরও প্রগতিশীল সমুজ্জ্বল ও ফলপ্রসু করে তুলেছেন। যেন তারই রোপিত শিশু বৃক্ষটি অতি যতনে সুমিষ্ট ফলবান মহীরূহে পরিণত হতে চলেছে। তিনি মরেও যেন পাঠক হৃদয়ে ও মেহনতি মানুষের অন্তরে ধ্রুবলোকে শুভ্র আলোকে জেগে আছেন। স. ম. আলাউদ্দিন সাহেবের প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশিত ‘পত্রদূত’ পত্রিকা বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। কারণ পত্রদূত পরিবারে অসংখ্য গুণগ্রাহী সাংবাদিক, সদস্য, বহু বিশিষ্ট খ্যাতিমান ব্যক্তি তাদের ঐকান্তিক ও নিরলস প্রচেষ্টায়, সুযোগ্য ব্যবস্থাপনায় ও দক্ষ সম্পাদনার সঙ্গে পাঠকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার আন্তরিক সমর্থন পত্রিকার অগ্রযাত্রাকে আরও সুগম ও বলিষ্ঠ করে তুলেছে। তার মৃত্যুর পর ষড়যন্ত্রকারী ও চক্রান্তকারী ঘাতকেরা দৈনিক পত্রদূতের চলার পথে বাধা দিয়েছে। কিন্তু পত্রদূতের লক্ষ লক্ষ পাঠক ভক্ত ষড়যন্ত্রকারীদের সকল বাধা উপেক্ষা করে প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি বা কোনো বাধাই পত্রদূতের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। কারণ পত্রদূত আজ লক্ষ পাঠকের প্রাণের স্পন্দন। দেশ বিদেশের বহু পাঠক পত্রদূতের ভক্ত। ২০১০ সাল থেকে পত্রদূত অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ হচ্ছে।
২০১৫ সাল থেকে দৈনিক পত্রদূত ২৪ ঘন্টা সংবাদ আপলোড করছে এতে করে জনগণ যখনকার সংবাদ তখনই জানতে পারছে। তাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ পত্রদূত’র লেখনীকে আরও শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করে তুলেছে। তিমির অরণ্যে যেন এক ঝলক রৌদ্র। ¯িœগ্ধতার পরশে দিগবলয় উদ্ভাসিত। তাছাড়া স্থানীয় পত্রিকা হিসেবে পত্রদূত সমধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকে যে কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সব শ্রেণির মানুষ অত্যন্ত চাহিদার সাথে পত্রদূত পত্রিকা পড়ে থাকে। পত্রদূত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আপোষহীন পত্রিকা। আমাদের সমাজে মানুষ নিপীড়িত হয় প্রতি মুহূর্তে। প্রভাবশালী অথবা অন্য কোন মহলের দ্বারা স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়। ভূমিদস্যুপনা ও দুর্বলের সম্পদ আত্মসাতের ন্যায় স্থানীয় পর্যায়ে এক শ্রেণির মস্তান কোনো না কোনো নেতার ছত্রছায়ায় আশ্রিত হয়ে মস্তানীপনায় তাদের দু:শাসন চালিয়ে যায়। আবার স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী অথবা অন্য কোনো মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতারা ভোটের স্বার্থে নিরীহ লোকবল বা অর্থহীন গরীব মানুষের কোনো বিচারিক প্রতিকার করেন না বা পাওয়া যায় না। বরং উপেক্ষিত হয়। তাদের কাছে প্রতিকারের দাবি নিয়ে গেলেও তাচ্ছিল্যগন্যে অথবা দুর্দশার কথা কিছুটা গুরুত্বহীনভাবে শুনে দেমাক ভরে বিদায় করে দেয়। তাদের কাছে গরীব মানুষের কোনো মূল্য নেই। ভোট দিলেও নেই না দিলেও নেই। অনেক নেতারা তাদের গর্ভে বে-দলীয় স্বার্থান্বেষী কিছু দুষ্টচক্র লালন করে। স্বার্থের লোভে, স্বজনপ্রীতি ও অর্থের লোভে উপেক্ষিত হয় সরকার দলীয় অথচ নিরীহ জনগণ। প্রশাসন থেকে অন্যায় অবিচারের তেমন কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না কোনো এক অবর্ণিত কারণে। সামাজিকভাবে দুর্বলের পাশে বিশেষ কেউ দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেয় না, বিশেষ করে যাদের দাঁড়ানো উচিত এবং যাদের সামর্থ আছে। কোর্ট-কাছারীতে গেলে, পেশকার, সেরেস্তাদার, পিয়ন, ক্লার্ক, টাইপিস্ট, উকিল, মুহুরীর পর্যাপ্ত অর্থের চাহিদা ও হয়রানী গরীব ও নিরীহ মানুষের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয় উপরন্তু বিলম্বিত হয় বিচারিক কার্য। আদালতে গেলে কেবলমাত্র বিচারক বাদে আর যত চাকুরীজীবী আছে প্রত্যেকের কিছু না কিছু ঘুষ দিতেই হবে, নইলে কাজ হবে না। তাহলে সামর্থহীন গরীব মানুষ বিচার পাবে কী করে? রাষ্ট্রের কাছে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার মূল্য সামান্যই। একটি উন্নয়নশীল দেশে মানুষের আশার বাণী হৃদয়ের কাছে পৌঁছে দিতে হলে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এরূপ পরিস্থিতিতে দুর্বলের মধ্যে সাহসের সঞ্চার করতে পারে বস্তুনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী পত্রিকা। দৈনিক পত্রদূত বিপদের ঝুঁকি নিয়েও দুর্বলের পাশে দাঁড়ায়। অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে। সবলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পত্রদূত দুর্বলকে আশ্রয় দিয়েছে। মানবাধিকার লংঘণের বিরুদ্ধে দৈনিক পত্রদূতের শক্ত অবস্থান। পত্রদূত একটি মননশীল ও বস্তুনিষ্ঠ পত্রিকা। প্রকাশক ও স¤পাদকের মহতি উদ্যোগ সর্বস্তরে মানুষের কাছে অভিনন্দিত। গর্বিত সাতক্ষীরা জনপদ।
স.ম. আলাউদ্দিনের জীবদ্দশায় তার স্বপ্নিল কুঁড়িগুলি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন না হলেও তার অকাল মৃত্যুর পরে পত্রদূত পরিবারের সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমে সেই স্বপ্নিল কুঁড়িগুলির প্রস্ফুটিত সুগন্ধ ও সৌন্দর্য চারিদিকে আলোর বন্যায় উদ্ভাসিত করে তুলেছে। তার অপূরণীয় সাধনাকে বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন, সার্থক ও সফল করে তুলেছেন।
হে মহীয়ান, মহাসিন্ধু!
তোমার স্বপ্ন বৃথা যায়নি-
স্বপ্নবিধুর দিনগুলি কালের আবিলে
ঝরে পড়া শুধু
একফোটা শিশির বিন্দু।
স.ম. আলাউদ্দিন ছিলেন সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নের রূপকার। সাতক্ষীরাবাসী তথা জনগণের কল্যাণের অগ্রপথিক। ঈর্ষান্বিত একদল কুচক্রী স্বার্থের আতিশয্যে পরাক্সমুখ হয়ে ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরা সদর থানার অদূরে দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার তৎকালীন অফিসে কর্মরত অবস্থায় রাত্র ৯টার সময় নিষ্ঠুর ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান আজীবন সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দিন।
সেই প্রয়াত মহান মানুষটি যদিও আজ আমাদের মাঝে নেই তবু তাঁরই ভাবাদর্শের নিঃচ্ছিদ্র তরী উত্তাল তরঙ্গ ¯্রােতে বয়ে চলেছে বাস্তবতার পাল তুলে দক্ষ হাতে হাল ধরে শ্রান্তিহীন বহমান কালের বক্ষে। প্রগতির অবিস্মরণীয় পর্দায় তিনি অমর হয়ে থাকবেন লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্তরে কৃতিত্বের মহিমায়। পরম ভালবাসা আর গভীর শ্রদ্ধায় তিনি থাকবেন আমাদের অন্তরের গহীনে। আজকের এই প্রতিষ্ঠালগ্নে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি তার বিদেহী আত্মা পরম শান্তিতে থাকুক।

লেখক : সহ-সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত, সাতক্ষীরা।

২৩ বছরের রোদ বৃষ্টি, ২৪ বছরে পদার্পন

মো. আব্দুর রহমান:: দৈনিক পত্রদূত প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ সালের ২৩ জানুয়ারি। বাংলা ১০ মাঘ, ১৪০০। দিনটি ছিল রোববার। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক পত্রদূত গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। পাঠকের অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসাই ছিল দৈনিক পত্রদূত’র সুদীর্ঘ পথচলার একমাত্র শক্তি ও সাহস। আধুনিক সাতক্ষীরার স্বপ্নদ্রষ্টা স.ম আলাউদ্দিন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৎ সাংবাদিকতার অঙ্গিকারে পত্রিকাটি’র প্রকাশনা শুরু করেন। সাতক্ষীরার পত্র-পত্রিকার ইতিহাসে ওই দিনটি ছিল ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল। খুব অল্প সময়ে পত্রিকাটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ফলে স্বভাবতই পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যাও বেড়ে যায় হু হু করে। পাঠকের হৃদয়-মন ও মননে আস্থা অর্জন করে দৈনিক পত্রদূত আজ ২৩ বছর পার করে পদার্পণ করছে ২৪বছরে। দৈনিক পত্রদূত প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে লেটার প্রিন্টে ট্যাবলয়েট আকারে প্রকাশ হতো। তখন পত্রিকার দাম ছিলো এক টাকা। ২০০৩ সাল থেকে দৈনিক পত্রদূত কম্পিউটার টাইপে প্রকাশ হয়। তখন থেকে আজও পত্রিকাটির দাম আছে দুই টাকা। ২০১০ সাল থেকে সাতক্ষীরার প্রথম অনলাইন পত্রিকা হিসেবে দৈনিক পত্রদূত যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৫ সাল থেকে অনলাইনে ২৪ ঘন্টা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী কার্যক্রম, ভূমিদস্যুদের দখলবাজি, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপী নিয়ে পত্রদূতে বহু রিপোর্ট, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় নিবন্ধ ও উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া মেধাবীদের সংগঠিত করা ও লেখালেখির উৎসাহ প্রদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দুস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে পত্রদূত অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সময়ের দাবি মেটানো। সেই দিক থেকে দৈনিক পত্রদূত সময়ের দাবি মিটিয়ে এসেছে। সহজ করে বললে, মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে।
সংবিধানে অনুসৃত জাতীয় চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি- গণতন্ত্র, বাঙালী জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র তথা সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতা বিধান। পত্রদূত তার দায়বদ্ধতা সমুন্নত রেখেছে সর্বদাই। এর পাশাপাশি সবরকম মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদী কার্যক্রম, ধর্মান্ধতা, সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবিচল থেকেছে সারাক্ষণ।
পত্রদূত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা স.ম. আলাউদ্দিন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ১৯৯৬ সালের ১৯জুন রাত ১০টা ২৩ মিনিটে ঘাতকের গুলিতে নিজ পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। তবে তাঁর মৃত্যুতে পত্রদূত’র পথচলা থমকে গেলেও হাজার হাজার পাঠকের ভালোবাসায় পত্রদূত আজ লক্ষ পাঠকের প্রাণের স্পন্দন।
আধুনিক সাতক্ষীরার স্বপ্নদ্রষ্টা, ভোমরা স্থল বন্দরের প্রতিষ্ঠাতা, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদী কণ্ঠ, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন নেতা, চিন্তা-চেতনা ও মননশীলতায় সর্বদা সৃষ্টিশীল এক মহান ব্যক্তি শহীদ স.ম. আলাউদ্দিনের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণার একমাত্র মুখপত্র হলো দৈনিক পত্রদূত। কোনো দল বা মতের অন্ধ অনুসারী না হয়ে বিভিন্ন দল, মত ও সংগঠনের সংবাদ প্রকাশে নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে পত্রিকাটি। সরকার ও বিরোধী দলের ভালো কাজের প্রশংসার পাশাপাশি যে কোনো মন্দ কাজের সমালোচনাও করে। সর্বোপরি মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়েছে পত্রিকাটি। সময়ের দাবি মেটাতে কাজ করে চলেছে পত্রদূত। আমাদের প্রত্যাশা দৈনিক পত্রদূত আরও সফল ও দীর্ঘায়ু হোক। গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে গণমাধ্যম বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আরও ব্যাপক ও কার্যকর ভূমিকা পালনও গণমাধ্যমের পক্ষে সম্ভব। আমাদের আশা দৈনিক পত্রদূত’র মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হবে।
লেখক: নিজস্ব প্রতিনিধি, দৈনিক পত্রদূত।

ভুয়া এনজিওতে চাকুরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজন আটক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আল বারাকা ডেভোলভমেন্ট ফাউনডেশন নামে ভুয়া এনজিও অফিস খুলে চাকুরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকাল চারটার সময় শহরের পল্লীমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে অবস্থিত ভুয়া এনজিও প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে পুলিশ তাদেরকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার চকদুয়ারি গ্রামের নবাব আলির ছেলে ইয়াছিন খান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দামারপোতা গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে বায়েজিদ বোস্তামি অন্য আরেকজনের নাম পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার জানান, সাতক্ষীরায় বেকার যুবক যুবতীরদের কাছ থেকে চাকুরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আল বারাকা ডেভোলভমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি ভুয়া এনজিও। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুরাতন সাতক্ষীরায় জনৈক মামুনে বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত আল বারাকা ডেভোলভমেন্ট ফাউন্ডেশনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এবং চাকুরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন জনের ভুয়া নিয়োগপত্র আইডি কার্ড ছবি চেয়ার টেবিল জব্দ করা হয়েছে। তারা পর্যন্ত কত টাকা সাধারণ গরীব চাকুরি প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে তিনি জানান।

 

আমান হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও স্বাক্ষীদের হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন বাদি ফাতেমা খাতুন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা আমান হত্যা মামলাটির দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ সাক্ষীদের যাতে হয়রানি করা না হয় সে ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন নিহতের মা। সোমবার দুপুরে সতাক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান মামলার বাদি পুরতান সাতক্ষীরার মৃত আজিজার রহমানের স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার ছেলে আমানউল্যাহ আমান সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিল। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি এক কর্মী সমাবেশ চলাকালে জেলা বিএনপি তৎকালিন সভাপতি বহু অপকর্মের হোতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবেব নেতৃত্বে সন্ত্রাসী তরিকুল হাসান, আইনুল ইসলাম নান্টা, মাসুমবিল্লাহ শাহিন, কামরুজ্জামান ভুট্টো মানিকসহ আরো অনেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে পিটিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই দিন আমি নিজে বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (নং১৮/৭১৭) দায়ের করি। পরবর্তীতে মামলাটি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় দ্রুত বিচার চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গণ্য হয় এবং নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু অদ্যাবধি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের আদেশ সাতক্ষীরা আদালতে আসেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির বিচার কার্যক্রম দুবছর আগে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। শুধুই দিন পড়ছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ২৭ জন আসামির বিচার স্থগিতের সপ্তাহের আদেশ আসে। যা শেষ হওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারী মামলার ধার্য্য দিন ছিল। কিন্তু জজ আদালতের বিচারক না থাকায় আবরো দিন পড়েছে। এই সুযোগে অসামিরা ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছে। তারা আমান হত্যা মামলার অন্যতম স্বাক্ষী পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মৃত বাবুজান সরদারের ছেলে আহম্মাদ আলীকে একটি ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা মামলার আসামি বানিয়ে একমাস দশ দিন কারাগারে আটকে রাখে। আহম্মাদ আলী আমার নিকট আত্মীয় স্বাক্ষী হওয়ার পাশাপাশি এই মামলাটি সে নিজে দেখাশুনা করে। এজন্য তাকে একটি মিথ্যে মামলা ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি সন্তানহারা একজন বিধবা মহিলা। এই সুযোগে আসামিরা আমাকেসহ আমার স্বাক্ষীদের জীবননাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকিধামকি দিচ্ছে। ফলে আসামিরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমার আত্মীয়স্বজনসহ আমার শুভাকাংঙ্খিরা এই হত্যা মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি মামলার স্বাক্ষীরাও ভয় পাচ্ছে।

তিনি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার পাশাপাশি স্বাক্ষীদের যাতে অহেতুক হয়রানি করা না হয় সে ব্যাপারে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালা শেষ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০১৮ সালের মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ২০১৭ সালের কর্মসূচির শিক্ষনীয় বিষয় শীর্ষক ২দিন ব্যাপী কর্মশালা শেষ হয়েছে। সোমবার বিকাল সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আশ্রয় ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের অর্থায়নে এমপাওয়ারিং লোকাল এন্ড ন্যাশনাল হিউম্যানিটেরিয়ান এ্যাক্টরস্ এলনা প্রকল্পের আওতায় দুই দিন ব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন, আশ্রয় ফাউন্ডেশনের পরিচালক ফোকাল পার্সন শেখ রবিউল ইসলাম, এলনা প্রকল্প টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর মো. মনিরুজ্জামান প্রিন্স, এলনা প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা শেখ হুমায়ুন করিব প্রকল্প কর্মকর্তা (অর্থ) সন্দীপ সাহাসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্বতঃস্ফুর্তভাবে ২০১৮ সালের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত চূড়ান্ত করা হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন আশ্রয় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মমতাজ খাতুন।

 

শিবির ক্যাডার হাসানুর গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চচল্যকর তথ্য

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা হতে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক নব্য কোটিপতি, একাধিক নাশকতা পরিকল্পনাকারী হাসানুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চচল্যকর তথ্য। তার নেতৃত্বে পাটকেলঘাটা এলাকাসহ সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ২০১৪ সালে একাধিক নাশকতা পরিচালিত হয়েছে। সে সাতক্ষীরা আন্তজেলা শিবির ক্যাডারদের অন্যতম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন তৈলকুপী গ্রামের মোসলেম গাজীর ছোট পুত্র হাসানুর গাজী (২৮) তার লেখাপড়ার জীবন কেটেছে স্কুলে। কিশোর বয়স থেকে হাসানুর ছিল উগ্রপন্থী। যার তার সাথে মারামরি করায়ই তার ছিল স্বভাব। প্রতিবেশি তারই চাচাতো ভাই ঢাকা উত্তর দক্ষিণ শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদকের হাত ধরে তার শিবিরের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ। ২০১০ সালে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র শিবিরের রাজনিতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় শিবিরের সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে সঙ্গ দিলেও তৎকালীন পাটকেলঘাটা থানা শিবিরের সেক্রেটারী পদত্যাগ করে ছাত্রদলের রাজনিতিতে প্রবেশ করলেই শুরু হয় হাসানুরের ছাত্র শিবিরের একক আধিপত্য। দায়িত্ব পায় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারীর। সেই থেকে শুরু তার ছাত্র রাজনীতির আদলে একাধিক নাশকতার পরিকল্পনা। ঘটনা অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদেই প্রথমে বিভিন্ন নাশকতার নেতৃত্ব দিয়েছে হাসানুর। তার নাশকতার মুর্তিমান চেহারা আজও ভুলতে পারেনি এলাকাবাসি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে পরে ফজরের নামাজ শেষে হাসানুরের নেতৃত্বে একাধিক শিবির কর্মীরা পাটকেলঘাটা থানার খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের গাছকাটা, গাড়ি ভাংচুর, বোমা বিস্ফারণ ঘটায়। ফজরের নামাজ শেষে তৈলকুপী গ্রামের চরাট মোড় এলাকার মসজিদ থেকে নামাজ আদায় শেষে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে যুগিপুকুরিয়া গ্রামে বিশ্বাস বাড়ির মধ্য দিয়ে কলেজ মোড় এলাকায় মিলিত হয়ে প্রতিদিনই নাশকতা ঘটাতো হাসানুরের নেতৃত্বে শিবির কর্মীরা। ৩০ মাইল এলাকায় পাটকেলঘাটা থানার ওসি আক্তার হোসেনকে মারপিটের ঘটনায় হাসানুরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সময় আর দিনের পরিবর্তে নাশকতার মুল পরিকল্পনাকারী হাসানুর রয়ে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। প্রাথমিক অবস্থায় তার বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা হলেও জামিনে এসে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা পুলিশকে ম্যানেজ করে পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ রোডে গড়ে তোলে মিনিস্টার মাই ওয়ান নামে ইলেকট্রনিক্স শোরুম। তার উৎকোচের টাকায় স্থানীয়রা একাধিক নাশকতা ঘটনা ভুলে গেলেও ভুলতে পারিনি শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ। সে ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসায়ের আড়ালে সাতক্ষীরা তথা দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছিলো। জনমনে প্রশ্ন ছিলো চিিহ্নত শিবির ক্যাডার হাসানুর অল্পদিনে আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়ে কোটিপতি বনে যায়। তারই চাচতো ভাইয়ের মাধ্যমে জামায়াত শিবিরের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যবসায়ের নামে সংগঠনের কাজে ব্যয় করতো তার মাধ্যমে। ইতিমধ্যে ভিআইপি প্রাইভেটকার, নিত্য নতুন মডেলের গাড়ি, বিমানে ঢাকায় যাতায়াত ঋতি মতোয় তাক লাগিয়ে দিয়োছিলো পাটকেলঘাটা বাসীকে। গত ১৯ জানুয়ারী পাটকেলঘাটার পাঁচ রাস্তার মোড়ে একটি অনুষ্ঠানে হাসানুর অতিথি হওয়ায় বিপত্তি ঘটে জনসাধারণে। দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে থাকে দুদর্শ শিবির ক্যাডার হাসানুর এখন সমাজ সেবক। ঘটনার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার গোয়েন্দা পুলিশ ২০জানুয়ারী পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ সড়কের তার শোরুম থেকে আটক করে। গত কাল ২২ জানুয়ারী গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

 

সুন্দরবনে ৪ জেলে অপহরণ

 

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনের গহিনে আগুন জ্বালাখালে মাছ ধরার সময় জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে বনদস্যু ডন বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার ভোরের দিকে জেলেদের অপহরণ করে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বনদস্যু বাহিনী। শ্যামনগর থানায় জিডি হয়েছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন, কৈখালী ইউনিয়নে জয়াখালী গ্রামে জবেদ শেখের ছেলে শেখ মোত্তালেব (৪০), মজিদ কাগুচির ছেলে আহম্মদ কাগুচি (৪০) এবং একই এলাকার সাপখালী গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর গাজী (৩৫) পূর্ব কৈখালী গ্রামে ছগলু গাজীর ছেলে . রহমান (৩২)

অপহৃত জেলেদের বরাত দিয়ে ফিরে আসা জেলে শফিকুল জানান, গত ১৩ জানুয়ারী কৈখালী বন অফিস হতে ০৭০নং অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে আগুন জ্বালা খালে মাছ ধরার সময় ডন বাহিনী জেলেদের অপহরণ করে। বিষয়টি নিয়ে কৈখালী স্টেশন কর্মকতা মিঠু তালুকদার বলেন, জেলে অপহনের কথা শুনেছি কিন্তু কেউ অভিযোগ করে নি।

দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতি থেকে এক ব্যক্তির মরাদেহ উদ্ধার

 

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতি থেকে আসমান আলী শেখ (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে দেবহাটা উপজেলার সীমান্ত নদী ইছামতির নোয়াপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আসমান আলী শেখ নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত মোহর আলী শেখের ছেলে।  

সাতক্ষীরা দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেন জানান, প্রথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে ফিরে আসার সময় ভোর রাতের কোন এক সময় সীমান্ত নদী ইছামতির পানিতে ডুবে আসমান আলী শেখ মারা গেছেন। স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ইছামতি নদীর বাংলাদেশ পাড় থেকে তার মরাদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরাদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। 

শ্যামনগরে জামাত সভাপতি গ্রেপ্তার

 

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন জামাতের সভাপতি প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে পুলিশের উপপরিদর্শক সংকর কুমার তাকে গ্রেপ্তার করে। সে দুর্গাবাটি গ্রামে মৃত জোনাব আলী মোল্যার ছেলে।

শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন সহ ১৪টি মামলা আছে জানান।

প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে কাঁকড়া ও নৌকা জব্দ

 

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরার সময় পৃথক পৃথক অভিযানে জব্দ করেছে আংটিহারা দোবেকী কোস্টগার্ড সদস্যরা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে কাঁকড়া আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র জব্দ করার সময় জেলেরা দ্রুত সুন্দরবনে সটকে পড়ে।

আংটিহারা কোস্টগার্ড পেটি অফিসার জীবেস কান্তি ঢালী জানান, সকাল ১০টার দিকে কপোতক্ষ নদীতে কাঁকড়া ধরার সময় অভিযান চালিয়ে লাখ টাকা মূল্যের ৪শত কেজি ডিমলা কাঁকড়া জব্দ করে শাখ বাড়িয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়। অপর এক অভিযানে দোবেকী কোস্টগার্ড পেটি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিকাল ৩টার দিকে নোটাবেকী নদীতে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি কাঁকড়া, ১২০ টি আটন একটি নৌকা জব্দ করা হয়।

 

সাতক্ষীরায় বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেড অফিসে চুরি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরে অবস্থিত এফভিডি বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেড অফিসে চুরি সংঘটিত হয়েছে। সময় চোরেরা নগদ টাকা, কম্পিউটার, চেক বইয়ের পাতা গ্রাহকের দেওয়া বিভিন্ন ডুকুমেন্ট নিয়ে যায়। সোমবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের চালতেতলা বাজারে চুরির ঘটনা ঘটে। এফভিডি বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন জানান, রবিবার অফিস বন্ধ করে বাড়িতে যান। সকালে অফিসে এসে দেখেন অফিসের পিছনে ভেন্টিলিটার ভেঙ্গে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করে অফিসের আলমারি ভেঙ্গে নগদ ৮০ হাজার টাকা, কম্পিউটার, চেক বইয়ের পাতা গ্রাহকের দেওয়া বিভিন্ন ডকুমেন্ট চুরি করে নিয়ে যায়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

না ফেরার দেশে কাজী মোস্তফা কামাল

 

শিবপুর সংবাদদাতা: পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সদর উপজেলার ৫নং শিবপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাক্তন ইউপি সদস্য কাজী মোস্তফা কামাল। রবিবার সকালে নিজ বাসভবনে আনুমানিক ৮টার সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি (ইন্নানিল্লাহিরাজেউন) মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রবিবার বিকালে শিবপুরের জগন্নাথপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

কেশবপুর উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের অভিষেক সভা

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা ইমারত শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি অভিষেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার শহরের আবু শারাফ সাদেক অটোরিডয়োমে পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহকমান, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ রানা, থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইসচার্জ শাহাজাহান আহম্মেদ, কেশবপুর বাসমিনিবাসট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আফছার উদ্দীন গাজী কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান বুলু।

 

কুলিয়ায় শীতবস্ত্র বিতরণ

 

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে সোমবার সকাল ১০টায় কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে  ইউপি চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৫০০জন গরীব, দুস্থ, অসহায় ব্যক্তির মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার জনাব হাফিজ আল আসাদ, প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য আল-ফেরদৌস আলফা। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম এর সভাপতি নুরুল মোমিন সরদার, কুলিয়া ইমাম কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, চার ইউনিয়ন ঘের ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি ডা. তোজাম্মেল হক মিনু, কুলিয়া ইউপি এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ সরকার প্রমুখ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রওনাক উল ইসলাম রিপন, গোলাম রব্বানী, আমিরুল ইসলাম, ভরত চন্দ্র সরকার, দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, ০১নং ওয়ার্ড আ.লীগ এর সভাপতি মোসলেম মোড়ল প্রমুখ। 

মহান জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরার আরো উন্নয়নের দাবি জানালেন এমপি রবি

 

আব্দুর রহিম: সাতক্ষীরার আরো উন্নয়নের দাবি তুলে ধরলেন সাতক্ষীরার কৃতি-সন্তান সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। রবিবার রাতে মহান জাতীয় সংসদে ১২ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সাতক্ষীরার ইতিহাস ঐতিহ্যের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করেন এবং বলেন, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। এ জেলা কৃষি ক্ষেত্রে ধান চাল খাদ্যশস্য ৬ লক্ষ মে. টন উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ৩ লক্ষ মে. টন দেশের বিভিন্ন জেলাসহ সরকারকে দিয়ে থাকে। এ জেলা থেকে মাছ, কুল, আম সাতক্ষীরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে রপ্তানী করা হয়। কিন্তু জানিনা কি কারণে এ জেলার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। এ জেলাকে  অবমূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা জেলার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের জেলায় অনেক কিছু দিয়েছেন। ছোট একটি জেলা শহরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হকের প্রচেষ্টায় মেডিকেল  কলেজ দিয়েছেন। সাতক্ষীরাবাসীর স্বপ্ন যা ৫০ বছরেও পেতো না। সাতক্ষীরাবাসির আরো একটি দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রেল লাইন স্থাপন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর থেকে সরকার বছরে ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এটাকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাতক্ষীরাবাসীর দাবি এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদেরকে অনেক কিছু না চাইতে দিয়েছেন। আমার উজেলায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে এ উজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হবে। সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়িতে একটি নতুন থানা স্থাপনের দাবী জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকারের সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সাতক্ষীরায় গিয়েছিলেন তিনি দেখে এসেছেন সাতক্ষীরার রাস্তা-ঘাট অনেক খারাপ। এগুলোর পর্যায়ক্রমে কাজ হচ্ছে। এলজিইডিতে ঠিকাদাররা কাজ করছিলনা। কারণ নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য ঠিকাদাররা কাজ করতে পারছিলনা। আমি ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের সাথে বসে আলোচনা করে সমাধান করেছি। টেন্ডার ও ওয়ার্ক ওয়ার্ডার হলে দ্রুত এসব রাস্তার কাজ শুরু হবে। এ জেলায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে মূল সড়ক পথে যশোর থেকে নাভারণ হয়ে সাতক্ষীরা, যশোর মনিরামপুর হয়ে মাইকেল মধুসুধন দত্তের বাড়ির পাশ দিয়ে সাতক্ষীরা ও খুলনা চুকনগর হয়ে সাতক্ষীরায় প্রবেশের রাস্তাগুলো অনেকাংশে খারাপ। এসব রাস্তার দ্রুত কাজ হলে সাতক্ষীরার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে। সরকারের রাজস্ব খ্যাতে সাতক্ষীরা জেলা যে ট্যাক্স দিয়ে থাকে তার ১৬ ভাগের ৪ ভাগ সাতক্ষীরার উন্নয়নে ব্যয় করলে ও এ জেলা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকবেনা। সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি মহান জাতীয় সংসদে জেলার উন্নয়নে যেসব দাবি তুলে ধরেছেন তা পুরণ হলে এ জেলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হবে।