কলারোয়া সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের দারোগার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮ ||

 

জয়নগর (কলারোয়া) প্রতিনিধি: কলারোয়া থানার সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের ইন-চার্জের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও নিরীহ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। অথচ কলারোয়ার জয়নগরের সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারী জামায়াতিরা রয়েছে জামাই আদরে। চলছে তারা বীরদর্পে। অন্যদিকে দায় মুক্তির জন্য পুলিশ নিরীহ মানুষের গ্রেপ্তার করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে জেল হাজতে পাঠাচ্ছে। ওই সব অভিযোগ সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এফএম তারেকের বিরুদ্ধে জোরালো হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। দায় মুক্তির জন্য পুলিশ যখন নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তখন একদিকে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায় অন্যদিকে দায় মুক্তি হচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে সরকারের অর্জন তৃণমুলে ধুলোয় মিশে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসির অভিমত। বিগত ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মাও. দেলোয়ার হোসেন সাইদীর মৃত্যুদন্ডাদেশ রায় দেওয়ায় ফুসে ওঠে জামায়াতের মহিলা কর্মীসহ সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। জয়নগর ইউনিয়নের মানিকনগর, গাজনা, ক্ষেত্রপাড়া ও বসন্তপুর গ্রামের জামায়াতিদের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ শক্ত। জামায়াতের নেতাকর্মীরা সে সময় মাত্রাতিরিক্ত ওই জনপদে তান্ডব চালায়। সাতক্ষীরা-সরসকাটি সড়কের কমপক্ষে ৫জায়গা, কলারোয়া-সরসকাটি সড়কের ৪ জায়গায় কেটে ও সড়কে ধারে বিভিন্ন বাজার এলাকায় রাস্থার উপর কাঠের গুড়ি ফেলে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে প্রায় ৯ মাস। এ দীর্ঘ সময়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা চালায় বেপরোয়া তান্ডব। তারা ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট কলারোয়া থানার সরসকাটি বাজারে সকালের দিকে প্রায় ৫শতাধিক নেতা কর্মী জড়ো হয়। এরপর ৮/১০টি ককটেল ও বোমা ফাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে শিবির নেতা বুলবুলের নেতৃত্বে সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তৎকালিন আইসি এসআই লিয়াকতের গলায় রাম দা ধরে এবং সব পুলিশকে জিম্মী করে জামায়াতের জয়নগর ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. আলতাফকে ক্যাম্পের লকআপ থেকে জোর করে বের করে নিয়ে এসে বাজারে বিজয় উল্লাস করে মিছিল করে। ওই দিন দুপুরের দিকে সরসকাটি বাজারে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মাষ্টারকে কুপিয়ে মারত্মক জখম করে। ২০ আগস্ট দুপুরে দৈনিক পত্রদূত ও সংবাদ’র সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উপর ককটেল হামলা চালায় এবং তাকে ও কুপিয়ে মারত্মক জখম করে। মৃত ভেবে তাকে তারা ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে তার পাঁচটি মাছের ঘেরের মাছ লুট করে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা। এমনিভাবে পর্যায়ক্রমে আ’লীগ নেতা সালমান সরকার, রেজাউল বিশ্বাস, আমির হোসেন, শফিকুর রহমান মালীসহ অনেক আ.লীগ নেতাকর্মীদের জখম করে। জ্বালিয়ে দেয় অনেক নেতার ঘরবাড়ি। লুট করে দোকানপাটসহ ঘরবাড়ির মালামাল। সর্বশেষ জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র হায়েনারা ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে জয়নগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান জজ আলিকে তার সরসকাটি বাজারস্থ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ক্ষেত্রপাড়া খালের ধারে জবাই করে হত্যা করে। ২০১৩ সালে সরকার উৎখাত আনোদলনে যে সব জামায়াতিরা রাস্থা কাটা, গাছ কাটা, পুলিশের কাজে বাঁধ দেওয়া, ঘরবাড়ি জা¦ালিয়ে দেওয়া, দোকান পাট ও বসত বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করা ও খুন করাসহ যারা আওয়ামী রাজনীতি নিধনযজ্ঞ চালিয়ে ছিলো এবং ওই সব লোমহর্ষক ঘটনায় যারা জড়িত ছিলো তারা অনেকেই এখনও বাড়ি ছাড়া থাকলেও তাদের মধ্যে জয়নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির তুখোড় নেতা গাজনা গ্রামের মৃত রজব আলি সরদারের ছেলে আফছার হুজুর এলাকায় আছে বহাল তবিয়তে। তার ছেলে মাও. আসাদুজ্জামান ফারুকী কলারোয়া থানা জামে মসজিদের ইমাম। ওই ইমাম ছেলের বদৌলতে সে হয়েছে পুলিশের কাছে নিরাপরাধ। শীর্ষ সন্ত্রাসী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাশকতার ৮ মামলার আসামি শাসছুল হক বুলবুলের বাবা জয়নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সহ-সভাপতি একাধিক নাশকতা মামলার আসামী গাজনা গ্রামের মৃত আছির আহম্মদের ছেলে মাও. আতাউর রহমানও এলাকায় বেড়াচ্ছে অজ্ঞাত কারনে খোশ মেজাজে। ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের হোচেন মোড়লের ছেলে এশারত আলি, ফটিক গাজির ছেলে গফ্ফার গাজি, তমেজ মোড়লের ছেলে বিদার মোড়ল, ওজিয়ার মোড়লের ছেলে মুকুল মোড়ল, মৃত বাবরালি গাজির ছেলে শামছুর রহমান গাজী, মৃত বাবরালি সানার ছেলে মুনছুর রহমান, খোর্দ্দবাঁটরা গ্রামের মৃত গফুর মালির ছেলে জয়নগর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা গাউসুল হক,  মৃত নোবালি শেখের চেলে আরশাদ শেখ, যুবরাজের ছেলে মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম, মানিকনগর গ্রামের ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মৃত বাবরালি সানার ছেলে নাসির সানা, মানিকনগর ওয়ার্ড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ওই গ্রামের শাহাবুদ্দিন খাঁর ছেলে মোমিন খাঁ, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মৃত ছহমান গাজির ছেলে আনোয়ার গাজি, নীলকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত দায়েম মোল্যার ছেলে হজরত মোল্যা, মান্নান ডাক্তার, বসন্তপুর গ্রামের মৃত আতের আলি গাজির ছেলে নুরালী গাজি, আ. গফ্ফার পিয়নসহ অনেকেই এখন বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকায়। সুযোগ বুঝে ওই সব জামায়াতিরা এলাকায় গোপন মিটিং করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, ওই পুলিশ কর্তা জামায়াতিদের কাছ থেকে মাসোহারা ঘুষ নিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেন না। সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ কলারোয়া থানার জয়নগর ও যুগিখালী ইউনিয়নের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ওই সব জামায়াতিরা এলাকায় গোপন মিটিং ও নাশকতার পরিকল্পনা করলেও সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের এসআই এফএম তারেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে বিস্ফারক দ্রব্য আইনে রেকর্ড হওয়া মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ইতোমধ্যে ওই পুলিশ কর্তা ধানদিয়া গ্রামের হাজি মহিউদ্দিনের ছেলে গিয়াসউদ্দিন, জয়নগর গ্রামের ‘মাজেত খাঁ’র ছেলে আ. রহিম, ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল গাজির ছেলে আ. খালেক গাজি, একই গ্রামের কওছার গাজি, গাজনা গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে ক্যান্সার রোগী দেলোয়ার হোসেন কে আটক করে কৌশলে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাজী নাসির উদ্দিন কলেজের প্রভাষক আ. বারিককে আটক করেন তিনি। তাকেও ফাঁসিয়েছেন ওই পুলিশ কর্তা। এসআই এফএম তারেকের হাতে আটক হওয়া ওই সব ব্যক্তিরা সাধারণ ও নিরীহ প্রকৃতির বলে একাধিক এলাকাবাসি জানায়। গাজনা গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জয়নগর ইউপি মেম্বর এমাদুল হক ওই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আনেন,তিনি জানান, দারোগা এফএম তারেক আমার কাছ হতে এলাকার অপরাধীদের বিষয় তথ্য নিয়েছিলেন। কিন্তু তথ্য জানার দু’দিন পর তিনি অপরাধীদের কাছে ফাঁস করে দেন। এমন অভিযোগ ২০১৩ সালে জামায়াতিদের হাতে চরমভাবে নির্যাতিত জয়নগর ইউপি মেম্বর রেজাউল বিশ্বাসেরও। তিনি বলেন সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের বর্তমান ইন-চাজের্র জামায়াত শিবিরের সাথে গোপন আঁতাত আছে। তা-না হলে অপরাধীরে রেখে কেন নিরীহ মানুষকে আটক করছেন। দারোগা এফএম তারেক অপরাধীদের রেখে সাধারন মানুষকে আটক করছে দেদারসে। নিরীহ মানুষকে আটক করে সরকারের অর্জন তৃণমুলে ক্ষতি করছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের নিরাপদে রাখছেন তিনি বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি। এ বিষয় সরসকাটি পুলিশ ক্যাম্পের এসআই এফএম তারেক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক কাজ চলছে। হয়ত দু’একটি ভুল হতেই পরে। এতে আর কি?