কালিগঞ্জে দিনমজুরকে থানায় আটক রেখে জোরপূর্বক বিদ্যুৎ লাইন টানার চেষ্টা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের মুকুন্দ মধুসুধনপুরে এক দিনমজুরের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক লাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য থানায় আটক রাখা স্বামী মোহাম্মদ আলীকে নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করে মোছাম্মৎ শাহীদা খাতুন বলেন, তার স্বামী মোহাম্মদ আলী গাজী একজন দিনমজুর। ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একই গ্রামের সঞ্জীব ঘোষের কাছ থেকে সাড়ে ১৮ শতক জমি কেনেন তার স্বামী। ওই জমির পাশে রয়েছে নিরাপদ ঘোষের বিশাল ভিটা জমি। এক বছর আগে তাদের জমির মাঝখান দিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা প্রক্রিয়া শুরু করলে তারা বাস্তবস্তা অনুযায়ি বিরোধিতা করেন। তিনি নিরাপদ ঘোষের জমির উপর দিয়ে তার টেনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। বিষয়টি স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিনকে জানানো হলে তিনি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপরও একটি মহল তাদের জমির উপর দিয়ে তার টানার উদ্যোগ নিলে ২০১৬ সালের ১৩ পল্ল¬ী বিদ্যুতের পাটকেলঘাটা অফিসের জেনারেল ম্যানেজার বরাবর লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে পল¬ী বিদ্যুৎ ও সমবায় মন্ত্রণালয়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। একইভাবে প্রতিকার চেয়ে ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর পল¬ী বিদ্যুৎ খুলনা অফিসের সহকারি প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ করা হয়। সহকারি প্রকৌশলী উত্তম কুমার রায় জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাটকেলঘাটা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরেজমিনে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ আলীর জমির উপর দিয়ে তার না টানার জন্য গত ১৫ জানুয়ারি এক নির্দেশ দেন খুলনার সহকারি প্রকৌশলী উত্তম রায়। এরপরও স্থানীয় লোকজন সাংসদ এসএম জগলুল হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বাচ্চুকে পক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক বৈদ্যুতিক লাইন টানার কাজ করার উদ্যোগ নিলে তার স্বামী বাধা দেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার রাত ৯টার সময় আমার স্বামী মোহাম্মদ আলী চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফিরে এসে মুক্ন্দুপুর সরদারপাড়া মোড়ে দাঁড়ানো মাত্রই কালিগঞ্জ থানার এসআই প্রকাশ ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বড় ভাই সৈয়দ আলীকে নিয়ে জমির মাঝখান দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন টানার ব্যাপারে মুচলেকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে যায় পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তার সাক্ষর সম্বলিত কাগজপত্র নিয়ে থানায় গেলে এসআই প্রকাশ তাকে নানা ভাবে গালিগালাজ করেন। ভালোয় ভালোয় জমির উপর দিয়ে তার টানতে না দিলে আওয়ামী লীগ কর্মী হলেও জামায়াত বানিয়ে নাশকতা বা মাদকের মামলায় মোহাম্মদ আলীকে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বামীকে নি:শর্ত মুক্তি, জোরপূর্বক জমির উপর দিয়ে তার টানা বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহীদা খাতুনের দু’ সন্তান ও তার বাবা মোহাম্মদ এন্তাজ  আলী গাজী।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বাচ্চু জানান, মোহাম্মদ আলীর জমির উপর দিয়ে তার টানা হচ্ছে না। তবে সে ওই তার একবার কেটে ফেলেছিল। তার টানার বিরোধিতা করায় নিরাপদ ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোহাম্মদ আলীকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে সাংসদ এসএম জগলুল হায়দার বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মী নিরাপদ ঘোষের বাড়িতে বৈদ্যুতিক তার টানার কাজে বাধা দিচ্ছে মোহাম্মদ আলী। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের আহবানের ভিত্তিতে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে তাকে ধরে আনতে বলার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর দত্ত জানান, নিরাপদ ঘোষের অভিযোগ সম্পর্কে শুনানীর জন্য মোহাম্মদ আলীকে বুধবার রাতে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ধরনের আটক যথাযথ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশী লেকচার না দিলে খুশী হবো।