পাইকগাছায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি পরীক্ষার্থী আমির হামজা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮ ||

 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারীর গাফিলাতির কারণে পাইকগাছা সিনিয়র মাদ্রাসার আমির হামজা নামের এক পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই জনকে শোকজ করে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে তাদেরকে বিরত রেখেছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আমির হামজা পাইকগাছা সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র। সে পরীক্ষার জন্য মাদ্রাসা থেকে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। পরীক্ষার দুই দিন আগে প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে জানতে পারে তার কোন প্রবেশপত্র মাদ্রাসায় আসেনি। অথচ ফরম পুরোনের জন্য ২ হাজার টাকা এমনকি বিদায়ী অনুষ্ঠানের জন্য সে ৪শ টাকা কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান করে। প্রবেশপত্র না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন আমির হামজা ও তার পরিবার। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা ভুল স্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরীক্ষার্থী ও তার পরিবারের অভিযোগ, পরীক্ষার প্রক্রীয়া চলাকালিন সময়কার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাদেক ও অফিস সহকারী মোঃ আয়ুব আলীর সম্পূর্ণ গাফিলাতির কারণে আমির হামজা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এদিকে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ারপর ২৯ জানুয়ারি গাফিলাতির অভিযোগ এনে মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আজহার আলী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাদেক ও অফিস সহকারী আয়ুব আলীকে শোকজ করে এ ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে ১২ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুই জনই শোকজের জবাব দেন। লিখিত জবাবে, এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন তারা। আবু সাদেক তার জবাবে লিখেছেন, সম্ভব্য তালিকার সাথে চূড়ান্ত তালিকার যাচাই করে দেখা হয়নি। এটা আদৌ ঠিক হয়নি। এটা আমার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার ফল। যা ক্ষমার অযোগ্য ত্রুটি। এ ব্যাপারে অফিস সহকারী আয়ুব আলীকে মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে আবু সাদেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভুল হয়েছে বলে এ ঘটনার দায় স্বীকার করেন। বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আজহার আলী জানান, এ ঘটনার দায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী কেউ এড়াতে পারেন না। বিষয়টি জানারপর তাদের দুজনকে শোকজ করে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।