যবিপ্রবি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ: কর্ম উপলক্ষে তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন এ দেশ ও দেশের জনগণের কথা ভুলবে না


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮ ||

যশোর প্রতিনিধি: বুধবার বিকেলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে সবসময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘আর একটা কথা বলি, কর্ম উপলক্ষে তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন, এ দেশ ও এ দেশের জনগণের কথা ভুলবে না। ভুলবে না খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণের কথা। মনে রাখতে হবে, বাঙালির শেকড় এই সাধারণ জনগণের মধ্যেই প্রোথিত। কর্মজীবনে তোমরা সফল হও, সার্থক হও-এই কামনা করি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের মাঠে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে বেলা আড়াইটায় ক্যাম্পাসের কাছে আব্দুলপুরে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত হেলিপ্যাডে নামেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাকে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে মোটর শোভাযাত্রা করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন রাষ্ট্রপতি এবং তার সফরসঙ্গীরা। এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট অংশ নেন। তাদের মধ্যে আটজন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, পাঁচজন ভাইস চ্যান্সেলর পদক এবং ৫৬জন ডিন্স অ্যাওয়ার্ড পান। বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অবিভক্ত বাংলার প্রথম ঘোষিত জেলা যশোরের ঐতিহ্য ও বরেণ্য ব্যক্তিদের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবক্তা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান, বিজ্ঞানী রাধাগোবিন্দ, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর শহীদ মসিয়ূর রহমান, মুসলিম জাগরণের পথিকৃৎ মুন্সী মেহেরুল্লাাহ, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ও ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মাদ শেখসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। এছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখায় স্মরণ করেন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেককে। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক, ছাত্রসংগঠনসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্বব্যবস্থায় যোগ্যতাই টিকে থাকার একমাত্র মানদন্ড উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনেই শিক্ষার্থীদেরকে তথপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
সমাবর্তন বক্তা নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার তার নিজের ক্ষেত্র প্রাণ-রসায়ন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তি বিষয়েও কথা বলেন তিনি। গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এক নতুন জীবনে পদার্পণ করলেন, যেখানে পিতা-মাতা, সমাজ, দেশ এবং মানবতার প্রতি রয়েছে গুরুদায়িত্ব। একজন মানুষ হিসেবে এই দায়িত্ব পালনে আপনাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’ রবার্ট হিউবার আরও বলেন, ‘খাদ্য, শক্তি এবং পরিবেশ বিপর্যয় এখন মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের। কিন্তু এরও সমাধান রয়েছে তোমাদের মতো যুব সমাজের মাথায়। তোমরাই যেকোনো দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনের অপরিহার্য শর্ত হলো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ নাগরিক তৈরি এবং সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির প্রসার ঘটানো।’
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন সমাবর্তনে আগত রাষ্ট্রপতি, সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার, বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ সব অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, আবদুল হাই, এসএম জগলুল হায়দার, শেখ আফিল উদ্দিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর রশীদ আসকারী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলমগীর, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, যশোর-খুলনা অঞ্চলের উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ বিপুল সংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।