যে কোনও হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে সেনাবাহিনীকে: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ ||

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যে কোনও হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) লেবুখালিতে সেনানিবাস উদ্বোধনকালে সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি এসব বলেন।

নতুন সেনানিবাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এর মাধ্যমে স্থানীয়রা উপকৃত হবে। তাদের মধ্যে জাগ্রত হবে নতুন আশা ও উদ্দীপনা। আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা ও কর্মদক্ষতার সুবাদে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। শুধু দেশে নয়, দেশের সীমা ছাড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ আজ ব্র্যান্ডনেম, যা আমাদের জন্য গৌরবের। মিয়ানমারের বাস্তচ্যুতদের সহায়তায়ও তারা কাজ করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও আত্মীক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার দুই ভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে জামাল সেনাবহিনীতে যোগ দেন। আমার ছোট ভাই শেখ রাসেলও সেনাবাহিনীতে যেতে চেয়েছিল। দুর্ভাগ্য তার আশা পূরণ হয়নি।’

অল্প সময়ের মধ্যে নান্দনিক পরিবেশবান্ধব লেবুখালী সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা আমার কর্তব্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হৃদয়ে যে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’

শেখ হাসিনা জানান, সেনাবাহিনীর অবকাঠামোর পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার। আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পেয়েছে এই বাহিনী। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। ফলে ঢাকা সিএমএইচ-এ বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো আধুনিক চিকিৎসাগুলো সম্ভব হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক অবস্থা না থাকলে দেশের উন্নতি হয় না।’

নিজের সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করা। গত ৯ বছরে আর্থসামাজিক প্রতিটি খাতে আমরা উন্নয়ন করেছি। মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছি। নব্বই শতাংশ অর্থ নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয়ের সক্ষমতা অর্জন করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর আশা, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ।