আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ||

পত্রদূত ডেস্ক: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর প্রথম শারীরিক হামলা ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটে ১২ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে ঢাকার পলাশী ব্যারাকে। সেদিন বাংলাভাষাবিরোধী দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী হামলায় ২০ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে নঈমুদ্দিন আহমেদকে গু-ারা মাথায় আঘাত করে। আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই রক্তদানের ঘটনায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য প্রথম রক্তপাত। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১২ ডিসেম্বরের রক্তপাতের ঘটনা প্রথম ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।

দলিল দস্তাবেজ থেকে জানা যায় ওইদিন একদল সন্ত্রাসী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শ্লোগান দিতে দিতে বাস ও ট্রাকে চড়ে পলাশী ব্যারাকে উপস্থিত হয়। তারা আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে। বিভিন্ন ধরনের লাঠি, রড ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রমণ চালানোর পরে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে বহু লোক আহত হয়।

সন্ত্রাসীরা যে বাসটি ব্যবহার করে সেটির নাম ছিল ‘মুলুক।’ বাসে দুটি মাইক্রোফোন সংযুক্ত ছিল। তারা মাইকে শ্লোগান দিতে থাকে “রাষ্ট্রভাষা উর্দু চাই, উর্দু ভাষার বিরোধিতাকারীরা কাফের। এই কাফেরদের শায়েস্তা করতে হবে।” অন্তত ৪০ জন সন্ত্রাসী ‘মুকুল’ নামক বাসে চড়ে প্রথম আমক্রণ চালায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। তারা হকিস্টিক, ডেগার, লোহার রড ইত্যাদি দিয়ে ব্যারাকের লোকদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে ৭ জন আহত হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা ইটপাটকেল মারতে শুরু করে। এ সময় লালবাগের থানা পুলিশ ঘণ্টা বাজিয়ে ঘটনাস্থলে আসলে গু-ারা প্রথম দফায় পালিয়ে যায়।

দুপুর দেড়টার সময় মুকুল নামক বাস ও একটি ট্রাকে চড়ে গুণ্ডারা পুনরায় পলাশী ব্যারাকে আসে। একই সঙ্গে পলাশী ব্যারাক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হোস্টেল থেকে বেশকিছু ক্রোকারিজ লুট করে নেয়। গুণ্ডাদের ইটের টুকরার আঘাতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের স্ত্রীও আহত হন। দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ চলে অন্তত আধাঘণ্টা। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৎকালীন ভিপি নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছাত্ররা সংগঠিত হয়ে গুণ্ডাদের ধাওয়া করে। নূরুল হুদা ভাইস প্রিন্সিপালের লাইসেন্সকৃত বন্দুকটি গুণ্ডাদের দিকে তাক করে এগিয়ে আসলে গুণ্ডারা দ্রুত চলে যায়।