আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ ||

 

পত্রদূত ডেস্ক: ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল। ভাষা আন্দোলনের পক্ষে প্রথম মুখপত্র হিসেবেই প্রকাশিত হতে থাকে এই সাপ্তাহিকটি। ওই সময়ে দেশের পত্রিকার সংখ্যা ছিল সীমিত। ১৯৪৮ সালে পূর্ববঙ্গে বলতে গেলে সাপ্তাহিক নওবেলালই ছিল ভাষা আন্দোলনের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ মুখপত্র।

পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহমুদ আলী। সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। ভাষা বিতর্ককে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে এর রাজনৈতিক আবেদন সৃষ্টির কাজেও নওবেলাল সুস্পষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছিল। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব, চূড়ান্ত বিস্ফোরণ এবং এর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার অবকাশ নওবেলালেরই ছিল।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে নওবেলালের আপোসহীন শক্ত ভূমিকার কথা এ পর্যন্ত কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। সেজন্য পাকিস্তানের গবর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ থেকে শুরু করে নি¤œতম পর্যায়ে কর্মচারীরা পর্যন্ত এর প্রতি নিদারুনভাবে রুষ্ঠ ছিলেন। যে প্রকারেরই হোক না কেন সেটাকে বন্ধ করে দেয়ার জন্য নানা ছল ছুতো অনুসন্ধান করছিল তারা। এরই ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের আর কোন পত্রিকাকে নয়, নওবেলালের গলাতেই ফাঁসির রজ্জু ঝুলিয়ে দেয়া হয় প্রথম। সেই সময় নওবেলালের প্রকাশনা প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকে। ভাষা আন্দোলন সমর্থন করার জন্য শুধু নওবেলালই নয়, এর পক্ষে সংবাদ, ফিচার ইত্যাদি প্রকাশ করায় ’৪৮ সালের ১৩ মার্চ কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা স্বাধীনতা এবং কলকাতা থেকে আমদানিকৃত সব পত্রিকা সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

১৪ নবেম্বর ১৯৪৮ সালে ঢাকা থেকে অধ্যাপক আবুল কাসেম কর্তৃক ভাষা আন্দোলন ও তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সাপ্তাহিক মুখপত্র ‘সৈনিক’। পূর্ববাংলার স্বাধিকার আন্দোলন যখন একটি বিকাশমান অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তখন এই আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে আবির্ভাব হয় ‘সৈনিক।’ ‘সৈনিক’ পত্রিকা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপোসহীন সৈনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে এদেশে ভাষা আন্দোলন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনের বিপ্লবী মুখপত্রের মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়। অধ্যাপক আব্দুল গফুর দৈনিক সৈনিক পত্রিকা সম্পাদনা করে ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে স্বীকৃতিদানের দাবিতে ‘সৈনিক’ সর্বদাই সোচ্চার ও সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে।