স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তারকৃত রনি’র আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পুলিশী তৎপরতায় মোটিভ উন্মোচন


প্রকাশিত : February 15, 2018 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশ পুত্র দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লে¬খসহ ২৭ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত রনি বিচারিক হাকিম রাজীব রায়ের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপরদিকে সামিউজ্জামান অমি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিজ্ঞ আদালতে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রনি সরদার (১৯) শহরের কামালনগরের সেলিম সরদারের ছেলে। পুলিশ পুত্র সাকিব নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুলিশ হত্যার মোটিভসহ আসামী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে ঘাতকরা চিহ্নিত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরতলীর বকচরা বাইপাস সড়কে ভ্যানচালক রমজান আলীর বাড়ির পাশে এ হামলায় নিহত হয় নাজমুল হোসেন সাকিব (১৬)। সে পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ও পলাশপোল মেহেদীবাগে বসবাসরত কলারোয়া উপজেলার সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সিপাহী নজরুল ইসলামের ছেলে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহরের রসুলপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রাশেদ জানায়, সেসহ তার দু’সহপাঠী অমি ও সাকিব মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বকচরা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে ইছালে সওয়াব মাহফিল শুনতে যায়। কামালনগরের রনির প্রেমিকার সঙ্গে সাকিবের পুরানো প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মাদ্রাসা মাঠের সামনে একটি স্টলে কামালনগর কলোনীর রনি, আব্দুল কাদের ও শান্তর সঙ্গে তারা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হলেও স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাশেদ, সাকিব ও অমি বাড়ি ফেরার পথে বাইপাস সড়কের বাসিন্দা ভ্যানচলক রমজানের বাড়ির কাছে পৌঁছানো মাত্র পিছন দিক থেকে রনি, কাদের ও শান্তসহ কয়েকজন তাদের উপর গাছের ডাল দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু করে। হামলার একপর্যায়ে অমি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা গুরুতর জখম সাকিব ও রাশেদকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সাকিবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাফিজুল্ল¬াহ জানান, ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত লাগার ফলে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়ে সাকিবের মৃত্যু হয়েছে। তবে রাশেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (আইসিটি) মহিদুল হক জানান, বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাপসাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে সাকিবের লাশ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লে¬খসহ ২৭ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত রনি বিচারিক হাকিম রাজীব রায়ের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সামিউজ্জামান অমি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ১৬১ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
এদিকে, পুলিশ ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, শহরের কামাননগরের হাফিজুল ইসলাম (৬০), মেহেদি হাসান ফয়সল (১৫), যোবায়ের হোসেন (১৮), রনি (১৮), শাহিনুর (২৪) ও ইটাগাছার আবু হাসান (৩৮)।