রাজধানীতে ‘পুলিশের সোর্সকে’ গুলি করে হত্যা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ ||

 

রাজধানীর বাড্ডায় গুলি করে আবুল বাশার বাদশা (৩২) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ২ টার দিকে মেরুল বাড্ডার মাছ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাদশা ‘পুলিশের সোর্স’ ছিল বলে এলাকায় চাউর আছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক ব্যবসায়ী নুরু ওরফে নুরাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একজনকে আটকের বিষয় বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াজেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেরুল বাড্ডার মাছ বাজারে প্রকাশ্যে বাদশাকে গুলি করে এক ব্যক্তি। এরপর সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে। রামপুরা ব্রিজের কাছে তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বাদশা মেরুল বাড্ডার আনন্দনগর ১৭ নং রোডে মা-বাবা ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। সে শরীয়তপুরের ডামুড্ডার মোস্তফা ফকিরের ছেলে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ত্রী শিউলি আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে বাদশার লাশ শনাক্ত করেন।
শিউলি জানান, তারা বছরখানেক ধরে বাড্ডায় থাকেন। এর আগে টঙ্গিতে থাকতেন। সেখানে থাকার সময় বাদশা মাদক মামলায় একবছর জেল খাটে। সেখান থেকে বাড্ডায় আসার পর বাদশা মৌচাকের একটি শাড়ির দোকানে চাকরি নেয়। পাশাপাশি বাড্ডা থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ সে করতো।
শিউলি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তিনি জানান, কে বা কারা বাদশাকে খুন করেছে, তা তিনি নিশ্চিত নন। খবর পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। মা (শ্বাশুরি) বলেছেন, সকালে বাদশার বন্ধুরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
শিউলি জানান, জনতা ধাওয়া করে যাকে পুলিশে দিয়েছে, সেই নুরু ওরফে নুরাকে তিনি চেনেন। সে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বেশ কয়েকবার সে বাদশাকে মাদক ব্যবসা করতে অনুরোধ করে। কিন্তু এতে বাদশা রাজি হচ্ছিল না। সে কারণে নুরা বাদশাকে হত্যা করতে পারে।
তবে বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, বাদশা নামে তাদের থানায় কোনও সোর্স ছিল না। নুরার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। তবে সেগুলো কিসের মামলা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ নুরাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নুরা ওই যুবককে গুলি করেছে। নুরার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০-৪২টি মামলা রয়েছে। ওই যুবককে গুলি করে পালানোর সময় নুরাকে স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে গুলি কারো গায়ে লাগেনি। বাদশা নুরার সহযোগী হতে পারে। আর্থিক লেনদেন বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ইখতিয়ারসহ কয়েকজন জানান, নুরা মেরুল বাড্ডার মাছ বাজারে টয়লেটের পাশে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে বাদশাকে লক্ষ্য করে গুলি করার সময় এক শিশু তা দেখে চিৎকার করতে থাকে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে নুরাকে ধাওয়া করে। নুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে বাড্ডা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর আহত বাদশাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। সন্ধ্যায় ৬টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।