এবারও তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন কিছু নয়: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮ ||

 

বিএনপি আসুক বা না আসুক সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের সময়। কোনও দল নির্বাচন করবে কিনা, এটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু নির্বাচন সময়মতো হবেই। জনগণও ভোট দেবে। ২০১৪ সালে এত তাণ্ডব করেও যখন বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও তারা ঠেকাতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতালি সফর নিয়ে সোমবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচন না করে, তাহলে কারও কিছু করার নেই। গতবারও তারা নির্বাচন করেনি। আমরা জানতাম, তারা নির্বাচনে আসবে। কিন্তু তারা নির্বাচনে আসেনি। এবারও যদি কোনও দল না আসে, সেখানে আমাদের কী করার আছে?’

বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের একটি ধারার পরিবর্তন করে বিদেশে অবস্থানরত দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে দুর্নীতি নিয়ে একটি পারসেপশন আছে। ব্যক্তি বিশেষের দুর্নীতির ক্ষেত্রে কিছু বলা হয় না, করাও হয় না। এখানে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে আদালত রায় দিয়েছেন, আমাদের কিছু করার নেই।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন যাকে করা হলো, তিনি আবার ফেরারি আসামি। দেশেও নেই।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘দেশে কি বিএনপি’র এমন কোনও নেতা নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেতো?’ তিনি বলেন, ‘যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আর রাজনীতি করবেন না বলেই মুচলেকা দিয়ে নিজের দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তাদের প্রিয়পাত্র ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দিন ও মইনুদ্দিনের দেওয়া দুর্নীতির মামলায় মামলায় তার শাস্তি হলো। আমেরিকার এফবিআই’র তদন্তেও তার দুর্নীতি ধরা পড়েছিল। এফবিআই’র লোক এ দেশে এসে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। এরপর তার ৭ বছরের সাজা ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। তাকেই করতে হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান?’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেলে এজন্য শাস্তি আদালতও দেন, আল্লাহর তরফ থেকেও হয়। কারণ, পবিত্র কোরআনেই আছে, এতিমের টাকা মেরে খাওয়া যায় না। কাজেই আমাদের কিচ্ছু করার নেই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্প্রতি ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি সফরকে সফল ও ফলপ্রসূ দাবি করে তিনি বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় ইতালি ও ভ্যাটিকানে আমার এ সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে বলপ্রয়োগে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। পোপের সঙ্গে বৈঠকে আমি বলেছি, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যটন স্পট কক্সবাজারের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই তাদের ভাসানচরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কাজ সম্পন্ন করার জন্য সহায়তার কথাও বলেছি।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে এটা চলে আসছে। কখনও সামনে চলে আসে, কখনও আসে না। প্রযুক্তি যেমন সুযোগ তৈরি করে দেয়, আবার সমস্যাও তৈরি করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষার আগের দিন তো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না। প্রশ্ন ফাঁস হয় পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে। কার এমন ‘ফটোজেনিক মেমোরি’ আছে, যে প্রশ্ন দেখে ২০ মিনিটে সবকিছু মুখস্থ করে লিখে ফেলে?’’

প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র ফাঁস বলে একটি সুর তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাই বলে মন্ত্রী, সচিবকে চলে যেতে হবে? তারা তো এটা ফাঁস করে চলে আসেননি।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দেন, তাদের শাস্তি দেবো। পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (এমসিকিউ) বন্ধ করে দেবো। আপনারা লেখুন, আমরা বন্ধ করে দেবো। কিন্তু এটা নিয়ে সুর তুলে একবার মন্ত্রী, সচিব আবার সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। দয়া করে একটু খুঁজে দিন, কে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলো, তাকে শাস্তি দেবো আমরা।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ৩২ ধারা গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ করা হবে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম একটি বিরাট সমস্যা। সারা বিশ্বে এ সমস্যা আছে। আপনাদের এত ভয় কেন? কেউ যদি এমন অপরাধ করেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হবে। ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কেউ অপকর্ম না করলে সেখানে অপপ্রয়োগ কেন হবে? প্রযুক্তি যেমন সুযোগ করে দেয়, মাঝেমধ্যে দুঃসহ যন্ত্রণাও দেয়।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমুখ।