প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব দাবি তুলবেন রাজশাহীবাসী


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ ||

 

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিনের এই সফরে ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং চারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এ দিন বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার সফরকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে রাজশাহীতে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৯টি উন্নয়ন ভাবনা, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮টি এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চেম্বার নেতারা ১১টি দাবি তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজশাহী। নগর ছাড়াও সাজসজ্জার কমতি নেই উপজেলা পর্যায়েও। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে রাজশাহী ছেয়ে গেছে রঙিন পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার আর রাস্তার ওপর বিশাল বিশাল তোরণে। প্রচার চলছে মাইকেও। সভা, সমাবেশ, প্রতিনিধি সভা ও গণসংযোগ করেও প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সব মিলিয়ে এখন রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ দফা দাবি পেশ করবো, যা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে। মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে এ অঞ্চল রক্ষা পাবে।’

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলে তিন হাজার ভারী, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে গ্যাস সংযোগ, যমুনায় রেল সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও শিল্প কলকারখানা স্থাপনে ঋণ সুবিধাসহ ১১ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে।’

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠবে তা আগামী নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতারা।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুটি স্কুল সরকারি করা ছাড়াও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রস্তাবিত চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাসহ ৯টি উন্নয়ন ভাবনা রাজশাহী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। আমরা আশা করছি রাজশাহীবাসীর এসব প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেবেন।’

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এই জনসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। এ জনসভার মাধ্যমেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা সম্পন্ন করছি। এ জনসভায় পাঁচ লাখের অধিক জনসমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। যে যার অবস্থান থেকে এখানে যোগ দেবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের উপকারভোগী সব পর্যায়ের মানুষও এ জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার জন্য।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়াও আশাপাশের এলাকায়ও জনসভায় আগতদের অবস্থান করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসভা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই জনসাধারণের মধ্যেও। জনসভার গণসংযোগ করতে গিয়েই এটা বোঝা গেছে।’
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাজশাহী

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘জনসভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনসভায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী ও নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভা অভিমুখী গাড়িসমূহ সিটি বাইপাস হয়ে নগরীর তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় পার্কিং হবে। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভায় আগত গাড়িগুলো ঢাকা বাস টার্মিনাল হয়ে সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্টিকারযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ গাড়িগুলো জনসভা সংলগ্ন মাঠে (উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার মাঠ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠ) পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভেন্যুতে যাওয়ার আধঘণ্টা আগে থেকে চলাচলের রুটটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহ যানজটমুক্ত রাখার পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি না ঘটে। সেদিকে পুলিশ প্রশাসন থেকে নজর রাখা হচ্ছে।’