কেশবপুরে জমি জালিয়াতির অভিযোগে মশিয়ার জেল হাজতে


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ ||

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে জমি জাল-জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা ওয়াকফ মশিয়ার পুলিশের হাতে আটক হলেও এই চক্রের বাকী সদস্যরা এখনো পর্যন্ত  পুলিশের ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা এই চক্রের বাকী সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের মধ্যকুল গ্রামের রজব আলী খাঁনের ছেলে সম্প্রতি পুলিশের হাতে আটক জমি জাল-জালিয়াতি চক্রের মুল হোতা হিসেবে পরিচিত মশিয়ার রহমান ওরফে ওয়াকফ মশিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জাল সিল-সাক্ষর তৈরি করে অন্যের ব্যক্তি মালিকানা জমি অবৈধভাবে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের নামে জালিয়াতির আশ্রায় নিয়ে সেই সম্পত্তি  এলাকার নিরীহ মানুষকে ম্যানেজ করে তাদের নামে বেআইনিভাবে এসএ এবং আরএস রেকর্ড-নামপত্তন করে  অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন। ওয়াকফ মশিয়ারের এই জাল-জালিয়াতির কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগী হিসেবে কেশবপুরে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে। বাকী সদস্যরা হলো, ওয়াকফ মশিয়ারের ভাই আসলাম, খতিয়াখালি গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ, বায়সা গ্রামের আব্দুল জলিল ও দুর্নীতির দায়ে আব্দুর রাজ্জাক নামে বহিস্কৃত এক কলেজ শিক্ষক। জেল হাজতে আটক মশিয়ারসহ এই চক্রটি বিগত ২০০৭/৮ সালে আলোচিত কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা সুলতানর হাতে ১৫২ জাল সিলের হোতা হিসেবে আটক হয়েছিল। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ভুমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। ওয়াকফ মশিয়ারের প্রতারণার শিকার কেশবপুর পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর মধ্যকুল গ্রামের মৃত ওয়াদুদ খাঁর ছেলে আয়ুব খাঁন বাদী হয়ে গত ২৫-০৫-২০১৭ সালে যশোর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে জমি জাল-জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। যার পি মামলা নং-১৫২/১৭। এদিকে জাল জালিয়াতির হোতা ওয়াকফ মশিয়ারের বিরুদ্ধে  আয়ুব খানের দায়ের করা মামলাটির সঠিক তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালত গত ০৭-০৬-১৭ যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেন। গত ৯-৭-১৭ তারিখ পিবিআই মামলাটির সঠিক তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মশিয়ারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সত্যতা পায়। পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালাত আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। গত ১২-০২-১৮ তারিখ মশিয়ার আদালাতে হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গত ২০-০২-১৮ তারিখ পুনরায় আদালতে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালাত আবারো মশিয়ারের জামিন নামঞ্জুর করে দেন। জমি জাল-জালিয়াতি বন্ধে চক্রের মুল হোতার সাথে সাথে বাকী সদস্যদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।