মশার বিরুদ্ধে ডোবায় নামলেন এমপি জগলুল হায়দার

এবার মশার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন সাতক্ষীরা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। শীতের শেষে বসন্তের শুরুতে চারিদিকে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। পঁচা আবর্জনা এবং ময়লাযুক্ত স্থান মশার নিরাপদ আবাসস্থল। তাই আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের নাগবাটি গ্রামে কচুকরীপানাযুক্ত ডোবা পরিস্কার করতে শ্রমিকদের সাথে কোমর বেঁধে ডোবায় নামেন এমপি জগলুল হায়দার। নিজে কচুরিপানা পরিস্কার করে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা – ৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। কাজের মাঝে বিরতিতে শ্রমিকদের সাথে মাটিতে বসে কাঁচা মরিচ, পিঁয়াজ ও কলা দিয়ে পান্তা ভাত খান এমপি জগলুল।
এরআগে তিনি সাদা লুঙ্গি আর সাদা গেঞ্জি গায়ে মালকোচা মেরে কোমরে গামছা পেচিয়ে মাথায় আলটা লাগিয়ে মাটির ঝুড়ি মাথায় নিয়ে বাঁধ বেঁধেছেন। কখনো তিনি মাটি কাটা শ্রমিকদের সাথে বসে পান্তা খেয়ে কাজ করেছেন। কখনো রাস্তার তৃষ্ণার্ত ভ্যান চালককে ডাবের পানি পান করিয়ে পিপাসা নিবারণ করান। আবার পথের ধারে ক্ষুধার্ত অসহায় শিশুর মুখে নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন অন্ন। নিজেই বাজার করে অসহায় ভিক্ষুকের বাড়ি গিয়ে গ্রহণ করেছেন আতিথিয়তা। পবিত্র রমজান মাসে কোনো না কোনো অসহায় মানুষের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। আবার মহান জাতীয় সংসদেও তিনি তুলে ধরেন সাতক্ষীরার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা। এলাকায় ফিরে এসে মিশে যান সাধারণ মানুষের সাথে। মঞ্চে মঞ্চে শোনান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি আদর্শ আর স্বপ্নের কথা। জাতির জনক তনয়া শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন ও আগামীর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত ছন্দ ভাষণ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরাসহ গোটা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে গেছেন। সর্বশেষ তিনি ধরলেন লাঙ্গলের তাড়া। একজোড়া হালের গরু আর লাঙ্গল নিয়ে তিনি জমি চাষ করে কৃষকদের শুধু উৎসাহিতই করেননি, কৃষকদের মাঝে জ্বালিয়ে দিয়েছেন প্রত্যাশার আলো।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার বেশ কিছু মানবিক কাজ করে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম জগলুল হায়দার।
সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী হাসান মাহমুদ চৌধুরী সহ অনেনেই তার জনসেবামূলক কাজের অনুকরণ করছেন। সাতক্ষীরার অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও এসএম জগলুল হায়দারের কর্মে উদ্দীপ্ত হয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন তার স্বপ্নের কথা। বলেছেন শৈশবের কথা। এসএম জগলুল হায়দার বলেন, ১৯৬২ সালের ৫ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষা জীবনের শুরু শ্যামনগর সদরের হায়বাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দাদা কাশিমাড়ি ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এবং নানা ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দাদা তৎকালীন বৃহত্তর খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নানা শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী গের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে তার রক্তে রাজনীতি এবং মানব সেবার গুণ মিশে আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাড়ির নিকটস্থ নকিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। নকিপুর হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পিতার (অবসর প্রাপ্ত সিভিল সার্জন) কর্মস্থলসূত্রে কালিগঞ্জের মোজাহার মেমোরিয়াল বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত। পরবর্তীতে নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করে কেশবপুর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও কালীগঞ্জে ফিরে এসে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই এইচএসসি ও স্নাতক পাঠ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি আরো বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতির জনকের আদর্শ অনুকরণ করতেন। গরীব অসহায় সহপাঠীদের কখনো কষ্ট বুঝতে দিতেন না। নিজের জামা কাপড় বইখাতা ও বোডিং খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে সহপাঠীদের লেখাপড়ার জন্য বিলিয়ে দিতেন।
শিশু বয়স থেকে প্রত্যেকেরই চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা শিক্ষক হওয়ার মত লক্ষ্য থাকলেও জগলুল হায়দার ছিলেন তার ব্যতিক্রম। তিনি ছোটকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একজন আদর্শ রাজনীতিক হিসেবে গড়ে ওঠার। প্রতিবাদী ভূমিকা দিয়ে অসহায় আর দুর্বল ও শোষিত মানুষের সেবা করার। সে কারণে সেই অল্প বয়স থেকেই এলাকায় তার প্রধান পরিচিতি একজন প্রতিবাদী চরিত্র।
এমপি এসএম জগলুল হায়দার বলেন, এসএসসি পাশের পর উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথমভাগেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা জগলুল হায়দারের প্রিয় ব্যক্তিত্ত্ব তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডাঃ আব্দুল জলিল। খেলাধুলার প্রতি তেমন কোন মোহ না থাকলেও শিশুকাল থেকেই নাট্যচর্চা করতেন তিনি। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের অমুল্য সম্পদ যে তার দ্ব-রাজ গলার বক্তব্য- এ কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন জগলুল হায়দার। কবিতা লেখা ও আবৃত্তি করা তার অন্যতম নেশা।
নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় প্রতি বৃহস্পতিবারের বিতর্কে তার অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। এছাড়া সম-সাময়িক জাতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য অনুসরণ করতেন উল্লেখ করে বাগ্মী এ জনপ্রতিনিধির কথায় স্পষ্ট হয় আমজনতার দৃষ্টি আকর্ষণের প্রথম ধাপ ‘বক্তব্য’ এবং দ্বিতীয় ‘পর্যায়’ স্বীয় কার্যক্রম। বিষয়টি অনুধাবন করেই রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বক্তব্যের বিষয়ে বেশ যত্নবান হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন তিনি। নিজ জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ সময় হিসেবে ২০০১ সাল পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট’র শাসনামলকে উল্লেখ করেন তিনি। এসময় ডজন ডজন মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি পলায়নপর জীবনযাপন করেন। পরবর্তীতে সেনা শাসিত তথাকথিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের দুই বছরও তার জন্য সমান দুর্বিসহ ছিল বলেও জানান। যখন রাতে দিনে কখনও তিনি বাড়িতে থাকতে পারতেন না। ভক্ত-শুভাকাংখীরা দল বেঁধে তার অবর্তমানে বাড়ি পাহারা দিত।
১৯৯৮ সালে পুলিশ কর্তৃক নকিপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসময় জনৈক রবীন স্বর্ণকারকে অন্যায়ভাবে আটকে তার উপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ঐ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এসময় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের তিনি নেতৃত্ব দেন। এক পর্যায়ে তার নেতৃত্বে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আরও ৩৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক মামলা করে। তবে ন্যায়ের পথে শুরু হওয়া আন্দোলন সফলতার মুখ দেখায় তিনি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মনিকোঠায় জায়গা করে নেন।
প্রায় অভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি ১৯৯৯ সালে। বর্তমান বিজিবি তদানীন্তন বিডিআর সদস্যরা নকিপুর বাজারে অভিযান চালায়। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে উক্ত অভিযানের বিরোধীতা করেন এবং এক পর্যায়ে বিডিআর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঐ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন।
এদিকে তার মুক্তির দাবিতে গোটা শ্যামনগরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তার মুক্তি না মেলার প্রতিবাদে ঐসময় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি পানের দোকান পর্যন্ত বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। এক পর্যায়ে প্রশাসন জনতার ভাষা বুঝতে পেরে তার মুক্তির ব্যবস্থা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আর জগলুল হায়দার গোটা শ্যামনগর এর অসহায়, নির্যাতিত ও বঞ্চিত সাধারণ মানুষের নেতা হয়ে ওঠেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু হলে এক সময় ডাকসাইটে এ নেতাকে এরশাদ সরকার নানা কৌশলে নিজ দলে টানেন। তবে ১৯৯৯ সালে তিনি আবারও আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগও যোগ্য উত্তরসুরী পেয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পালে যেন হাওয়া লাগে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ ভাগের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সে সময় তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল জলিল চাকুরীসুত্রে চট্রগ্রাম কালুরঘাট এলাকার লেবার হাসপাতালে (মেডিকেল অফিসার হিসেবে) কর্মরত। একদিন রাতে উক্ত হাসপাতাল এলাকায় পাক বাহিনী হামলা করে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায় এবং পাক বাহিনীর গোলার আঘাতে সেখানে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। ঐ ঘটনার পর থেকে পিতার সাথে বাড়িতে অবস্থানকারী পরিবারের সব সদস্যের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। টানা একুশ দিন পর্যন্ত তারা তাদের পিতার কোন হদিস মেলাতে পারেনি। এক পর্যায়ে ২১ দিন ধরে পায়ে হেটে তিনি বাড়িতে ফিরলে লোমহর্ষকময় তিন সপ্তাহের টানটান উত্তেজনা আর অজানা আতংকের অবসান ঘটে। ওই সময়কার স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে সেই সময়ের নয় বছর বয়সী জগলুল হায়দারকে।
টানা দুই মেয়াদে ১৪ বছর শ্যামনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী বর্তমান সাংসদ জগলুল হায়দার তার নির্বাচনী এলাকা (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ আংশিক)’র উন্নয়নকেই আপাতত স্বপ্ন মানছেন। সমঅধিকারের ভিত্তিতে উভয় অংশের ভাঙা-চোরা রাস্তা-ঘাট সংস্কার, নুতন নুতন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো, প্রত্যন্ত জনপদেও বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দেয়া এবং শিক্ষা প্রসারের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও জানান। এছাড়া বনদস্যুদের উপদ্রব কমানো, ক্রিড়া এবং সংস্কৃতি চর্চার বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন।
এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্বপালনকালে সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সুন্দরবনকে ঘিরে বৃহৎ আকারের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং পরকিল্পনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলবেন।
পরিবারের মেজ ছেলে হিসেবে শিশু বয়স থেকেই মেজ ভাই নামেই তিনি এলাকায় পরিচিত। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তিনি ওই মেজ ভাই সম্বোধন ডাক শুনতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এলাকার সাধারণ মানুষের কারও স্যার সম্বোধন তার অস্বস্তিতে ফেলে।
খুলনা বেতার’র গীতিকার হিসেবে সনদপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্থানীয় সমস্যাবলী চিহ্নিত করে আইনসভায় তা উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। আর মা, মাটি ও মানুষের কথা গানের পংক্তিতে সংযুক্ত করার মাধ্যমে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চির জাগুরুক রাখার কৌশলের অংশ এবং কৈশরের সংস্কৃতি চর্চার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে না পারায় সময় পেলে কিছু কিছু গান লেখার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে বর্তমানে সাতক্ষীরারই তিন কৃতি সন্তান দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এই অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাপক সম্ভবনাময় শ্যামনগরের ক্রিকেট ধীরে ধীরে অস্তিত্ত্ব হারাচ্ছে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাও অতীতের ন্যায় শুধু ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। তাই স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শ্যামনগরের ক্রিকেটকে পৌছে দিতে চান।
অগ্রাধীকার ভিত্তিতে স্থানীয় সমস্যাবলী চিহ্নিত করে শ্যামনগরের ক্রিকেটকে একটা কাঠামোর মধ্যে আনতে চান। স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য দক্ষ সংগঠক ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের নিয়ে অবিলম্বে মতবিনিময় করে দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিপূর্বেকার সাংসদরা অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করতো। অনেকে আবার কালে ভাদ্রে বছরে এক-আধবার এলাকায় ফিরতো। কিন্তু জগলুল হায়দার গুরুত্বপুর্ণ অধিবেশনের সময়ে শুধু রাজধানীতে অবস্থান করে।
মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র তার রাজীনিতিতে আগমন ও উত্থান তিনি সেই সব মানুষের পাশে থেকেই তাদের সুবিধা-অসুবিধা, সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে থাকতে চান। যে কারণে অধিবেশনের বাইরের সময় সময়টা এলাকাবাসীর সাথে ভাগাভাগি করার চেষ্টা করে থাকেন। এতে করে স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে তিনি প্রতিনিয়ত অবগত হওয়ার পাশাপাশি তা সমাধানের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণের সার্বিক সহযোগীতা পেলে নানা সমস্যায় আক্রান্ত উপকুলীয় এই অঞ্চলকে একটি আদর্শ জনপদে রুপান্তরের চেষ্টা চালাবেন।